০৫:১৬ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সংস্কার, কর ছাড় এবং অবকাঠামো সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন খাতের অংশীজনরা। তারা এই দাবি তুলেছেন, যেন দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।
বিএনপি সরকার নির্বাচনী বিজয়ের পর প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, বিমান ও পর্যটন খাতের জন্য কেবল আর্থিক বরাদ্দ নয়, বরং একটি সুসংগত ও স্থিতিশীল নীতি কাঠামোর প্রয়োজন। যার ফলে এই দুটি খাত অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
বিমান পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং বিমান ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনায় কর সুবিধা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে, পর্যটন খাতের অংশীজনরা দাবি জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ, পাস হলো ৬টি বিল
খাতসংশ্লিষ্টরা বাসস’কে জানান, আসন্ন বাজেটটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার মূল পরীক্ষা হবে। বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাব এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষম পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিমান চলাচল খাতের নেতারা ইংগিত করছেন যে, উচ্চ জ্বালানি কর এবং পরিচালন ব্যয় স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে।
অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেছেন, সরকারের উচিত বিমান জ্বালানিতে একটি পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা চালু করা এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এয়ারলাইনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, করের চাপও বেড়েছে। জেট ফুয়েলের ওপর যৌক্তিক ও স্থিতিশীল কর কাঠামো পরিচালন ব্যয় কমাতে, যাত্রীদের চাহিদা বাড়াতে এবং বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করতে সহায়তা করবে।’
আরও পড়ুন: এপিবিএনের ক্ষমতা বাড়িয়ে বিল পাস
মফিজুর রহমান জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর কমানো এবং বিমান-সংক্রান্ত শুল্ক যৌক্তিক করার দাবিও জানিয়েছেন।
শিল্প অংশীজনরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করতে পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
বিমান বিশ্লেষক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালটি চালু করতে হলে জনবল নিয়োগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার প্রস্তুতির ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণ আর সেটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা ভিন্ন বিষয়।’ দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১,১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করতে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো লজিস্টিকস, নেভিগেশন অবকাঠামো এবং ডিজিটাল বিমান ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের আহ্বান করা হয়েছে।
পর্যটন অংশীজনরা নতুন উদ্যোগ ঘোষণার চেয়ে বিদ্যমান নীতি ও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
তারা জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবারাং (কক্সবাজার) সমন্বিত পর্যটন অঞ্চলসহ ইকো ট্যুরিজম, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন ও উপকূলীয় পর্যটন উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য পর্যটন সরঞ্জাম, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং আতিথেয়তা অবকাঠামোর ওপর কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে পিপিপি ভিত্তিতে অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভা
তিনি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।
টোয়াবের পরিচালক ড. মো. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান সত্ত্বেও পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতে আরও বেশি গুরুত্ব এবং উন্নয়ন বাজেটের বড় বরাদ্দ দরকার। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের সফলতা নির্ধারণ করবে।’
প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস
তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন পরিবহণ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।
অংশীজনরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল্যায়ন হবে বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং এটি নীতি সংস্কারের মাধ্যমে উভয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে।
তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন শিল্পে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬’ পাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন