১০:১৫ পি.এম
আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয় নিয়ে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনও ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাবে এবং প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীর হাতেই থাকতে হবে, এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে। আজকের সভায় তিনি এমন তথ্য দেন। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রমের তদারকির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেযা হয়েছে। কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ছিল, কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে কোনওভাবে দলীয় সম্পৃক্ততার সুযোগ থাকবে না। সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির জন্য দায়িত্বশীল থাকবেন। অর্থমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তিতে সহায়তা দেওয়ার জন্য এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের এই বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের জীবনে কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ, এই সহায়তা তাদের দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কেমন ভূমিকা রাখছে, সেটি পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের এত বড় ব্যয়ের একটি কর্মসূচির সুফল প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং সেই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাজেটের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে সরকার কাজ করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল শুধু একটি বিশেষ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু তদারকি ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি একটি দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্য মারা যায় এবং পরিবারের দায়িত্ব একজন পিতা একাই নিয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এমন বিষয়গুলো নীতিমালায় বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। এসব কার্ডধারী কৃষকরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, অর্থসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন