প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর এই ফ্লাইট পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে, নারিতাকে উত্তর আমেরিকাগামী যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) ও এয়ার কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য কোডশেয়ার চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর জন্য সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বাসসকে জানান, ‘নারিতা রুট পুনরায় চালুর জন্য বিমান সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।’
বর্তমান সময়ে জাপানে ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যারা শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী। এই সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্লাইট চালুর খবর শুনে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।’
রুটটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হওয়ার আগে এটি লাভজনক হয়ে উঠেছিল। শুরুতে কিছুটা লোকসান হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যে লাভজনক হয়ে উঠেছিল। তবে রাজনৈতিক কারণে বন্ধ করা হয়।
মিল্লাত জানান, ‘আগের সরকার কেন লাভজনক একটি রুট চালু রাখেনি, সেটি বিস্ময়কর। এবার আমরা পরিকল্পিতভাবে রুটটির টেকসইতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিপণন ও বিক্রয় পরিচালক আশরাফুল আলম জানান, যাত্রীদের সাড়া ইতিবাচক। ‘নারিতা থেকে ঢাকাগামী ফিরতি ফ্লাইটের সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে,’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। যাত্রী চাহিদা ও উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
আগামী ৩০ জুন ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও, জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিরীক্ষার কারণে তা পিছিয়ে যায়।
২০২৫ সালের ১ জুলাই উড়োজাহাজ সংকট, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার কারণে ঢাকা-নারিতা রুটের ফ্লাইট স্থগিত হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই রুট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ-জাপানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার মহৎ উদ্দেশ্যে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনরায় চালু হওয়া এ রুট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও কৌশলগত ভূমিকা রাখবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) ও এয়ার কানাডার সঙ্গে একটি কোডশেয়ার চুক্তি চূড়ান্ত করার কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে যাত্রীরা একটি টিকিট, একটি বোর্ডিং পাস এবং একই ব্যাগেজ ব্যবস্থায় নামা থেকে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নারিতাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের দৃষ্টিতে হবেন সহজেই জাপান এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডার সংযোগ ফ্লাইটে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারবেন।
অফিসারদের মতে, বিশেষ করে কানাডার পশ্চিমাঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে বসবাসকারী বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগণ এ কোডশেয়ার ব্যবস্থা নারিতা রুটকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।
গত বছর, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের সময় জাপান এয়ারলাইন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবে মোটোহিসা জানান, সংযোগ ফ্লাইট ব্যবহার করে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার যাত্রী টোকিও ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করেন, যা সরাসরি ফ্লাইটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, ১৭ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথমবার ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন