০৮:১৩ পি.এম
ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য দেশের মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পাশাপাশি ফুল হাতা শার্ট, পায়জামা ও লুঙ্গি লম্বা করে পরার পরামর্শ দিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এ কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিষয়টি সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা স্প্রে করছি, আমরা লার্ভার ট্যাবলেট ছিটিয়ে যাচ্ছি। দেশের মানুষের মাঝে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর জন্য, ফুল হাতা শার্ট পড়ার জন্য, পায়জামা পরার জন্য অথবা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তিনি উল্লেখ করেন যে ডেঙ্গু টেস্ট করার রিএজেন্ট, স্মরণাতীতকালের স্টক আমাদের হাতে আছে, যেটা বিগত সময়ে কোনও সরকার তাদের হাতে রাখতে পারেনি। ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কিটের ব্যবস্থা আমরা মাঠ লেভেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে দিচ্ছি এবং সেন্ট্রাল গোডাউনে আমাদের স্টকও রয়েছে।
সরকার দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০ টাকায় কমানো হয়েছে এবং পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনও আক্রান্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুদ আছে এবং আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগও বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একইসঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০টি বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: আইজিপির দায়িত্ব থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত
মশা নিধনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের বিষয়টি উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন