০৯:৩২ এম
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হতে চলেছে সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় এই ৬ দেশের মধ্যে স্থাপন করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এক রেল নেটওয়ার্ক।
উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গালফ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগের নতুন যুগের সূচনা করবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
যখন জিসিসি রেলওয়ে নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ হবে, তখন একক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমান। এই ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার এবং ইউএই হয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
জিসিসি পরিবহন মন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালু করা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে কুয়েত। শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা প্রণয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে দেশটি। এছাড়া, সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে কুয়েত পৌর কাউন্সিল।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
অন্যদিকে, কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরবও। পরিকল্পনার অধীনে, কুয়েত সীমান্ত থেকে ইউএই সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে যাত্রীবাহী ট্রেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত এবং কম খরচে পণ্য পরিবহণ করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও মজবুত হবে। এটি কেবল বাণিজ্য নয় বরং পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন