হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি
০৪:১৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মুঠোফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকার রাজিব হোসেন রাজু (৩০) এবং আব্দুল্লাহপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার আবু সাঈদ (৩৪)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া একটি স্মার্টফোন, নগদ দুই হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি চাপাতি।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক জানান, রবিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে মো. সুজন মিয়া (৩২) ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পালড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর গাজীরচট এলাকায় বসবাস করছেন।
ঘটনার দিন সুজন মোটরসাইকেল নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গতি কমালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। তখন ধারালো চাপাতি ও চাকু দেখিয়ে তারা তার মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে এক ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে সুজনের বাঁ হাতের কবজির ওপর দুটি কোপ দেয়, যার ফলে তার হাত গুরুতর জখম হয়। পরে ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা দুটি মুঠোফোন ও নগদ আট হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুজন মিয়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এএসআই সুজেল মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাজিব হোসেন রাজু ও আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাজিবের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অনার এক্স৯এ স্মার্টফোন ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর আসামি আবু সাঈদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া নগদ দুই হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আর্চারি দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভূতপূর্ব সাফল্য ও স্বর্ণালী গৌরব নিয়ে দেশে ফিরে এসেছে। ইরাকের সুলাইমানিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক জয় করেছে লাল-সবুজের আর্চাররা। বিশেষ করে রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে কাজাখস্তানকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের স্বর্ণজয়ের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এশিয়া জয়ের পর আর্চারদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক সেরা মঞ্চগুলোতে দেশের জন্য পদক আনা।
রবিবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে আর্চারি দল। দেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাদের উষ্ণ ও সাড়ম্বর সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ এবং যুগ্ম সম্পাদক রুবেল হোসেন।
সুলাইমানিয়ায় অনুষ্ঠিত এবারের আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণ জয়ের এক অনন্য নজির গড়েছেন বন্যা আক্তার। নারী কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ফাইনালে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারিয়ে বাজিমাত করেন তিনি। পাশাপাশি নারী দলীয় ইভেন্টেও স্বর্ণপদক নিজেদের পকেটে পুরেছেন বাংলাদেশের কন্যারা।
অন্যদিকে, পুরুষদের রিকার্ভ দলীয় ইভেন্টে আব্দুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফির সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশ দল কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে বিধ্বস্ত করে ঐতিহাসিক স্বর্ণ নিশ্চিত করে। এছাড়া ব্যক্তিগত ইভেন্টে কুলসুম আক্তার মনি অর্জন করেন ব্রোঞ্জপদক।
দেশের মাটিতে পা রেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বন্যা আক্তার বলেন, ‘এটা আমার প্রথম ব্যক্তিগত এশিয়া কাপের স্বর্ণপদক। এই সাফল্য আগামীতে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে। এখানকার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রতিযোগিতায় কাজে লাগাতে চাই।’
রিকার্ভ পুরুষ দলের ঐতিহাসিক স্বর্ণজয়কে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ফসল হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন দলের অন্যতম আর্চার সাগর ইসলাম। সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপেও এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাফল্য অব্যাহত রাখতে চান তারা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্নের কথা জানান তিনি। তবে এবারের প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতির কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ ফল না পাওয়ার খানিকটা আক্ষেপও রয়েছে তাদের কণ্ঠে।
দলের প্রধান কোচ ফ্রেডেরিক মার্টিনের চোখে এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন তরুণ আর্চারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন। নিজের সমীকরণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান দলের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যই ছিলেন তরুণ ও নতুন মুখের। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ও বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয়েছিল। গ্যালারির বিশাল দর্শক, উচ্চশব্দের ঘোষণা এবং বড় ভিডিও স্ক্রিনের সামনে আন্তর্জাতিক ফাইনাল খেলার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুব এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস করেন এই কোচ।
এদিকে দেশের ক্রীড়াবিদদের মানোন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা ও পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবান প্রায় ৩০০ জন নিবন্ধিত খেলোয়াড়কে বর্তমানে মাসিক ১ লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে নির্বাচিত তরুণ খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও বিশ্বমানের আধুনিক প্রশিক্ষণের যাবতীয় দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ও প্রতিযোগিতা সূচি অনুযায়ী বছরব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চ থেকে পদক নিয়ে আসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ মন্তব্য করেছেন যে, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ৩০ তারিখে অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। তবে নির্বাচনের দিন প্রমাণিত হয়েছে যে, বিগত আট মাসে সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ও সঠিক রাজনীতিকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেছে এবং বিরোধীদের অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করেছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বগুড়া যুব ভবনে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে যুবসমাজকে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এআই এমন একটি প্রযুক্তি, যা দিয়ে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর অপপ্রয়োগ করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে নস্যাৎ করতে চায় একটি কুচক্রী মহল। জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুথানের পর ফ্যাসিস্টমুক্ত এই বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত গুজব ও অপপ্রচার রুখতে দেশের যুবসমাজকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো বেশি তৎপর হতে হবে।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী বগুড়ার এসপি ঘাট এলাকায় করতোয়া নদী পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদীর খনন কাজ শুরু হবে। একনেকে অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ২৯৪ কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন করা হবে। এর ফলে বগুড়া শহরের রূপ বদলানোর পাশাপাশি নদীমাতৃক বাংলাদেশের হারানো প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বগুড়ার যৌথ আয়োজনে যুব ভবন হলরুমে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার দাবি, অপহৃত জেলে-বাওয়ালিদের উদ্ধার এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় আন্দোলন শুরু হয়েছে। জেলার শ্যামনগরে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও বনজীবীরা।
রবিবার (১ নভেম্বর) ছিল কর্মসূচির শেষ দিন। এদিন তারা মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার দাবি জানান।
সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজারে এবং সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাবুরা ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করতে গেলে বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কিছু বাহিনী নৌকাপ্রতি ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি দাবি করছে। টাকা দেওয়ার পর জেলেদের হাতে নির্দিষ্ট নম্বর লেখা কাগজ বা নোট দেওয়া হয়, যা দেখিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়। টাকা দিতে না চাইলে মারধর, নির্যাতন ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলেরা জানান, একাধিক বাহিনীকে টাকা দিতে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের আয় থেকে বড় অংশই চলে যাচ্ছে। ফলে অনেককে ঋণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। সামনে শুঁটকি মাছের মৌসুম আসলেও বনদস্যুদের ভয়ে অনেকে বনে যেতে পারছেন না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এক জেলে বলেন, বনে যাওয়ার আগে স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে বনদস্যুদের টাকা দিতে হয়। এক লাখ টাকা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট নম্বর লেখা নোট দেওয়া হয়। সেটি ছাড়া বনে গেলে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার ভাষ্য, বিভিন্ন বাহিনীকে টাকা দিতে গিয়ে জেলেদের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক জেলে জানান, আগে একটি বাহিনীকে টাকা দিলেই চলতো, কিন্তু এখন একাধিক বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কেউ ৭০ হাজার, কেউ ৮০ হাজার; কেউ আবার এক লাখ টাকারও বেশি দাবি করছে। এভাবে টাকা দিয়ে বনে মাছ ধরতে গেলে তাদের হাতে তেমন কিছুই থাকে না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সালাউদ্দিন লিটন বলেন, বনদস্যুমুক্ত সুন্দরবনের দাবিতে আমরা পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। আজ (রবিবার) কর্মসূচির শেষ দিন। এদিন ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান সমন্বয়ক জানান, আগামীকাল সোমবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানানো হবে।
তিনি বলেন, কোস্টগার্ড, বনবিভাগ, নৌপুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হলে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং কার্যালয় অবরোধ করা হবে বলে জানান সালাউদ্দিন লিটন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও থানা পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে সুন্দরবনের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ