০২:৫৯ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী ও দারুসসালাম থানাধীন এলাকায় ৫ ও ৯ বছরের দুই শিশু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পল্লবীর শিশু রামিসার মর্মান্তিক ঘটনার দিন ছয় দিন আগে রামিসাদের বাসার ৩ গলি পিছনের একটি বাসা থেকে ৫ বছরের ইব্রাহিম গায়েব হয়ে যায়। তার ঠিক ৪ দিন আগে খেলতে বের হয়ে ৯ বছরের আলী হোসেন বাসায় ফেরেনি। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও ইব্রাহিম বাসার সামনে খেলছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইব্রাহিম মে মাসের ১৩ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বাসভবনের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বেশ কয়েক মিনিট পরে ভেতরে প্রবেশ করা ঐ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পেছন পেছন তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের পরে আর কোনো সন্ধান মেলেনি। এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া তার সর্বশেষ ভিডিও। এরপর যেন ইব্রাহিম হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। শুধুমাত্র রয়ে গেছে তার ছোট্ট দুপায়ের একজোড়া স্যান্ডেল, যা পরে বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরেছিল। ইব্রাহিমের এক ভাই ও এক বোন আছে। এর মধ্যে ইব্রাহিমই সবার ছোট। বাবা-মা আদর করে তাকে 'রাজা' বলে ডাকতেন। হঠাৎ এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, কোথায় গেলো শিশুটি? যে ঘর একসময় বাবা-মায়ের আদরের রাজার মায়াভরা দুষ্টুমিতে মাতোয়ারা থাকতো, সে রাজাহীন রাজ্য এখন শুধুই স্মৃতি। ইব্রাহিমের বাবা-মা জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যে সিসিটিভি ফুটেজে ইব্রাহিমকে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে, তা পাশের একটি ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ, যা তারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঘটনার ৪ দিন পরে হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু শিশু রামিসার মুক্তমত হত্যাকাণ্ডের কারণে অনেকাংশে চাপা পড়ে যায় ইব্রাহিম নিখোঁজের ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে আরো কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায় বলে তারা জানান। প্রথমে জিডি করলেও ঘটনার ২০ দিনের মাথায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এবং ডিবি পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, শিশু ইব্রাহীম নিখোঁজের ৪ দিন আগে নিখোঁজ হয় মিরপুর দারুস সালাম থানাধীন বাগবাড়ী চারআনিপাড়ার শহীদুল হকের শিশু সন্তান মো. আলী হোসেন। তার হতভাগ্য বাবা বলেন, মে মাসের ৯ তারিখ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে খেলতে বের হয়েছিলো আলী। তার এক আত্মীয়ের ছেলের সঙ্গে মিরপুর বেড়ীবাঁধের পাশে খেলতে গিয়ে সন্ধ্যায় এলাকা ফেরলেও আলী বাসায় ফিরেনি। এলাকার পরিচিত এক মহিলা রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ আলীকে দেখেছিলো একটি মাদ্রাসার পাশে। ওই মাদ্রাসারই দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছিল আলী। পরের দিন দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আলীর বাবা শহিদুল ইসলাম, যে নিখোঁজের ৩১তম দিন পর্যন্ত ঢাকার প্রায় সব জায়গায় কলিজার টুকরোকে পাগলের মতো খোঁজার কথা জানান। দিনকয়েক আগে অপরিচিত এক নাম্বার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল করে অস্বাভাবিক কথা বলেছেন বলেও জানান শহিদুল ইসলাম। দারুস সালাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, সব বিষয় মাথায় রেখেই রহস্য উৎঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবার জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে অপহরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় অপহৃতদের উদ্ধার এবং খুব অল্প সময়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার তাদের এখনো এ আশায় বাঁচিয়ে রেখেছে যে, তারা হারানো মানিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরবে তাদের শূন্য বুকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন