ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যুতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী


দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যুতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নানা ইস্যু সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশকে কেউ কেউ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে কিছু লোক অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিগুলি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পন্থা খুলে দিচ্ছে কিনা, সেটি আমরা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রচুর মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং এতে আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস উপস্থাপন করবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হিসেবেও কাজ করবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: বিএনপি জুলাইকে ধারণ করছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে চলছে সরকার

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি জানান, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না- এই প্রত্যাশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘরটি আমাদের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে আছে এই জাদুঘর। এখান থেকে নতুন যাত্রাপথ রচনা হবে। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব।

আরও পড়ুন: কাপ্তাইয়ে অনুষ্ঠিত হলো দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে নানা জাদুঘর আছে। তারা অতীতের অনেক জিনিস সংগ্রহ করে জাতির সামনে তুলে ধরে। কিন্তু এই জাদুঘরটি একেবারেই ভিন্ন। এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং একেবারে টাটকা নতুন ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন জাদুঘর পৃথিবীতে আর আছে কিনা আমার জানা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

গাইবান্ধা, ৫ অগাস্ট, ২০২৬ : গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলার সাত উপজেলার ২৫২ জন জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের প্রত্যেকের হাতে সম্মাননা সূচক হিসেবে ক্রেস্ট এবং উন্নত মানের একটি করে আমের চারা বিতরণ করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল হক, রিয়াদ হাসান রহমান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, প্রিন্ট- ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীসহ অনেকেই।

আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধারা বলেন, আমরা শুধু ভাতা কিংবা নামের জন্য এই আন্দোলন করি নাই, শুধু রক্ত দিই নাই। আমরা মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দেশের জনগণ যে আকাঙ্খায় রাস্তা নেমে এসে হাসিনাকে তাড়িয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

এরআগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বপ্নের সুরে এগিয়ে চলা মধুপুরের গীতিকার আমিনুল ইসলাম সেলিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


স্বপ্নের সুরে এগিয়ে চলা মধুপুরের গীতিকার আমিনুল ইসলাম সেলিম

কেউ লেখেন শখের বসে, আবার কেউ লেখেন অনুভূতির টানে। আবার কেউ কেউ জীবনের প্রতিটি অনুভবকে শব্দের মধ্যে গেঁথে সুরের জন্য তুলে রাখেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামের বাগানবাড়ি চৌরাস্তার কৃতিসন্তান আমিনুল ইসলাম সেলিম সেই স্বপ্নবাজ মানুষদেরই একজন। পেশাগত জীবনে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হলেও তাঁর হৃদয়জুড়ে বাস করে বাংলা গান। সেই ভালোবাসাই তাঁকে গড়ে তুলেছে একজন উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় গীতিকার হিসেবে।

ছোটবেলা থেকেই বাংলা গান ছিল তাঁর নিয়মিত সঙ্গী। বিভিন্ন শিল্পীর গান শোনার মাধ্যমে একসময় তাঁর মনে জন্ম নেয় নিজেই গানের কথা লেখার প্রবল আগ্রহ। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ একটি সৃষ্টির আনন্দে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময়ের নিরলস চর্চায় তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ৫২০টি গান রচনা করেছেন।

গানের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রেও তিনি বৈচিত্র্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আধুনিক, লোকগান, রোমান্টিক, দেশাত্মবোধকসহ নানা ধারার গান লিখে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছেন। তাঁর ভাষায়, মানুষের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, দেশপ্রেম এবং জীবনের নানা অনুভূতিই তাঁর লেখার প্রধান অনুপ্রেরণা।

আমিনুল ইসলাম সেলিমের লেখা বেশ কয়েকটি গান ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং শ্রোতাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে "চাইলেই যদি মরণ পাওয়া যেতো" এবং "জীবনটা যদি রং আর তুলি হতো" উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত "এত ভালোবাসলাম তোরে" ও "তুমি বাহিরে সুন্দর" গান দুটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানপ্রেমীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁর সৃষ্টিশীলতার পথে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।

বর্তমানে তাঁর নতুন গানের কাজ চলছে। এর মধ্যে "স্বপ্নে আসো আমার বুকে" শিরোনামের গানটির ভিডিও নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গানটি প্রকাশিত হবে এবং সেটিও শ্রোতাদের ভালোবাসা অর্জন করবে।

আমিনুল ইসলাম সেলিম মনে করেন, বাংলা গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক। তাই তিনি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুস্থ, রুচিশীল ও হৃদয়স্পর্শী গান রচনার মাধ্যমে বাংলা সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান।

মধুপুরের এই তরুণ গীতিকারের স্বপ্ন এখন আরও বড় পরিসরে তাঁর লেখাকে ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর বিশ্বাস, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা থাকলে একদিন তাঁর গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নেবে। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও প্রত্যাশা, আমিনুল ইসলাম সেলিম ভবিষ্যতে বাংলা গানের জগতে একজন প্রতিষ্ঠিত গীতিকার হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবেন এবং মধুপুরের নাম আরও উজ্জ্বল করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ শুরু সেপ্টেম্বরে: গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ শুরু সেপ্টেম্বরে: গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী

জুলাই শহীদ পরিবার এবং গুরুতর আহত যোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আশা করছি আগস্টের শেষ সপ্তাহ অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা উদ্বোধন করবেন বলে আমরা আশা করছি।'

নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, 'প্রকল্পের আওতায় ১৪টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।'

ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবাসন নিশ্চিত করা শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য একটি বড় সহায়তা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে। এই প্রকল্পটি কেবল একটি আবাসন প্রকল্প নয়, এটি জাতির পক্ষ থেকে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন।

তিনি উল্লেখ্য করেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন কিংবা গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।'

আহম্দ সোহেল মনজুর বলেন, 'এটি তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে কোনো প্রতিদান নয়। তাদের অবদানের মূল্য কখনো পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার একটি প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে আমরা তাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করছি।'

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিয়মিত ভাতা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবেও তাদের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমার নিজ জেলা পিরোজপুরে যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করছি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে শুধু জুলাই মাসের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, 'জুলাই বিপ্লব একদিনে হয়নি। এটি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলস্বরূপ। অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে ৫ আগস্ট সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তৈরি হয়।'

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলন এবং পরবর্তীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন লাভ করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের নির্যাতন, গুম, অবৈধ কার্যকলাপ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত একটি গণআন্দোলনের রূপ নেয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে।

সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের কারণেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে উল্লেখ করে আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ছিল আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক এবং সংসদে আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ ও প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে সরকার। এটিকে আমরা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা থাকলেও সরকার জুলাই সনদের মূল চেতনা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের সরকারি স্বীকৃতির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার গেজেটভুক্ত নিহত ও গুরুতর আহতদের তালিকা অনুযায়ী তাদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, গেজেটভুক্ত নিহত ও আহতদের জন্য ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আবাসন প্রকল্পও সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল যাতে আত্মত্যাগী পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে যায়, সেই বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি জাতির যে ঋণ, তা কখনো শোধ করার নয়। কিন্তু তাদের পরিবার যেন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে, সেদিকে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালু উত্তোলনের সময় দুই নৌকার মাঝে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


বালু উত্তোলনের সময় দুই নৌকার মাঝে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মহাদেও নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময় দুই নৌকার মাঝে চাপা পড়ে রিফাত (২০) নামে এক বালু শ্রমিক মারা গেছেন। নিহত রিফাতের বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামে। তিনি সেকুল মিয়ার ছেলে।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের বরুয়াকোনা এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় যে, বরুয়াকোনা এলাকায় শ্রমিকরা নৌকায় করে নদীতে ডুব দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন। রিফাতও একটি নৌকায় কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের নৌকায় সজোরে ধাক্কা দেয়।

এর ফলে দুই নৌকার মাঝখানে চাপা পড়ে রিফাত গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা সুমন মিয়া জানান, রিফাত মঙ্গলবার রাতে কাজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরদিন বুধবার সকালে তার এক সহকর্মী ফোন করে দুর্ঘটনার খবর জানান। শুনে তারা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসেন।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%