ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৪:৩৩ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় পুলিশ বিপন্ন বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ দক্ষিণাঞ্চলের বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের মূল হোতা সুমন আকন (৪৫) কে আটক করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়ার মুসলিমপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত তক্ষকটি বন বিভাগের সহায়তায় অবমুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সুমন আকন ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকার বারেক আকনের ছেলে। সুমন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যপ্রাণী ও তক্ষক চোরাচালান সিণ্ডিকেটের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে আসছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়িতে তক্ষক বেচাকেনার গোপন খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার দুপুরে তার বসতবাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তার ঘর থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করা হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রাখায় তাকে আটক করা হয়। এই অভিযানে অংশ নেন ভাণ্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন হোসেন, কামরুজ্জামান ও রফিক।
তক্ষকটি উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণীটির সুরক্ষায় সেটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এরপর স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তক্ষকটিকে সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে (বনে) অবমুক্ত করেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে আটককৃত সুমনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, এটি সুমনের প্রথম অপরাধ নয়। এর আগে ২০২৩ সালের ২৫ জুন রাতে সুমনসহ আরও চারজনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ মূল্যের তক্ষকসহ আটক করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সে সিণ্ডিকেট আরও শক্তিশালী করে চোরাচালান চক্রের হাল ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করলে প্রয়োজনে বাঘের গর্জন করা হবে। তিনি বলেন, কিছু কিছু স্থানে যেটা দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি এমপি যারা বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধীদলের এমপিরা কিন্তু তা পাচ্ছেন না। এটা মোটেও হতে পারে না। আমরা আগেও এমন বৈষম্য দেখেছি তবে এখন এই ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনা সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
নেত্রকোনা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। এখানে আছে সাদামাটির পাহাড়, সিলিকন বালি কিন্তু কোনো কলকারখানা নেই।
মাদকের বিস্তার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক কোন এলাকা দিয়ে আসে। তিনি তা বন্ধ করছেন না। তিনি আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন। তিনি ইচ্ছে করলেই তাঁর এলাকা দিয়ে মাদক আসা বন্ধ করতে পারেন।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি বিল আনছে। আমরা চাই, মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে। আর শুধু যুব সমাজ নয়, বৃদ্ধরাও এখন মাদকে আসক্ত হচ্ছে।’
ফুটপাত দখল করে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে দিয়ে পুশইন করার চেষ্টা করছে। আমরা তা প্রতিহত করছি। বিজিবির পাশাপাশি আমরা আমাদের জায়গা থেকে বুকের সখ্যতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো। দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়বো না, ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে সরকারই ক্ষমতায় আসে সে সরকারই বলে, আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু কোথায় পরিস্থিতি ভালো তা আমরা জানি না।’
জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির ডা. আবুল হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ তো বটেই, সম্ভবত নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে এবারের আসরের ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ কেপ ভার্ডে। আগামীকাল ভোরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। বিশ্বের অন্যতম ফুটবল শক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার কথা বললেন কেপ ভার্ডে কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘বুবিস্তা’ হিসেবে পরিচিত।
প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্ডেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখতে শুরু করেছে। তবে এটি একমাত্র ‘ভদ্রতা’ নয়। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে গ্রুপপর্বে কোনো ম্যাচ হারেনি মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। কেপ ভার্ডে কোচ মন্তব্য করেন, এখন আর অন্য দলগুলো আমাদের দুর্বল দল হিসেবে দেখে না। তার মতে, দলটি নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে এই সম্মান অর্জন করেছে।
বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে কেপ ভার্ডে কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এই সম্মানটা (বড় দলগুলোর কাছ থেকে) অর্জন করে নিয়েছি।’ গ্রুপ পর্বে স্পেনের পরে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে কেপ ভার্ডে। সৌদি আরব এবং উরুগুয়েকে পেছনে ফেলে তারা অপরাজিত থেকেই শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে। সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি কঠিন পরীক্ষা তাদের অপেক্ষা করছে, বিষয়টি অনুভব করছেন বুবিস্তা। পাশাপাশি তিনি আত্মবিশ্বাসীও।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, এটা খুব কঠিন ম্যাচ হবে। আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে। তবে আমাদের অবশ্যই সেরাটা খেলতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুযোগ খুঁজতে হবে।’ কেপ ভার্ডের কোচের মতে, শক্ত রক্ষণই দলের অন্যতম ভরসা। যদিও শুধু রক্ষণের উপর আটকে থাকলে চলবে না, সুযোগ মিললে আক্রমণেও যেতে হবে। ‘পুরো ম্যাচজুড়ে আমরা চাই খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুক। এটা সব সময় সহজ নয়, তবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আমরা দেখিয়েছি যে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো খেলতে পারি।’
আফ্রিকার কিছু দল শেষ সময়ে গোল হজম করে বিদায় নেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তাই শেষ বাঁশি পর্যন্ত একই মানসিকতা ধরে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের আমরা সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করি। অনেকেই মনে করেন যে যখন এক দল স্পষ্ট ফেভারিট, তখন অন্য দল হয়তো আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু আমরা সেটা করতে মাঠে নামছি না।’
আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্ডে ম্যাচের বিজয়ী দলের সামনে শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া এবং মিশরের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের সাথে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনা জেলায় অনুষ্ঠিত ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এ সরকার গণভোটের রায় মানতে বাধ্য হবে। ইনশাআল্লাহ!” তিনি আরও বলেন, সরকার কিছু সময় নিচ্ছে, তবে আমরা বিশ্বাস করি জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় সরকার বাস্তবায়ন করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক রুকনকে হযরত ইব্রাহিম (আ:)-এর মতো ত্যাগী এবং বিপদে সুদৃঢ় থাকার অনুশীলন করতে হবে। বর্তমানে সরকার, কিছু গোষ্ঠী, এমনকি কিছু আলেম উলামাও আমাদের বিরোধিতা করে। কিন্তু এসব নিয়ে আমরা ভাবছি না। সমালোচনার জবাব দেওয়ার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। আমাদের প্রচুর কাজ করতে হবে। তবে যেসব সমালোচনা আমাদের চলার পথে মঙ্গল বয়ে আনবে, তা আমরা গ্রহণ করব।
তিনি মহানবী (সা.) এর মক্কা বিজয়ের পর অমুসলিমদের সাধারণ ক্ষমার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ক্ষমাই ইসলামের সৌন্দর্য।” এটা মহানবী (সা.) মক্কা বিজয়ের পর প্রমাণ করেছেন। আপনাদের ত্যাগের মাধ্যমেই এ দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।
মহিলা রুকনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মহিলাদের ত্যাগ এ সংগঠনের আরো মজবুতি বৃদ্ধি পাবে। গত নির্বাচনে তাদের অবদান ছিল স্মরণীয়।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলা পাবলিক হলে ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলন শুরু হয়। এতে জেলার নারী-পুরুষ সহ ছয় শতাধিক রুকন (সদস্য) অংশগ্রহণ করেন।
জেলা আমির অধ্যাপক ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল আমীনের সঞ্চালনায় মহাগ্রন্থ আল কুরআনের দারসের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের জনগণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি জানাচ্ছে, শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ নিয়ে আসা হয়।
এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠান আগামী ৬ দিন ধরে তেহরান, কোম, ইরাকের নাজাফ এবং ইরানের মাশহাদে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ বলছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন।
তাদের ভাষ্যে, এটি আধুনিক ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য ও জনসমর্থনের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হতে পারে।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের সূচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ