০৯:০১ এম
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে।
সেখানে সর্বস্তরের জনগণ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এতে লাখ লাখ ভক্ত ও অনুরাগী থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উপস্থিতির দিক থেকে খামেনির জানাজা ইরানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শেষ হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার অনুষ্ঠান। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ রাখা হয়।
আরও পড়ুন: ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট: এসিল্যান্ডকে সিলেটে সংযুক্তি
নেতার মরদেহের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিশাল শেষযাত্রা তেহরানের রাজপথে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, শোক আয়োজনের অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকে নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগামী কয়েক দিন ধরে তেহরানে বিপুল মানুষের সমাগম অব্যাহত থাকবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আজ জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নিয়ে আসা হবে।
এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তার মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান ইরানের মাশহাদে মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানেই ইমাম ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
শোকের আয়োজনে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেন। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় খামেনি ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধের দাবিও তুলেছেন তারা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এ আয়োজনের মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় শোকানুষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় সংহতি প্রদর্শন করছে।
শেষ বিদায়ে বাবার কফিনের পাশে জানাজায় অংশ নেন খামেনির তিন ছেলে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলিউডের মতে, বাবাকে হত্যার হামলায় আহত হওয়ায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসছেন না।
সোমবার শেষকৃত্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় পুরোপুরি বন্ধ থাকবে তেহরানের আকাশসীমা। একই সঙ্গে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকল নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলেও, ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে আরও একদিন।
আরও পড়ুন: জমানো খাবারে বানানো কেকেও ছাড় নেই, বন্দিদের জীবন নরক বানানোর হুমকি বেন-গভিরের
অতিরিক্তভাবে, ৯ জুলাই চূড়ান্ত দাফনের সময় মাশহাদের আকাশসীমা ও শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে, মাশহাদগামী ফ্লাইট ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন