০১:৩৫ পি.এম
ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দিনে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এর হাজার হাজার সমর্থক দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হয়েছেন, যদিও পুলিশের অনুমতি নেই।
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানাতে জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কিন্তু পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে। এই সময় পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্মসূচির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। তারা ঘটনার জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি এবং রাস্তা ব্যারিকেড করে এবং দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন সমূহ মোতায়েন করেছে মধ্য দিল্লিজুড়ে।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
দিল্লির জন্তর মন্তরে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং তাদের সমর্থকেরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি শুরু করতে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটলে তাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
রবিবার দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেককে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়েছে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে বন্ধ প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং ভিড় তৈরি হয়।
শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কিছু ছাত্র সংগঠনের সদস্যদেরও যোগ দেওয়া আছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিতে চান। তার ওজন ৯ কেজির বেশি কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং সমর্থকদের উদ্দেশে রসিকতা করে বলেন, প্রয়োজন হলে তার আত্মা মৃত্যুর পরও এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে। সোনম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে। জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে থেকেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ক্ষেত্রে, তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াংচুক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় আন্দোলনটিকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন