ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেট-চারখাই- শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা


সিলেট-চারখাই- শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা

সিলেট-চারখাই- শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এই উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ত কাজের জন্য গত ২০ মে দুই হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
প্রকল্পটির মূল অবকাঠামো উন্নয়নে আগের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০ শতাংশ  লেস ধরে প্রায় ৬শ কোটি টাকা কমিয়ে নতুন এ ব্যয় অনুমোদন করেছে।
সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটারের মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুমোদন করে। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প দায়িত্বশীলরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ায় তিন লটে অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি লটে মোট ৪৭টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি দরপ্রস্তাব কারিগরি ভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন দরদাতাদের সুপারিশ করে।
চূড়ান্ত ভাবে তিনটি পৃথক লটে তিনটি দরদাতা বা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম লটে  যৌথ উদ্যোগে মনিকো লিমিটেড (বাংলাদেশ) এবং চায়না রেলওয়ে নম্বর চার ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডকে এক হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৬ টাকায় কাজ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় লট চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপেৃারেশনকে ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকায় কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় লটে যৌথ উদ্যোগে এনডিই (বাংলাদেশ) এবং আরবিসিজিকে (চীন) ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় কাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪২ দশমিক ৮০ লাখ ঘনফুট মাটির কাজ, ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ, ১ হাজার ৫৭৫ জন মাস পরামর্শক সেবা, ৩১টি কালভার্ট, ৩টি সেতু তিনটি ফ্লাইওভার, ৬টি ওভারপাস, ৫টি আন্ডারপাস, ৪টি ফুটওভার ব্রিজ, ৭টি পথচারী পারাপার, একটি টোল প্লাজা নির্মাণ এবং প্রায় ৪৩ কিলোমিটার চার লেন এ মহাসড়কের উভয়পাশে ধীরগতির দুটি সার্ভিস লেন করা হবে।
এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ৬০০ মিটারের ফ্লাইওভার, চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি পৃথক ৩০০ মিটারের ফ্লাইওভার এবং রানাপিং ও রামধা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ মিটারের দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর বর্তমান শেওলা সেতুর কাছে চার লেনে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।
সিলেট চারখাই শেওলা চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গত দুই বছরে নানা কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সেজন্য দায়িত্বশীলরা আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর চিন্তা করছেন।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান বলেন, সিজিসির অনুমোদন হয়ে গেছে, মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার আগে প্রশাসনিক কিছু কাজ থাকে। এ ছাড়াও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এক-দুই সপ্তাহ সময় দিতে হয়।  সেগুলো সম্পন্ন করতে যে সময়টুকু লাগে, তারপর আমরা কাজ শুরু করতে পারব। মূলত, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। তিনি জানান, ব্যয় কমলেও পুরো প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন হয়নি। তবে গোলাপগঞ্জের পরে মহাসড়কের দুই পাশের সার্ভিস লেন বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের জায়গা অধিগ্রহণে আমাদের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমাদের কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আশা করছি আগস্টের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা,  গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলাবাসী উপকৃত হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণের ২৭ ওয়ার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণের ২৭ ওয়ার্ড

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এর ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ২৭টি ওয়ার্ড। ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্বও পাওয়া গেছে বেশি। এডিস মশাই মোট মশার লার্ভার ৮৭ শতাংশ। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রতিরোধে ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপে’ এসব তথ্য উঠে এসেছে। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানিয়েছেন, তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। তিনি আরও বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত একটি সিটি গড়ে তোলা সম্ভব। চলতি বর্ষার মৌসুম শুরুর আগে ডেঙ্গু গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর তীব্র গরম শুরু হয়েছে, যা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সেক্ষেত্রে, এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সিটি করপোরেশন। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে ডিএসসিসি প্রথমবারের মতো ১২ মে নিজের উদ্যোগে ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এ কার্যক্রমে ১২ দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের ২২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবনে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশের সময় সিটি করপোরেশন পরবর্তী পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে। এসময়, প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ সিটির ২৮১টি বাড়িতে পাওয়া গেছে লার্ভা। এর ভেতর ৮৭ শতাংশ লার্ভা এডিস মশার। এছাড়া, ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি জানা গেছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটির অন্তত ২৭টি ওয়ার্ড এখন ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিরোধ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক। সেই সাথে তিনি ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলেন। তাছাড়া, ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড বিনামূল্যে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন আব্দুস সালাম। গত ২ জুন এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ওষুধ ও খাবারের খরচ রোগী বহন করবে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখতে হবে। সেইসাথে ডেঙ্গুর টেস্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ লেবাননে মর্টার হামলায় প্রাণ হারালেন জাতিসংঘের এক শান্তিরক্ষী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


দক্ষিণ লেবাননে মর্টার হামলায় প্রাণ হারালেন জাতিসংঘের এক শান্তিরক্ষী

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুনে মর্টার হামলায় ইউনিফিলের (জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী) এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। ইউনিফিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরটি আল জাজিরার।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতিসংঘের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া মর্টার হামলায় গুরুতর আহত হন ওই শান্তিরক্ষী। পরে বৈরুতের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। ওই বিবৃতিতে তাঁর জাতীয়তা বা হামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এই মর্টার হামলায় আরও দুজন ইউনিফিল শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শান্তিরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য’ তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। মিশনটি বলেছে, ‘ইউনিফিল দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গতিপথ ও তার প্রভাব শনাক্ত করেছে। এই সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে।’

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হলেও সংঘাত এখনও বন্ধ হয়নি। গত কয়েক দিনের মতো আজও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলা চলছে। হিজবুল্লাহও সকালের দিকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে বলে খবর জানা যাচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের দক্ষিণে জেফতা রোডে একটি গাড়িতে করে চলাচলরত একটি পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় একজন পুরুষ, তার স্ত্রী এবং মেয়ে আহত হয়েছেন। নাবাতিয়েহ জেলাতেও একটি বড় গোলচত্বরে (রাউন্ডঅ্যাবাউট) বড় ধরনের হামলা হয়েছে যেখানে বেসামরিক লোকজনের আহত হওয়ার খবর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে দেশ দুটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’তে পৌঁছায়। এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। একইসাথে দক্ষিণ লেবনন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।

এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে যেখানে লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না।

এদিকে ইসরাইলও জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইসরাইলি সেনারা বিউফোর্ট দুর্গ ছাড়বে না। বিউফোর্ট একটি প্রাচীন দুর্গ, যা উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এবং দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ দেখা যায়। ইসরাইল সম্প্রতি এই এলাকা দখল করেছে।

কাৎজ আরও বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত মানুষেরা হিজবুল্লাহর নিরস্ত্র না হওয়ার সময় পর্যন্ত ফিরে আসতে পারবেন না। কিন্তু হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারির বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৬ বিশ্বকাপে আসছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


২০২৬ বিশ্বকাপে আসছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে আরও গতিময় করার জন্য এতদ্বারা একাধিক নতুন নিয়ম এনেছে ফিফা। সময়ক্ষেপণ কমানোর উদ্দেশ্য, খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, থ্রো-ইন নিতে যাওয়ার সময়ে যদি কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে তাহলে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শেষে বলের দখল প্রতিপক্ষের হাতে আসবে। একইভাবে গোল-কিকের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। গোল-কিক নিতে অযথা দেরি হলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক পাবার সুযোগ করে দেয়া হবে।

এদিকে, খেলোয়াড় বদলানোর নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে নিকটতম স্থান ব্যবহার করে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ ছেড়ে যেতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বদলি খেলোয়াড় অন্তত এক মিনিট মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং ওই সময় দলটিকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হবে।

চিকিৎসা গ্রহণের পরও নতুন বিধান কার্যকর হবে। মাঠে ফিজিওর চিকিৎসা নিচ্ছে এমন খেলোয়াড়কে অন্তত ৬০ সেকেন্ড মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষক, গুরুতর চোট কিংবা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় কার্ড পাওয়ার মতো কিছু পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

এছাড়াও, ম্যাচ চলাকালে কোনো বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে মুখ ঢাকা রেখে কথা বলা বা আচরণ করা হলে খেলোয়াড় লাল কার্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ফিফা এর ব্যাপারে মনে করছে যে, এতে গোপন উসকানি বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কমে যাবে।

ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কর্নার কিক সঠিকভাবে দেয়া হয়েছে কি না তা দ্রুত যাচাই করতে পারবে ভিএআর। পাশাপাশি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে হওয়া লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওড়াঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


হাওড়াঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে হাওড় অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস) জানিয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির প্রেক্ষাপটে হাওড়বাসীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: হাওড়বাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর পরিচালনায় এবং সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি হাওড়বাসীর পক্ষ থেকে ২০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির কারণে হাওড়ের কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটে হাওড় অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।’

তিনি জলবায়ু খাতে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান, হাওড়ে কৃষি বীমা চালু, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, বিল-নদী খননের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক ড্রায়ার ও কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র নির্মাণের তোতাও করেন। এছাড়াও, বজ্রপাত মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি, মৎস্য গবেষণাগার ও অভয়াশ্রম স্থাপন, কৃষক ও জেলেদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং হাওড়াঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস স্থাপনের দাবি জানান।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম বলেন, হাওড়ের ফসলহানি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘নদী ও বাঁধ নির্মাণই হাওড়ের একমাত্র সমাধান নয়; খাল খনন, জলাধার সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি প্রকৃত কৃষক ও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির আহ্বান জানান এবং হাওড় বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন চৌধুরী বলেন, হাওড়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগাম ও নির্ভুল আবহাওয়া সতর্কবার্তা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি হাওড় অঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানাচ্ছি।’

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, প্রতিবছর হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে হাওড়বাসীর দুর্ভোগ কমবে না। তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি হাওড়ের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

বিআইডিডির গবেষণা পরিচালক ড. শরীফ আহমদ চৌধুরী বলেন, হাওড়ের ফসল রক্ষায় আগাম জাতের ধানের চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি কৃষকদের উৎপাদিত ধান ব্যাপকভাবে সরকারি ক্রয় কর্মসূচির আওতায় আনা এবং হাওড়ে কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং শিক্ষক লায়ন মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

বক্তারা বলেন, হাওড়ের খাদ্য, মাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই হাওড়ের উন্নয়ন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%