ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রামিসার ঘটনার আগেই নিখোঁজ হয় তার প্রতিবেশী ইব্রাহিম, খেলতে গিয়ে গায়েব আরেক শিশু আলী


রামিসার ঘটনার আগেই নিখোঁজ হয় তার প্রতিবেশী ইব্রাহিম, খেলতে গিয়ে গায়েব আরেক শিশু আলী

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী ও দারুসসালাম থানাধীন এলাকায় ৫ ও ৯ বছরের দুই শিশু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পল্লবীর শিশু রামিসার মর্মান্তিক ঘটনার দিন ছয় দিন আগে রামিসাদের বাসার ৩ গলি পিছনের একটি বাসা থেকে ৫ বছরের ইব্রাহিম গায়েব হয়ে যায়। তার ঠিক ৪ দিন আগে খেলতে বের হয়ে ৯ বছরের আলী হোসেন বাসায় ফেরেনি। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও ইব্রাহিম বাসার সামনে খেলছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইব্রাহিম মে মাসের ১৩ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বাসভবনের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বেশ কয়েক মিনিট পরে ভেতরে প্রবেশ করা ঐ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পেছন পেছন তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের পরে আর কোনো সন্ধান মেলেনি। এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া তার সর্বশেষ ভিডিও। এরপর যেন ইব্রাহিম হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। শুধুমাত্র রয়ে গেছে তার ছোট্ট দুপায়ের একজোড়া স্যান্ডেল, যা পরে বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরেছিল। ইব্রাহিমের এক ভাই ও এক বোন আছে। এর মধ্যে ইব্রাহিমই সবার ছোট। বাবা-মা আদর করে তাকে 'রাজা' বলে ডাকতেন। হঠাৎ এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, কোথায় গেলো শিশুটি? যে ঘর একসময় বাবা-মায়ের আদরের রাজার মায়াভরা দুষ্টুমিতে মাতোয়ারা থাকতো, সে রাজাহীন রাজ্য এখন শুধুই স্মৃতি। ইব্রাহিমের বাবা-মা জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যে সিসিটিভি ফুটেজে ইব্রাহিমকে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে, তা পাশের একটি ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ, যা তারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঘটনার ৪ দিন পরে হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু শিশু রামিসার মুক্তমত হত্যাকাণ্ডের কারণে অনেকাংশে চাপা পড়ে যায় ইব্রাহিম নিখোঁজের ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে আরো কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায় বলে তারা জানান। প্রথমে জিডি করলেও ঘটনার ২০ দিনের মাথায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এবং ডিবি পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, শিশু ইব্রাহীম নিখোঁজের ৪ দিন আগে নিখোঁজ হয় মিরপুর দারুস সালাম থানাধীন বাগবাড়ী চারআনিপাড়ার শহীদুল হকের শিশু সন্তান মো. আলী হোসেন। তার হতভাগ্য বাবা বলেন, মে মাসের ৯ তারিখ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে খেলতে বের হয়েছিলো আলী। তার এক আত্মীয়ের ছেলের সঙ্গে মিরপুর বেড়ীবাঁধের পাশে খেলতে গিয়ে সন্ধ্যায় এলাকা ফেরলেও আলী বাসায় ফিরেনি। এলাকার পরিচিত এক মহিলা রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ আলীকে দেখেছিলো একটি মাদ্রাসার পাশে। ওই মাদ্রাসারই দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছিল আলী। পরের দিন দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আলীর বাবা শহিদুল ইসলাম, যে নিখোঁজের ৩১তম দিন পর্যন্ত ঢাকার প্রায় সব জায়গায় কলিজার টুকরোকে পাগলের মতো খোঁজার কথা জানান। দিনকয়েক আগে অপরিচিত এক নাম্বার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল করে অস্বাভাবিক কথা বলেছেন বলেও জানান শহিদুল ইসলাম। দারুস সালাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, সব বিষয় মাথায় রেখেই রহস্য উৎঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবার জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে অপহরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় অপহৃতদের উদ্ধার এবং খুব অল্প সময়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার তাদের এখনো এ আশায় বাঁচিয়ে রেখেছে যে, তারা হারানো মানিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরবে তাদের শূন্য বুকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


সিরাজগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি

জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আজ ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনটি একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভাতের হোটেল, মিষ্টির দোকান, সেলুন, ইলেকট্রনিকস, মনোহারী এবং আসবাবপত্রের দোকানসহ মোট সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন, মাটির আসবাবপত্র ব্যবসায়ী লাল মোহন, সেলুন মালিক রতন দাস, মনোহারী দোকানদার রেজাউল করিম, মিষ্টি ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া, ভাতের হোটেল মালিক লাল মিয়া, ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন এবং মিষ্টি ব্যবসায়ী শাহজাহান।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে, ততক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর সবকিছু আগুনে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ভাতের হোটেল ও মিষ্টির দোকানের মালিক লাল মিয়া বলেন, "আমাদের দুটি দোকান ছিল। প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফ্যান, চাল, মিষ্টিসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমরা সরকারি সহযোগিতা চাই। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।"

ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন জানিয়েছেন, তার দোকানে কয়েক লাখ টাকার বৈদ্যুতিক পণ্য ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

মনোহারী ও বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, 'বিকাশের টাকা, কার্ড ও দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। আমার প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি দোকানে ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।'

সেলুন ও আসবাবপত্র ব্যবসায়ী লাল মোহন জানান, 'আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।'

এই বিষয়ে কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন বলেন, "খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে যেতে চাই: পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে যেতে চাই: পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশন সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এই সময় নতুন উপাচার্য সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, ‘শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই।’

বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে এসব কথা বলেন।

ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ‘আমি এই অঞ্চলেরই সন্তান। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন, আমি তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

এর আগে ক্যাম্পাসে পৌঁছান নবনিযুক্ত উপাচার্য। তার সঙ্গে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন আর রশিদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান।

পরে উপাচার্য ড. এস এম হেমায়েত জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানের ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান হবে এবং শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন গতি ফিরে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


বিশ্বকাপে কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে হারায় ইরান। পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ঘাটিসমূহে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ইরান। এই সংঘাত তখন থেকে চলমান রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের হাতে থাকা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিস্ফোরক নৌকা, সমুদ্র মাইন।

একই সঙ্গে, দুই দেশ পরোক্ষ আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে। এই সংঘাতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাতের তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও কে এগিয়ে রয়েছে তা স্পষ্টভাবে বলা কঠিন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয়েই ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এমন অচলাবস্থার মধ্যেই ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর। রাজনৈতিক সংঘাত সত্ত্বেও ইরান সরকার তাদের ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে পাঠিয়েছে। প্রধান ক্যাম্প হিসেবে ইরান মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরকে বেছে নিলেও, গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচের ভেন্যু আমেরিকা। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ হবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং বাকি ম্যাচটির ভেন্যু হবে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য।

ফুটবলপ্রেমী এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, এই দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী কি এবারের বিশ্বকাপে কোনো পর্যায়ে মুখোমুখি হবে? আলাদা আলাদা গ্রুপে থাকা সত্ত্বেও আসরের নকআউট পর্বে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেকেই এই সম্ভাব্য ম্যাচটিকে 'মাদার অব অল ম্যাচ' বলে আখ্যায়িত করছেন।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। তবে চলমান যুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য ম্যাচটি ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্রয়ে, দুই দলকে আলাদা গ্রুপে রাখা হয়েছে। ইরান পড়েছে গ্রুপ ‘জি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে গ্রুপ ‘ডি’-তে, যেখানে তাদের সঙ্গে আছে অস্ট্রিয়া, প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক।

এজন্য গ্রুপপর্বে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের দেখা হতে পারে শুধুমাত্র নকআউট পর্বে। সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হলো রাউন্ড অব ৩২। তবে এর জন্য উভয় দলকেই নিজেদের গ্রুপে রানার্স-আপ হতে হবে।

ফিফার নকআউট ব্র্যাকেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ ডি-তে দ্বিতীয় হয় এবং ইরান গ্রুপ জি-তে দ্বিতীয় হয়, তাহলে টেক্সাসের আর্লিংটনে রাউন্ড অব ৩২ পর্বে তারা একে অপরের মুখোমুখি হবে।

অন্য একটি সম্ভাবনা হলো রাউন্ড অব ১৬-এ দুই দলের সাক্ষাৎ। এই ক্ষেত্রে সমীকরণ তুলনামূলক সহজ; দুই দলকেই নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। এরপর রাউন্ড অব ৩২-তে নিজেদের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পরবর্তী পর্বে যেতে হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ ডি-এর শীর্ষে থাকে, তাহলে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ ৮১-তে তারা গ্রুপ বি, ই, এফ, আই অথবা জে-এর কোনো তৃতীয়-স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে।

আর অন্যদিকে, ইরান যদি গ্রুপ জি-এর শীর্ষে থাকে, তাহলে ম্যাচ ৮২-তে তারা গ্রুপ এ, ই, এইচ, আই অথবা জে-এর কোনো তৃতীয়-স্থানধারী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। দুই দলই যদি নিজেদের ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে রাউন্ড অব ১৬-এ বহু প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান দ্বৈরথের মঞ্চ তৈরি হতে পারে।

যদিও গাণিতিক সম্ভাবনা বলছে কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দেখা হতে পারে, তবে এটি রাউন্ড অব ৩২ বা রাউন্ড অব ১৬-এর তুলনায় অনেক বেশি জটিল একটি সমীকরণ। এই ক্ষেত্রে দুই দলের অন্তত একটিকে রানার্স আপ এবং অপরটিকে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে আসতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রুপ ডি-তে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে হবে, আর ইরানকে সেরা তৃতীয়-স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে উঠে একই ব্র্যাকেটে আসতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।

এরপর দুই দলকেই রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ জিততে হবে। তাহলেই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, উল্টো পরিস্থিতি সম্ভব। সেক্ষেত্রে ইরানকে গ্রুপ জি-তে দ্বিতীয় হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সেরা তৃতীয়-স্থানধারী দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠতে হবে। এরপর উভয় দল নিজেদের প্রথম দুই নকআউট ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের দেখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান অতীত লড়াই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় ইরান ২-১ গোলে জয় পায়। ২০০০ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলে জিতে গ্রুপপর্ব থেকে ইরানকে বিদায় করে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ম্যাচটি ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ১৯৭৯ সালের ইরান হস্টেজ ক্রাইসিসের দুই দশকেরও কম সময় পরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে, ম্যাচটিকে অনেক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষক ‘মাদার অব অল গেমস’ নামে অভিহিত করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ইরানের খেলোয়াড়রা ম্যাচের আগে মার্কিন খেলোয়াড়দের হাতে সাদা ফুল তুলে দিয়েছিলেন, যা ছিল শান্তি এবং সৌহার্দ্যের একটি প্রতীক।

এই অনন্য ক্রীড়াসুলভ আচরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দলই ফিফার ফেয়ার প্লে পুরস্কার লাভ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সেই ম্যাচটি খেলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। ২০২৬ সালে কী অপেক্ষা করছে? ২০২৬ বিশ্বকাপে দুই দলেরই নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। ফলে বহু প্রতীক্ষিত আরেকটি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান দ্বৈরথের সম্ভাবনাও উড়ানো যাচ্ছে না।

এশিয়া থেকে ইরান নিয়মিতই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারে না। এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাটের কারণে সেই সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র তাদের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ নিয়ে এবার অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

গ্রুপপর্ব শুরু হলে দুই দলের প্রকৃত শক্তি ও ফর্ম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তখনই বোঝা যাবে রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬ কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালে বহুল আলোচিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ম্যাচ সত্যিই বাস্তবে রূপ নেয় কি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


১ জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন বাধ্যতামূলক

আগামী ১ জুলাই তারিখ থেকে সারা দেশে বাংলা কিউআর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে।

এরই প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে জড়ো হয়েছেন তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটরের প্রধান নির্বাহীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহক, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুবিধা তৈরি হবে। এটি আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে গ্রাহকদের সহায়ক হতে সাহায্য করবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, ক্যাশলেস সমাজের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%