ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে নীতি সহায়তার দাবি অংশীজনদের


বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে নীতি সহায়তার দাবি অংশীজনদের

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সংস্কার, কর ছাড় এবং অবকাঠামো সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন খাতের অংশীজনরা। তারা এই দাবি তুলেছেন, যেন দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।

বিএনপি সরকার নির্বাচনী বিজয়ের পর প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, বিমান ও পর্যটন খাতের জন্য কেবল আর্থিক বরাদ্দ নয়, বরং একটি সুসংগত ও স্থিতিশীল নীতি কাঠামোর প্রয়োজন। যার ফলে এই দুটি খাত অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিমান পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং বিমান ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনায় কর সুবিধা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে, পর্যটন খাতের অংশীজনরা দাবি জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার।

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ, পাস হলো ৬টি বিল

খাতসংশ্লিষ্টরা বাসস’কে জানান, আসন্ন বাজেটটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার মূল পরীক্ষা হবে। বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাব এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষম পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিমান চলাচল খাতের নেতারা ইংগিত করছেন যে, উচ্চ জ্বালানি কর এবং পরিচালন ব্যয় স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেছেন, সরকারের উচিত বিমান জ্বালানিতে একটি পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা চালু করা এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এয়ারলাইনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, করের চাপও বেড়েছে। জেট ফুয়েলের ওপর যৌক্তিক ও স্থিতিশীল কর কাঠামো পরিচালন ব্যয় কমাতে, যাত্রীদের চাহিদা বাড়াতে এবং বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করতে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন: এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়িয়ে বিল পাস

মফিজুর রহমান জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর কমানো এবং বিমান-সংক্রান্ত শুল্ক যৌক্তিক করার দাবিও জানিয়েছেন।

শিল্প অংশীজনরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করতে পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

বিমান বিশ্লেষক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালটি চালু করতে হলে জনবল নিয়োগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার প্রস্তুতির ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণ আর সেটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা ভিন্ন বিষয়।’ দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১,১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করতে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো লজিস্টিকস, নেভিগেশন অবকাঠামো এবং ডিজিটাল বিমান ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের আহ্বান করা হয়েছে।

পর্যটন অংশীজনরা নতুন উদ্যোগ ঘোষণার চেয়ে বিদ্যমান নীতি ও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

তারা জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবারাং (কক্সবাজার) সমন্বিত পর্যটন অঞ্চলসহ ইকো ট্যুরিজম, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন ও উপকূলীয় পর্যটন উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য পর্যটন সরঞ্জাম, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং আতিথেয়তা অবকাঠামোর ওপর কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে পিপিপি ভিত্তিতে অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভা

তিনি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

টোয়াবের পরিচালক ড. মো. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান সত্ত্বেও পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতে আরও বেশি গুরুত্ব এবং উন্নয়ন বাজেটের বড় বরাদ্দ দরকার। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের সফলতা নির্ধারণ করবে।’

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস

তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন পরিবহণ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।

অংশীজনরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল্যায়ন হবে বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং এটি নীতি সংস্কারের মাধ্যমে উভয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে।

তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন শিল্পে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬’ পাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক যুগ ধরে শিকলবন্দি রয়েছেন পাবনার নূরী খাতুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


এক যুগ ধরে শিকলবন্দি রয়েছেন পাবনার নূরী খাতুন

প্রায় এক যুগ ধরে জানালা এবং দরজা ছাড়া বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরে এক বাহ্যিক অযত্নের মধ্যে শিকলবন্দি হয়ে আছেন নূরী খাতুন (৫৫)। অনাহারে ও অর্ধাহারে তার দিন কাটছে। এটা যেন দেখার কেউ নেই।

এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে। নূরী খাতুন ওই গ্রামের মৃত লবা প্রামানিকের মেয়ে।

তিনি প্রায় এক যুগ ধরে নিজ ঘরে বন্দি থেকে জীবন অতিবাহিত করছেন। তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন যে, প্রায় ৪০ বছর ধরে ডাক্তার, কবিরাজ এমনকি মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না আসায় প্রায় এক যুগ ধরে শিকলবন্দি করে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নূরী খাতুনকে রাখা হয়েছে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন ঘরে। এই ঘরের কোনো জানালা, দরজা ও আলোর ব্যবস্থা নেই, ফলে দিনেও অন্ধকারে থাকতে হয়। অবহেলা এবং অনাহারে কাটছে তার দিন। প্রকৃতির ডাক এলে ঘরের মেঝেতে কাজ সারেন। দুরগন্ধে ঘরে প্রবেশ করা দায়- এ যেন মানবিকতার চরম বিপর্যয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসহায়ত্ব বা অন্য কোনো অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

স্থানীয়দের দাবি, নূরী খাতুনের প্রতি তার পরিবার দীর্ঘকাল ধরে অত্যাধিক অমানবিক ও নির্মম আচরণ করে আসছে। একজন অসুস্থ ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা এবং চিকিৎসার পরিবর্তে শিকলবন্দি রাখার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, বিষয়টি অমানবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর চায়ের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও, এবার চায়ের গুণগত মানও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে জেলার ছোট-বড় ৯৩টি চা বাগানে শুরু হয়েছে পুরোদমে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-বাগান।

বাগানজুড়ে সবুজ কচি চা-পাতার সমাহার। চলতি বছর চা উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই আগাম বৃষ্টিপাত এই জেলার চা শিল্পে আশার আলো জাগিয়েছে।

চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে এসে দুহাত ভরে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানের নারী শ্রমিকরা।

গত বছরের এই সময়ে জেলার সবকটি বাগানে এমন সবুজের সজীবতা ছিল না।

পর্যাপ্ত চা-পাতার অভাবে তখন নারী শ্রমিকদের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা (নিরিখ) পূরণ করা কঠিন ছিল।

তবে এবার ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রায় চায়ে ব্যাপক সফলতা এসেছে।

খুশি মনে শ্রমিকরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাতা উত্তোলনের কাজ করছেন।

সেই সাথে কারখানাগুলোতেও পুরোদমে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ভাড়াউড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতাসহ একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চা গাছে পর্যাপ্ত কচি পাতা রয়েছে।

তারা জানান, প্রতিদিন একেকজন শ্রমিক ২৫ থেকে শুরু করে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাতা উত্তোলন করতে পারছেন।

চা শ্রমিক সর্দার উত্তম জানান, সামনের মাসগুলোতে আরও বেশি পাতা পাওয়া যাবে।

ভালো পাতা পাওয়ায় নারী শ্রমিকরা সহজেই নিরিখ পূর্ণ করতে পারছেন, এতে সবাই বেশ খুশি।

চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছেরাগ আলী মাস্টার উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ভালো হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি বাগানে পোকামাকড়ের আক্রমণের কথাও জানিয়েছেন।

রোগবালাই দমনে তিনি বাগান কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার দাবি করেন।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জি এম শিবলী জানান, ‘এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হবে।’

অপরদিকে, চায়ের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়াতে এ বছর বাগানগুলোতে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর (২০২৬ সাল) দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজ মালয়েশীয় পর্বতারোহী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


নিখোঁজ মালয়েশীয় পর্বতারোহী উদ্ধার

শনিবার গভীর রাতে মালয়েশিয়ার আদিবাসীরা মধ্য মালয়েশিয়ার পেরাক অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর তাপাহর কাছে একটি বনাঞ্চল থেকে নিখোঁজ পর্বতারোহীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জঙ্গলে নিখোঁজ থাকার পরে ওই মালয়েশীয় পর্বতারোহী জাসলিনদা সালুদিনকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি তার একবন্ধুর ভাষ্যমতে ‘অলৌকিক’ ছিল।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযানও শেষ করে কর্তৃপক্ষ। কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানায়।

যেখানে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে তাকে পাওয়া যায়। ৪৯ বছর বয়সী সালুদিনকে একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে বিবৃত করা হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে ট্রান্স স্পেনসার চ্যাপম্যান ট্রেকের সময় তাকে সর্বশেষ দেখা যায় বিপজ্জনক টিটিওয়াংসা রেঞ্জ পর্বতমালা ধরে ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কঠিন ট্রেকিং অভিযানে তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি একা একটি বিশ্রাম শিবির থেকে গুনুং বাতু পুতিহ বা হোয়াইট রক মাউন্টেনে আরোহণের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রথম পাতার খবর হয়ে ওঠে। তাকে খুঁজে বের করতে হেলিকপ্টার, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় এবং মালয়েশিয়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে বড় ধরণের অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শনিবার বিকেলে স্থানীয় জেলেরা তাকে খুঁজে পান।

সালুদিন জানান, নদীর পানি পান করে এবং বুনো বেরি ও বনাঞ্চলের অন্যান্য উদ্ভিদ খেয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন। তার বন্ধু হিশামুদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘তিনি নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেনÑ এ খবর শোনার পর মনে হয়েছে আমাদের প্রার্থনা কবুল হয়েছে। এটি সত্যিই অলৌকিক।’

উদ্ধারের পর সালুদিনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পেরাক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের অপারেশনসের সহকারী পরিচালক সাবারোদজি নর আহমাদ দ্য স্টার পত্রিকাকে বলেছেন, ‘তার শরীরে পোকামাকড়ের কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। মাথাতেও কিছু ক্ষত আছে। তবে এগুলো সামান্য আঘাত।’

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জাসলিনদাকে নিরাপদ রাখতে কাজ করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বোন জাসলিনদাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য’ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ মাসে ঢাকায় সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে, তলানিতে কোথায় কোন বিভাগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


১১ মাসে ঢাকায় সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে, তলানিতে কোথায় কোন বিভাগ?

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগের প্রবাসীরা। আর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে রংপুর বিভাগে।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঢাকায় রেমিট্যান্স এসেছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। জুলাই-মে মাসে বিভাগটিতে এসেছে ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়াও সিলেট বিভাগে ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার, খুলনা বিভাগে ১২৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, রাজশাহী বিভাগে ১০৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, বরিশাল বিভাগে ৭০ কোটি ২১ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৩ কোটি ১১ লাখ ডলার ও রংপুর বিভাগে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এদিকে, গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর মধ্যে ঢাকায় রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগে।

মে মাসে বিভাগটিতে এসেছে ১০১ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া সিলেট বিভাগে ২৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, খুলনা বিভাগে ১২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, রাজশাহী বিভাগে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, বরিশাল বিভাগে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ কোটি ২ লাখ ডলার ও রংপুর বিভাগে ৩ কোটি ২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এদিকে, গত মে মাসে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৪ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি থেকে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে মে মাসে যথাক্রমে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার, ৩০ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার, ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার, ১৬ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার, ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার, ১৪ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ও ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

মে মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৬ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%