মোঃ নুর হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০:০১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুরুটা আশানুরূপ না হলেও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ৩-০ গোলে হাইতিকে উড়িয়ে দিয়ে সেলেসাওরা গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই ম্যাচে আলোচনায় এসেছে সেলেসাও ফুটবলারদের নাচ। বিশেষ করে মাতেউস কুনিয়ার উদযাপনের নাচটি দ্বিতীয় গোলের পর নজর কাড়ে।
কুনিয়ার এ ধরনের উদযাপন অবশ্য নতুন নয়। ক্লাব পর্যায়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে একই ভঙ্গিতে নেচে উদযাপন করতে দেখা গেছে কুনিয়াকে। গতকালকের ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এই উদযাপন নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগ বেড়েছে। চলুন, এরপর এর পেছনের কারণটি জেনে নেই।
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রতীরের শহর জোয়াও পেসোসা। এখানে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কুনিয়া। ক্লাব ক্যারিয়ারে জার্মানি এবং স্পেন হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ইংল্যান্ডে। গত মৌসুমে উলভস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন। ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে এক মৌসুমে গোল করার পর কুনিয়ার নাচটি নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এবার, সেই উদযাপন নিয়ে এসেছে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে।
হাইতির সঙ্গে ম্যাচে প্রথম গোলের পর নেচেছেন কুনিয়া। দ্বিতীয় গোলে তিনি দিয়েছেন ডাইভ। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের দুটো উদযাপনের পেছনে ছিল তার সমুদ্রপাড়ের জীবনের স্মৃতি।
সাগরপারের ছেলে কুনিয়া অবসরে সুযোগ পেলেই ছুটে যান সমুদ্রসৈকতে। বেশ কয়েক বছর ধরে সার্ফিংয়ে তার আগ্রহ বেড়ে গেছে। কিন্তু ইংল্যান্ডে খেলার কারণে এটি আর হয়ে উঠছে না। তাই ছুটি পেলেই কুনিয়া ছোটেন নিজের এলাকায়। সেখানকার বন্ধুদের সঙ্গে সার্ফিং করা যেন তার জন্য এক নেশায় পরিণত হয়েছে। সেই বন্ধুরা তাকে বলেছেন, যেন গোল করার পর সার্ফিংয়ের এই উদযাপন করেন।
গত বছর লিভারপুলের বিপক্ষে ইউনাইটেডে এমন উদযাপনের পর তিনি সার্ফিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলে গেলেই আমার বন্ধুরা বলে, “তুই তো সার্ফ করতে পারিস না। আগে তোকে প্যাডল আপ করে সার্ফ বোর্ডে দাঁড়িয়ে থাকা শিখতে হবে।” আমি বলেছি, ঠিক আছে, আরও ভালো করতে হবে। আমি ফুটবল আর সার্ফিং—দুটিই ভালোবাসি। এই দুটিই আমার জীবনের অংশ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননে নিহতের সংখ্যা এখন ৪ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে, ইসরায়েলি হামলা এখানে অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্য অনুসারে, গত শুক্রবার একদিনেই নিহত হয়েছেন ৮৪ জন। এ নিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ।
লেবাননের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ক্রমবর্ধমান।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অবস্থানে লক্ষ্য রেখে অভিযান চালাচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা পূর্বের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি দেখা গেছে। সংশোধিত হিসাবে দেখা যায়, শুক্রবার একদিনেই ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত এবং আহতদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা। দেশের পূর্বাঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এ পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এই ঘোষণা দিয়েছে।
একটি বিবৃতিতে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির লঙ্ঘন এবং এই কারণেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ।’
এদিকে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বারো হাজারেরও বেশি আহত হওয়ার কারণে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (২০ জুন) লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী শৌলমারীর চরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে তিস্তাপাড়ের মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তারা দ্রুত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এদিকে মানববন্ধনের দিন তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, ভারতের উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নদীর পানি বেড়েছে এবং এর ফলে কর্মসূচি আয়োজনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধ এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল এক সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীনে যাবেন। দুই দেশের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকালে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। এই সময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। সিয়াম বলেন, ‘এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, যা ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।’ তিনি বলেন, সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নিবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশের এবং অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণ হবে। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। সফরে মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ