ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে


শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে

মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখে যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। তাই শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে তা জানা প্রয়োজন।

বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার

আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়া বাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

আরও পড়ুন: কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দে ডিএসসিসির নতুন সিদ্ধান্ত

যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ

সামরিক জাদুঘর: বিজয় সরণিতে অবস্থিত এই জাদুঘর প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বৃহস্পতি ও শুক্রবার এটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও: এই জাদুঘর বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

শিশু একাডেমি জাদুঘর: শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।

আরও পড়ুন: রামপুরা ব্রিজের ওপর গাড়ির ধাক্কায় যুবক শহীদুল্লাহ নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ কেজি এলপিজির দাম ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ এম


১২ কেজি এলপিজির দাম ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৭.৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১৯৭৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিইআরসি আয়োজিত দিনব্যাপী গণশুনানিতে এই সুপারিশটি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা এলপিজির দাম ২১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২,২৩২ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। কমিশন আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। চলতি অক্টোবরের শুরুতে বিইআরসি এলপিজির দাম ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল, তবে বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার ২,১০০-২,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদের সভাপতিত্বে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কমিশনের সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সাসটেইনেবল এনার্জি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন্স (সেরা), এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য তুলে ধরেন।

জালাল আহমদ বলেন, "সাধারণ মানুষ যেন যৌক্তিক মূল্যে এলপিজি পায় এবং ব্যবসায়ীরা যাতে লোকসানের শিকার না হন, আমরা দুদিকে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।" তিনি আরও জানান, মাসের প্রথম সপ্তাহে মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং চেষ্টা করা হচ্ছে ১-২ তারিখের মধ্যে মূল্য ঘোষণা করা যায়। তিনি বলেন, "যেসব আমদানিকারক ব্যাংকিং সমস্যার কারণে এলসি খুলতে পারছেন না, তারা যাতে দ্রুত এলসি খুলতে পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে আমরা সে ব্যবস্থা করব।"

এদিকে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব বিভিন্ন কোম্পানি দিয়েছে। এর মধ্যে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়।

অন্যদিকে, পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।

এক পর্যায়ে এলপিজি সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি ও কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া এবং বাজার অস্থিতিশীল করার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান শুনানি বয়কট করেন।

ব্যবসায়ীদের মাফিয়া বলায় হট্টগোল

এদিকে, এলপিজি ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ অভিহিত করাকে কেন্দ্র করে বিইআরসির গণশুনানির শেষদিকে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সদস্য শাহ আলম সরকার বলেন, "বিইআরসি একটা দাম নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করে দেয়। এলপিজি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের কাছ থেকে তাদের ইচ্ছামতো দাম আদায় করেন। এসব মাফিয়া ডনদের নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই।"

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল এই সময় ‘মাফিয়া’ শব্দ নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি শাহ আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি তাদের মাফিয়া বলতে পারেন না।" শাহ আলম বলেন, "পত্রিকাগুলো তাদের অহরহ মাফিয়া বলছে। মানুষের অধিকার নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলছে। ১,৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। আপনারা কেবল দাম ঘোষণা করেই বসে আছেন। তাদের মাফিয়া বলব না, তো কী বলব?"

জালাল আবারও জোর দিয়ে বলেন, "পত্রিকাগুলো তাদের মাফিয়া বললেও আপনি বলতে পারেন না, অন্তত এখানে বলবেন না।" বিইআরসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে উপস্থিত সাধারণ শ্রোতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কেউ কেউ বলেন, "আপনি এখন বিচারকের আসনে আছেন। কেন ব্যবসায়ীদের পক্ষে ওকালতি করছেন?"

এতে কিছু সময়ের জন্য হলরুমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের একাংশ শাহ আলমকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আবার তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ক্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। তবে কমিশন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

অর্থনীতি সমিতির ক্ষোভ

আলোচনায় অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে পাঁচটি এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জানতে চান, এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে বিইআরসি কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও তিনি জানতে চান।

তিনি বলেন, এক মাসে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। এ অবস্থায় খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করেই কি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি বৈধ হয়ে গেছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি। বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন নিষ্পত্তি না করা, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রির ঘটনায় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে শুনানি বয়কটের ঘোষণা দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ এম


ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকাকে জাপানের টোকিও শহরের মতো পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে একটি বড় ধরনের সংস্কার।

বুধবার সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তিনি বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্জ্য থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা জরুরি।

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি মন্তব্য করেন, রাস্তায় আবর্জনার কারণে মানুষের চলাচলে যেন ভোগান্তি না হয় এবং দূষিত বাতাসের কারণে মানুষকে যেন অসুস্থ হতে না হয়, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংস্কারের সুফল সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হন।

এ সময় তিনি জানান, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এমন সংস্কারকে গুরুত্ব দেন, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষও পান। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এমন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষের সমর্থন পেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে এমন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। তাই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।"

তারেক রহমান আরো বলেন, কিছু সংস্কারে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হতে পারেন। তবে তার অগ্রাধিকার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা, যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী লাভবান হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্য প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। শিশুদের জাপানি ভাষা শেখানো, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বসনিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


বসনিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪ জন

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে চারজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির ব্রচকো জেলার গোরিচে গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজন ইতালীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি দুজন ইতালীয় রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনীর সদস্য। দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে মোট ১৫ জন আরোহী ছিলেন। আহত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তাদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানানো হয়েছে।

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, গোরিচে গ্রামে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হেলিকপ্টারটি মাটিতে উল্টে পড়ে রয়েছে এবং এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেত্তো। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় নিহতদের স্বজন ও মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটির বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিচালিত ‘অপারেশন আলথিয়া’র অংশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মোতায়েন ছিল। ডেটন শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকি করা এ মিশনের মূল দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংক খাত অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে: মাহবুব উল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


ব্যাংক খাত অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে: মাহবুব উল্লাহ

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, অলিগার্কদের (অতি প্রভাবশালী ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী) প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে দেশের অর্থনীতি আরো গভীর সংকটে পড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এ খাতের অস্তিত্বই হুমকির মুখে রয়েছে। অর্থনীতি ইতোমধ্যে লাইনচ্যুত হয়েছে এবং যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা শুধুমাত্র লাইনচ্যুত হবে না, বরং নদীতে গিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, শুরুতে ব্যাংক খাতের সংকটকে গ্রাহক চেনাসংক্রান্ত (কেওয়াইসি) সমস্যা মনে করা হলেও পরে তা ব্যাংকার, অসৎ ব্যবসায়ী ও অসাধু রাজনীতিবিদদের বিপজ্জনক যোগসাজশে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের সিন্ডিকেট ও অলিগার্কদের প্রশ্রয় দিয়ে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব নয়। তাই তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের অর্থনীতির কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ শোষণের সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ নয়, বরং অল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব অলিগার্কের উত্থান ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, বাজারের নিয়ম অনুসরণ করা হলে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এতদিনে বিলুপ্ত হয়ে যেত। কিন্তু বিভিন্ন উপায়ে সেগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এ প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এটি দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।

ব্যাংক খাতে অনিয়মের কারণে মানুষের আস্থা ব্যাপকভাবে কমে গেছে উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, অধিকাংশ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ব্যাংক ভালো করছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে খাতটির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সরকারের ঋণনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল কর-জিডিপি অনুপাতের কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাত ক্রমেই সরকারমুখী হয়ে পড়ছে এবং বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তিতে চাপে পড়ছে। অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি ‘ক্রাউডিং আউট’ বা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সরকারের নিয়মিত ঋণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়ে সমালোচনা করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রকে জনগণের কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন। এর মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের এ শোষণমূলক চরিত্র পরিবর্তন করে জনকল্যাণমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কোনো খাতেরই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, দেশে বারবার গণঅভ্যুত্থান ঘটলেও অর্থপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আসেনি। এতে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অধৈর্য বাড়ছে। শুধু অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামো, জাতীয় পুনর্জাগরণের কর্মসূচি ও নিবেদিত নেতৃত্ব।

দেশের বর্তমান সংকটের দ্রুত সমাধান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। রাতারাতি কোনো জাদুকরি সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংশোধন এবং ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অনৈতিক যোগসাজশ বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।

খেলাপি ঋণ আদায় ও সুশাসনে জোর

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা।

তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পাহাড়, সুশাসনের অভাব, মূলধনসংকট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের ব্যাংক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে অনেক ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। অন্যদিকে, কিছু ব্যাংকে তীব্র তারল্যসংকট থাকলেও পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে।’

এই সংকট কাটাতে খেলাপি ঋণ আদায়, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%