ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া


বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা লাশ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে দেশে প্রবীণদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, একজন মায়ের এমন পরিণতি হচ্ছে শুধুমাত্র একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণ সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার উপরও আলোকপাত করেছে।

ড. শামারুহ মির্জা জানান, প্রবীণদের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, বয়স্ক নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।

আরও পড়ুন: সততার কারণে এক বছরে দুই বার বদলি

শামারুহ মির্জা তার লেখায় প্রবীণদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রবীণ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে জীবন কাটাতে চান। সেজন্য বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্য সেবা, খাবার সরবরাহ এবং চলাচলে সহায়তার মতো সেবাগুলো বৃদ্ধি করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক একাকিত্ব দূর করতে কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রম চালনার পরামর্শ দেন।

ড. শামারুহর দাবি, দেশে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সেইজন্য প্রবীণদের স্বাস্থ্য, আবাসন, আয় এবং সামাজিক চাহিদার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা তৈরি করা একান্ত দরকার।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিশেষ স্বাস্থ্যসুবিধা কার্যকর করা, পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

ড. শামারুহ মির্জা তাঁর কথায় বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বাবা-মায়ের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যরা যতদিন সম্ভব প্রবীণ স্বজনদের পাশে থাকবেন—এটাই প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব না হলে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতি শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য দুঃখজনক এবং এটি ভবিষ্যতে প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, বেশ কয়েকজন নিহত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। বর্বর এই হামলায় আহতের সংখ্যা বেশ কয়েকজন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি গাড়ির ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার পর গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। একই দিনে মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকাতেও আলাদা হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আরও কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এসব হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের সামরিক অভিযান মূলত হামাসের যোদ্ধা ও অবকাঠামোর দিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চলমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। অস্ত্র সমর্পণ, সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতপার্থক্যের কারণে সমাধান এখনও দূরের কথা।

চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ : বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি, পরিসংখ্যান কী বলছে?

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের উদ্দেশ্য হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যদি দুই ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের জন্য ইতিহাস রচনা হয়ে যাবে। তবে, মেয়েদের সেমিফাইনাল পার করার বিষয়টি নিয়ে কিছু সংশয় আছে। বাংলাদেশের নারী দল এবং নেপাল এর পূর্ববর্তী দুই আসরে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কিন্তু এবার ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ বুধবার দুই দেশের মেয়েরা সেমিফাইনালে লড়াই করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের সামনে উভয় মুখোমুখি হয়ে টানা তিনবার অর্থাৎ ফাইনাল খেলার সুযোগ রয়েছে। আগের দুই আসরে বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদের মাটিতেই। কিন্তু এইবার প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের সঙ্গে আবারও হারানো যাবে কি না এবং ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাবে কি না। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে এবং টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে, তবে সেমিফাইনাল নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৪ সাল থেকে ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য তাঁদের চিন্তা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাসটি বেশ দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর। সাফের এখন পর্যন্ত সাতটি আসরের পরিসংখ্যান দেখালে দেখা যায়, দুই দল মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে নেপাল জয় পেয়েছে তিন ম্যাচে এবং বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুই ম্যাচে। নেপাল মোট ৯টি গোল দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ৫টি গোল দিয়েছে।

২০১০ সালে বাংলাদেশে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালকে স্মরণ করতে হয়, যেখানে বাংলাদেশ এবং নেপাল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালের কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে দুই দলের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। ২০১৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসরে সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেবার বাংলাদেশ নেপালের কাছে আবার হেরে যায়, কিন্তু ম্যাচটি ছিল তুমুল লড়াই এবং বাংলাদেশ ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল, যা সাজানা রানার ৫৬ মিনিটে করা পেনাল্টি গোলের কারণে হয়েছিল।

ভারতে ২০১৬ সালে চতুর্থ সাফে এই দুই দলের দেখা না হলেও, ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে গ্রুপ পর্বে তারা আবার মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ষষ্ঠ আসরে গল্পটি পুরোপুরি বদলে যায়। কাঠমান্ডুতে ঐতিহাসিক ফাইনালে বাংলাদেশ নেপালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবার সাফের শিরোপা জয় করে।

২০২৪ সালে সর্বশেষ আসরেও তারা মুখোমুখি হয়, আবার কাঠমান্ডুতে ম্যাচ খেলে, যেখানে বাংলাদেশ নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে। দুটি আসরের ফাইনালে দেখা হওয়ার পর, ১২ বছর পর আজ আবারও তারা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যদি জয়লাভ করে, তবে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্য পূরণ হবে এবং তারা ফাইনালে প্রবেশের টিকিট পাবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যাচটি শুরু হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে পাকিস্তান বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে পাকিস্তান বিপাকে

গত এপ্রিল মাসে জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ একটি মসজিদ উদ্বোধন করেন। তবে জাপানের স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদটি জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগোয়ে এলাকায় অবস্থিত।

জাপানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে, টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এই মসজিদ প্রকল্প থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেয়।

জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য আসাহি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাওয়াগোয়ে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার পাহাড়ি বনভূমির ওপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, এই অঞ্চলটি মূলত একটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকা, যেখানে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কাওয়াগোয়ে সিটি কর্পোরেশন এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নগর পরিকল্পনা আইনের তোয়াক্কা না করে এবং নগর প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ ছাড়পত্র বা অনুমতি ছাড়াই এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পাকিস্তান দূতাবাস গত ৩১ মে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা রাষ্ট্রদূতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, জাপানি আইন মেনে সব ধরনের সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে গিয়েছিলেন বলেও দূতাবাস স্পষ্ট করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের সাথে পাকিস্তান সরকারের কোনো আর্থিক বা সাংগঠনিক সংযোগ নেই।

এদিকে, জাপানের প্রাচীনতম ‘ইয়াশিও মসজিদ’ কমিটির প্রতিনিধি শাকিল শেখ মোহাম্মদ এই প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া এভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করা মোটেও সঠিক কাজ নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় জাপানি অধিবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের আইন মেনে চলার মাধ্যমেই একটি মসজিদের পবিত্র পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।

এই বিতর্কের জেরে, টোকিওর পাকিস্তান দূতাবাস গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাপানে বসবাসরত সকল পাকিস্তানি নাগরিককে ধর্মীয় স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে জাপানি আইন ও স্থানীয় সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ কী, কেন এটি দখল করল ইসরায়েল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ কী, কেন এটি দখল করল ইসরায়েল?

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশটির ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনা রবিবারে ঘটেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই দখল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বারবার ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, গ্যালিলি অঞ্চলের জনপদগুলোর ওপর নজর রাখায় ব্যবহৃত পাহাড়চূড়াগুলোতে আবারও ইসরায়েলের পতাকা উড়ছে।

বিউফোর্ট দুর্গটি, আরবিতে ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামে পরিচিত, দক্ষিণ লেবাননের একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো একটি দুর্গ। এই দুর্গটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার (২,৩০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি ১২শ শতকে ক্রুসেডারদের দ্বারা নির্মিত ছিল। এখানে থেকে লিটানি নদীর দিকে নজরদারি করা যায়।

পুরোনো ফরাসি ভাষায় ‘বিউফোর্ট’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর দুর্গ’। শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে এই দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন শক্তির হাতে ছিল। ক্রুসেডারদের পর এটি বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উঁচু অবস্থানে থাকার কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই স্থানকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত করতেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে আগ্রাসনের সময় ইসরায়েল দুর্গটি দখল করে নেয়। পরে দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী ২০০০ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।

বিউফোর্ট দুর্গের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়াহর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এই দুর্গ এবং এর আশপাশের রিজ এলাকা দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত। এতে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর ইসরায়েলকে নজরদারির সুযোগ পাবে।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, দুর্গটির অবস্থান থেকে নাবাতিয়াহ শহরের আশপাশের প্রায় সব শহর ও গ্রাম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। একইসাথে পশ্চিম বেকা উপত্যকা, অধিকৃত গোলান মালভূমি ও উত্তর গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত দেখা সম্ভব।

ওবাইদা হিত্তো আরও বলেছেন, নতুন এই পর্যবেক্ষণ সুবিধার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে।

বর্তমানে, দক্ষিণ লেবাননে কি ঘটছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৪১২ জন নিহত এবং ১০,২৬৯ জন আহত হয়েছেন। বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পূর্বে কয়েক দিন ধরে দখলদার ইসরায়েল বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরার হিসাব অনুসারে, রবিবারই দক্ষিণ লেবাননে ৩৬টির বেশি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, ফলে ইসরায়েল ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার (৭৭০ বর্গমাইল) লেবানিজ ভূখণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে, যা দেশটির মোট আয়তনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

গত সপ্তাহে, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভেতরে আরও গভীর সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এটিকে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ইসরায়েলির সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। রবিবার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আবারও লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জোরপূর্বক স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করা হয়। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে হৌমিন আল-ফাউকা, বনাফৌল, আরব সালিম, রুমিন, আজ্জে, আরকে এবং জাবা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%