০২:২৬ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ মাঠ থেকে মাঠের বাইরে ছড়িয়ে পড়লেও থামছে না। গত ১৯ জুলাই রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী মিডফিল্ডার দানি ওলমোর টুঁটি চেপে ধরা নিয়ে বিতর্ক চলমান। সেই রাতে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা দানির ঘাড়ে আঘাত করেছিলেন।
উক্ত ঘটনার পর আয়ালা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কথা বললেও, এই বক্তব্যকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে সেদিনের আক্রমণের কঠোর সমালোচনা করেন ওলমো।
অতিরিক্ত সময়ের ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। রেফারির মাঠে শেষ বাঁশি বাজানোর পর উভয় দলের খেলোয়াড় এবং স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে গাভিকে ধাক্কা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মোবাইলবিহীন দর্শকদের পুরস্কার দেবে ডর্টমুন্ড, ২৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর
অন্যদিকে, আয়ালা স্প্যানিশ তারকা ওলমোর টুঁটি চেপে ধরেন।
ফাইনালের জটিল পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হলে আয়ালা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোন এক মন্তব্যের প্রসঙ্গে এমনটা করেছিলেন। তবে এই প্রসঙ্গে কাতালান সংবাদমাধ্যম দিয়ারি দে তেরাসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওলমো। বার্সেলোনার এই তারকা দাবি করেন, ‘যদি কেউ (আয়ালা) বলেছে, কোনো একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সে ঘুষি মারল, তাহলে সে আসলে দুঃখিত নয়; সে মিথ্যাবাদী।’
ওলমো বলেন, ‘আমি তাকে কিছু বলিনি। তাই তার ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভুল করাটা সমস্যা নয়; বরং সেই ভুল সততা ও বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করার সাহসের ওপরই একজন মানুষের আসল পরিচয়।’
এছাড়া, রবার্তো আয়ালা ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন, কিন্তু ওলমোর উসকানিমূলক মন্তব্যকে দায়ী করেন।
আরও পড়ুন: ফর্টিজ এফসি তাজিকিস্তানের ক্লাবকে ৩-১ গোলে হারালো
যদিও ওলমো মনে করেন, বিষয়টিকে সাধারণ বাকবিতণ্ডা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পেশাদার ফুটবলার ও কোচদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমার পরিবার, সন্তান এবং কোটি ভক্তরা আমাদের খেলা দেখে, আমি চাই তারা যেন আমাদের খেলা ও আচরণ নিয়ে গর্বিত হতে পারে। ফুটবলার হিসেবে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’
ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর আয়ালাসহ আর্জেন্টিনা দলের পুরো সদস্যর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে পারেদেস সর্বাধিক আক্রমণাত্মক ছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ইতিমধ্যে ফিফা তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন