০৮:৩৮ এম
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পরেও কেউ একেবারেই কল্পনা করেনি যে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে ইরান। মাঠে লড়াই শুরুর আগেই যুদ্ধ, কূটনৈতিক সংকট, ভিসা জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ঘেরা হয়ে পড়েছে ইরানের ‘টিম মেল্লি’।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে। সামরিক সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
সবচেয়ে বড় বাধা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা দেওয়া হলেও, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা পাননি।
আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে
ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। তেহরানে অভিযোগ উঠেছে, খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে ওয়াশিংটন।
শুধু তা-ই নয়, ভিসার শর্ত অনুযায়ী ইরান দলের মাঠে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং ম্যাচ শেষে একই দিনেই দেশ ছাড়তে হবে। এর ফলে, দলটি পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ক্যাম্প বাতিল করে ফিফার অনুমোদনে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নতুন ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর একই শহরে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈরী। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের পর এবং তার পরবর্তী জিম্মি সংকটের অভিজ্ঞতার পর থেকে, দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন
ফুটবল প্রায়শই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম সুযোগ করে দিয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল ইরান। ম্যাচ শুরুর আগে মার্কিন খেলোয়াড়দের ফুল উপহার দিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা। সেই সন্ধিক্ষণের ঘটনা আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধাবস্থা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি শুধু ফুটবল খেলাই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও একটি বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
দেশের ভেতরেও ইরান জাতীয় দলকে ঘিরে আগের মতো ঐক্য নেই। ২০২২ সালের বিক্ষোভ ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর, জাতীয় দলকে ঘিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একাংশ জাতীয় দলে এখনো গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাবে জড়িত।
তবুও, ফুটবল ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কোটি কোটি সমর্থক বিশ্বকাপে তাদের দলের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করবে। সাতবার বিশ্বকাপে খেলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবার তারা সেই ইতিহাস পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে পারে।
আরও পড়ুন: মামলা হলে আত্মসমর্পণের ঘোষণা ইশরাকের, নাহিদকে সতর্কতা
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠের ফুটবল কি সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যেতে পারবে? যুদ্ধ, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, ভিসা সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজনের বাস্তবতা নিয়ে দাঁড়িয়ে ইরান সম্ভবত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন