বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:৩৫ পি.এম
নরসিংদীর পলাশে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পুলিশ ইব্রাহিম খান (২৭) নামে এক মাইক্রোবাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পাঁচদোনা–ঘোড়াশাল সড়কের ভাগদী এলাকায় একটি কালভার্টের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইব্রাহিম খান পাঁচদোনার নেহাব গ্রামের শহিদ খানের ছেলে।
পুলিশ এবং নিহতের স্বজনরা জানান, গত তিন দিন আগে রাতের সময় একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান ইব্রাহিম। এরপর তার কোনো খবর না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনরা ঘোড়াশালের ভাগদী সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পঁচা দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহবশত আশেপাশে খোঁজাখুঁজির কাজ শুরু করেন। একসময় তারা সড়কের পাশের একটি কালভার্টের নিচে ইব্রাহিমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এসে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
ঘোড়াশাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি কালভার্টের নিচে ফেলে গেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুধবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৬০টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে চারটি বাস, দু’টি ট্রাক, তিনটি কাভার্ডভ্যান, নয়টি সিএনজি ও ৩৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮৫টি মামলা হয়েছে।
এছাড়া ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৭টি বাস, চারটি ট্রাক, ১৯টি সিএনজি ও ৮৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৫টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২২টি বাস, দু’টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৯৭টি সিএনজি ও ২০০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪০৩টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৬টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ২৮টি সিএনজি ও ৬২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৮১টি মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২৫টি বাস, তিনটি ট্রাক, নয়টি কাভার্ডভ্যান, ৪৫টি সিএনজি ও ৫৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৩টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৯টি বাস, ১৮টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ডভ্যান, ৬৬টি সিএনজি, ২৬৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৭৯টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪৯টি বাস, ২৭টি ট্রাক, আটটি কাভার্ডভ্যান, ৮৩টি সিএনজি ও ১৬৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৪৫টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩৫টি বাস, চারটি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৩৫টি সিএনজি ও ৯২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩৯টি মামলা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৪৯৮টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৩৬৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত কনস্টেবল মোঃ আনোয়ার হোসেন (বিপি-৮৩০৩০০৩৮১৬) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, ফলে দ্রুত সময়ে তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর পৈকখালী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মকবুল হোসেন। বিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। বিষয়টি উপলব্ধি করে সহকর্মীরা ডাক্তারের কাছে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি যখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান, সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জানা গেছে, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াই তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। কনস্টেবল আনোয়ার হোসেনের অকাল মৃত্যুতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিবারের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এ ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান। পুলিশ বাহিনীর এই সদস্যের মৃত্যুর কারণে সহকর্মীদের পাশাপাশি তাঁর স্বজন ও এলাকার মানুষের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার থেকে মরহুমের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় একজন ব্যক্তিকে গাঁজা গাছ রোপণ ও পরিচর্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম শুক্কুর আলী এবং তার বয়স ৪০ বছর। তার বাড়ি থেকে ৯টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্কুর আলী কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া থানার চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাড়ির পূর্ব পাশের আঙিনায় থেকে প্রায় ৭ ফুট উচ্চতার ৯টি গাঁজা গাছ, ৪০ গ্রাম গাঁজা এবং ২১ হাজার ১ শত ৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত গাঁজা গাছগুলোর আনুমানিক ওজন প্রায় ১৫ কেজি।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শুক্কুর আলী স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাঁজা গাছ চাষ করে স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন। তিনি বলেন যে, জব্দকৃত গাঁজা গাছগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যেই তিনি চাষ করেছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় থানায় মামলা রুজু করে দুপুরের দিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জিগাতলা ও যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।
আজ ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবগঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়।
অভিযানকালে জিগাতলা এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির ছাদ, বেইজমেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে।
এ সময় ২টি নির্মাণাধীন ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায়, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭০ ধারার অনুযায়ী ভবনের প্রত্যেক মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ডেঙ্গুর লার্ভা থাকায় লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত বিশেষ সতর্কতামূলক লিফলেট ভবনের প্রবেশপথে সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ ও ময়লা জমে থাকার জন্য বাসিন্দাদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।
এছাড়া যত্রতত্র ময়লা না ফেলতে পথচারী এবং ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।’
তিনি আরও জানান, আমরা চাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।
টাস্কফোর্সের সভাপতি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় কমিটির অধীনে এই টাস্কফোর্সের অভিযান রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে।
এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।
পরে তিনি যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ