ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না : অর্থমন্ত্রী


ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না : অর্থমন্ত্রী

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয় নিয়ে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনও ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাবে এবং প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীর হাতেই থাকতে হবে, এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে। আজকের সভায় তিনি এমন তথ্য দেন। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রমের তদারকির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেযা হয়েছে। কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ছিল, কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে কোনওভাবে দলীয় সম্পৃক্ততার সুযোগ থাকবে না। সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির জন্য দায়িত্বশীল থাকবেন। অর্থমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তিতে সহায়তা দেওয়ার জন্য এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের এই বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের জীবনে কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ, এই সহায়তা তাদের দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কেমন ভূমিকা রাখছে, সেটি পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের এত বড় ব্যয়ের একটি কর্মসূচির সুফল প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং সেই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাজেটের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে সরকার কাজ করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল শুধু একটি বিশেষ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু তদারকি ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি একটি দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্য মারা যায় এবং পরিবারের দায়িত্ব একজন পিতা একাই নিয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এমন বিষয়গুলো নীতিমালায় বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। এসব কার্ডধারী কৃষকরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, অর্থসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প: মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প: মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ জাতীয় সংসদে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প।

মন্ত্রী বলেন, সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩৩ সালের মধ্যে বর্ণিত সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে, উক্ত সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আজ জামালপুর-৩ আসনের সরকার দলীয় সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, এ লক্ষ্যে নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় নিম্নোক্ত সম্ভাব্য অ্যালাইনমেন্টসমূহ বিবেচনা করা হবে:

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা হতে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ। আবার গাইবান্ধা জেলার বালাসী ঘাট হতে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, কিংবা সমীক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারিত অন্য কোনো উপযুক্ত করিডোর।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তকরণসহ সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, শিক্ষা ও জলবায়ু কার্যক্রমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

 সারাহ কুক তার নিজ কার্যালয়ে হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উভয় পক্ষ এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 বৈঠকের মধ্যে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 হুমায়ূন কবির বাংলাদেশের এবং যুক্তরাজ্যর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জানান, আগামী বছরগুলোতে এ অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদী।

 ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের জন্য নিজেদের প্রতিশ্রুতি জানান।

 এ সময় উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখো তরুণ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখো তরুণ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আজ সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

তিনি গত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং স্থায়ী নির্দেশনাতে দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তা দ্রুত পর্যালোচনা করার প্রয়োজন।

ড. মুহিত বলেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের সময় ঢাকা শহরের মেগা সিটিতে শুধু জানমালের ক্ষতি হবে না, বরং ভেঙে পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থা। এজন্য, তিনি বলেন, ঝুঁকি মোকাবেলায় লাখো তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করতে হবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই গোলটেবিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক।

সভায় ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং ইউনিসেফ-এর চিফ অফ হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাই প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির উদাহরণ দিয়ে বলেন, রানা প্লজা ছিল ১০ তলা ভবন। সেই ভবন ধসের পর দেখা গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহত হওয়ার ভয়াবহ চিত্র। তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে যদি এমন ১০০ বা ২০০ ভবন ধসে পড়ে, তাহলে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করাও কঠিন।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পের ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে এবং বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এখানে যাতে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে সেই গুরুত্বের দিকে তিনি নির্দেশ দেন।

দুর্যোগকালীন দায়িত্বের আইনি অস্পষ্টতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুর্যোগ বিষয়ক আইনটি রিভিউ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই খাতে কর্মরত আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং প্রকৌশলীরা যদি এই আইনকে আপডেট করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।

এ সময় তিনি জরুরি চিকিৎসার পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষ শুধু শারীরিকভাবে আহত হয় না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরাও তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হতে পারেন। আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনায় এই সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, যা যুক্ত করা জরুরি।

ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখ লাখ তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গঠন এবং তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা হাব হওয়ার সম্ভাবনা সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজীপুরে 'ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ' চালু করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ বন্যাপ্রবণ এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আরও বেশি ফিল্ড রিসার্চ কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি ‘হাব’ হয়ে উঠতে পারে এবং অন্যান্য দেশ আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অর্থের অনধিক ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা প্রদান এবং ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট আজ পাস হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মোট বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি পেয়েছেন বলে চলতি অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

সম্পূরক বাজটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সম্পূরক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন।

আজ নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে এ বাজেট পাস করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে পাস হয়।

বিল পাসের আগে বিধান অনুযায়ী ২৫টি মঞ্জুরি দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ সংসদে উত্থাপন করেন, যার পর পৃথক পৃথকভাবে পাস করা হয়। এসব দাবির ওপর বিরোধীদলের ২০ জন সদস্যের আনীত ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের মধ্যে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আনীত মঞ্জুরি দাবির ওপর আনীত ছাটাই প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), মো. আব্দুল গফুর (কুষ্টিয়া-২), মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬), মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), জিএম নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), মো. আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), আলফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২), মো. আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), মো. আব্দুল বারী সরদার (রাজশাহী-৪), মো. মাসুদ পারভেজ (চুয়াডাঙ্গা-১), মো. রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২), শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) (বাগেরহাট-২), এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪), খেলাফত মজলিশের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।

কিন্তু কণ্ঠভোটে সকল ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

সম্পূরক বাজটে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার টাকা রয়েছে অর্থ বিভাগ খাতে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় রয়েছে ১২ হাজার ৪০৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পরিকল্পনা বিভাগ খাতে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় ৪ হাজার ৯২৩ কোটি ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে ২ হাজার ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা, পঞ্চম সর্বোচ্চ ব্যয় ১ হাজার ৮০৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় খাতে রয়েছে।

এছাড়া জাতীয় সংসদ খাতে ১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট খাতে ১৯ কোটি ৭৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খাতে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় খাতে ২২০ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার টাকা, নির্বাচন কমিশন খাতে ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ খাতে ৭২২ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন খাতে ৩০ কোটি ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় খাতে ১১২ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ খাতে ১৫ কোটি ৬৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ খাতে ২১ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতে ৩০১ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাতে ৫৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ খাতে ৮৪ কোটি ৭৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, জননিরাপত্তা বিভাগ খাতে ১৭১ কোটি ৬৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ খাতে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ২৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ৭৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় খাতে ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ৯৭ কোটি ৭১ লাখ ৩ হাজার টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় খাতে ৬৮৩ কোটি ৯১ লাখ ৩ হাজার টাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ১২২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন খাতে ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সম্পূরক বাজেটের ওপর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংক্ষিপ্তাকারে সমাপনী বক্তৃতা শেষে সম্পূরক বাজেট পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পৃথক পৃথকভাবে মঞ্জুরি দাবি পাসের পর নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট পাস করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%