প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার ব্যাপারে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক সরকারগুলো ইরানের কাছ থেকে কোনরকম ‘ক্ষতিপূরণ দাবি করার অবস্থানে নেই।’
রবিবার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে ঘারিবাবাদী বলেন, ‘ইরানের সম্পদ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো যুদ্ধের লুট নয়, বরং তাদের মিত্রদের দেওয়ার জন্য কোন পেমেন্ট ফান্ডও নয়।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমটির অন্য এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলাগুলোর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন এবং অতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য ইরানের জব্দকৃত সম্পদ তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করছে।
গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছে, চলমান এই যুদ্ধে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা পরিচালনা করেছে। গত শনিবারও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬টি প্রতিহত করেছে। এ হামলায় কুয়েতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’র এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতের জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার লাগবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘারিবাবাদী সতর্ক করে বলেন, ইরান সরকারের সম্মতি ছাড়া তাদের যেকোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা বিতরণ করা হলে সেটাকে একটি ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হিসাবে গণ্য করা হবে। যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার দাবি করছে, তখন এই ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরো খারাপ করবে এবং ইরান এর ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ নিজেদের ভূখণ্ড এবং সামরিক সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে দিয়ে রেখেছে।
এই কারণে তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং তাদের উচিত ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা তাদের শত কোটি ডলার ছাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসাবে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিলিয়ন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট অবমুক্ত করা, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন