০৯:৪৭ এম
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পাকিস্তান ও কাতার, যারা মধ্যস্থতাকারী দেশ, তাদের দ্বারা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রতিষ্ঠা করেছে, যা আলোচনার তদারকি করবে। আলজাজিরার খবর অনুযায়ী, গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণীলি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞার শিথিলকরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতার প্রেক্ষিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৯ জুন) আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সুইজারল্যান্ডে, কিন্তু লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে ইরান তা স্থগিত করেছে। একই কারণে পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী।
হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন উত্তেজনার মধ্য দিয়ে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং কাতারের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আছেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত
আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডে চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের দরকষাকষি। ৮০ মিনিটের উদ্বোধনী সেশনের পর ট্রাম্পের হুমকির কারণে টেবিল ছাড়েন ইরানি প্রতিনিধিরা, ফলে আলোচনার গতি অনেকটা থমকে যায়। হরমুজ প্রণালী এবং লেবানন সংকটসহ ইসরাইলের বিষয়গুলি এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে।
তবে পাকিস্তান ও কাতার যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পরিবেশে করা হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা গেছে। তারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার কথাও জানান।
মধ্যস্থতাকারীরা বলেছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়নের কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার পরে উভয় পক্ষের কারিগরি দল সুইজারল্যান্ডে থেকে পরবর্তী ধাপের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে, যা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকি করবে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে এই কমিটিকে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেবেন এবং পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত কার্যকরী দলের নেতৃত্ব দেবেন।
এছাড়া সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ কাজ করবে, যা অন্যান্য বিষয়সমূহও দেখভাল করবে। উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপের ওপর সম্মত হয়েছে, যার ফলে অবিলম্বে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
এছাড়া ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে কাজ করা। মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ নিশ্চিত করতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছেন।। এতে উভয় পক্ষের পাশাপাশি লেবাননও অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পাকিস্তান ও কাতার এই ব্যবস্থাকে সহায়তা দেবে।
এই সেলের মূল উদ্দেশ্য হলো, সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সম্ভাব্য উত্তেজনা, ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
আরও পড়ুন: রোমে বোরকা নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা নির্ধারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
এই পদক্ষেপকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমনে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন