প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
তিনি গত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং স্থায়ী নির্দেশনাতে দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তা দ্রুত পর্যালোচনা করার প্রয়োজন।
ড. মুহিত বলেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের সময় ঢাকা শহরের মেগা সিটিতে শুধু জানমালের ক্ষতি হবে না, বরং ভেঙে পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থা। এজন্য, তিনি বলেন, ঝুঁকি মোকাবেলায় লাখো তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই গোলটেবিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্ক।
সভায় ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং ইউনিসেফ-এর চিফ অফ হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাই প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির উদাহরণ দিয়ে বলেন, রানা প্লজা ছিল ১০ তলা ভবন। সেই ভবন ধসের পর দেখা গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহত হওয়ার ভয়াবহ চিত্র। তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে যদি এমন ১০০ বা ২০০ ভবন ধসে পড়ে, তাহলে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করাও কঠিন।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকম্পের ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে এবং বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এখানে যাতে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে সেই গুরুত্বের দিকে তিনি নির্দেশ দেন।
দুর্যোগকালীন দায়িত্বের আইনি অস্পষ্টতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুর্যোগ বিষয়ক আইনটি রিভিউ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই খাতে কর্মরত আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং প্রকৌশলীরা যদি এই আইনকে আপডেট করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।
এ সময় তিনি জরুরি চিকিৎসার পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষ শুধু শারীরিকভাবে আহত হয় না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরাও তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হতে পারেন। আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনায় এই সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, যা যুক্ত করা জরুরি।
ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় লাখ লাখ তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গঠন এবং তাদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ গবেষণা হাব হওয়ার সম্ভাবনা সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজীপুরে 'ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ' চালু করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ বন্যাপ্রবণ এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আরও বেশি ফিল্ড রিসার্চ কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি ‘হাব’ হয়ে উঠতে পারে এবং অন্যান্য দেশ আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন