০৯:১৩ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন বাভি, যা প্রচণ্ড বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে এসেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এনডব্লিউএস (জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা) সতর্ক করে বলেছে, এই ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ ঝড়ের কারণে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ছবিটি: সংগৃহীত।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের ভয়ংকর বাতাস ও সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া নিয়ে বাভি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। এনডব্লিউএস আরও বলেছে, সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বীপগুলোর উপর এত শক্তিশালী টাইফুনের আগমন তুলনামূলকভাবে বিরল। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শক্তিশালী টাইফুনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে।
আরও পড়ুন: সউদিতে হুতিদের হামলার জের: আটকা হাজারো ভারতীয় ওমরাহযাত্রী
টাইফুনের আগমনের আগে, বাসিন্দারা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাচ্ছেন এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। এনডব্লিউএস জানিয়েছে, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দক্ষিণের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রোটাতে সরাসরি আঘাত হেনেছে টাইফুনটি, যা গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
রোটার মেয়রের কার্যালয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে এক সতর্কবার্তায় ধ্বংসাত্মক বাতাসের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সাথে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটবে এবং বাইরে থাকা নিরাপদ হবে না। রোটার মেয়রের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা এখনও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রবল বাতাস ও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি।’
রোটার উত্তরে সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারেরও বেশি বেগের দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট। তিনি আরও জানান, গত এপ্রিলে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা সুপার টাইফুন সিনলাকু-এর পর থেকে দ্বীপটির অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ওই টাইফুনে ১৭ জন নিহত এবং প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১১০ কোটি পাউন্ড) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জনসংখ্যার পর্যটননির্ভর দ্বীপ গুয়ামে পাঁচটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে সর্বাধিক ১ হাজার ৭০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের জন্য নির্ধারিত।
আরও পড়ুন: ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন