০৭:৪৬ এম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বহাল থাকার আশঙ্কা আরও গভীর হয়ে উঠেছে। ফলে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনের শুরুতে এটি ২১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। এতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়াচ্ছে।
একই সময় সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা স্মারক ও ২ অনুদান চুক্তি সই
মূলত শান্তি চুক্তি না হলে হামলার হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার রাতে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করার ফলে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসাবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের উপর চাপ সৃষ্টি করে। সুদবিহীন এই ধাতু উচ্চ সুদের পরিবেশে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় ফেডারেল রিজার্ভের জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে আরও যুক্তি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ভোট, বিএনপি না জামায়াত হাসবে?
এদিকে, ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন মে মাসের মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন, যা দিনের পরবর্তী সময়ে প্রকাশ হওয়ার কথা।
অন্যদিকে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি মহাপরিচালক রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, বিদ্যমান খনিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে দেশটির স্বর্ণ উৎপাদন ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৩৩ টন থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬২ মেট্রিক টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে, দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন