ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলের ৬৪ বছর আগের রেকর্ড ভাঙার মিশনে আর্জেন্টিনা, সামনে অস্ট্রিয়া


ব্রাজিলের ৬৪ বছর আগের রেকর্ড ভাঙার মিশনে আর্জেন্টিনা, সামনে অস্ট্রিয়া

বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ৬৪ বছর আগে ব্রাজিল যে কীর্তি গড়েছিল, সেটি স্পর্শ করার মিশনে লিওনেল মেসির দল এবার মাঠে নামছে। তাদের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করা। সেই লক্ষ্যের পরের ধাপ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের একটি জয়ের পরে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন মেসি। তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বলেছেন, মেসির মতো ফুটবলার আর আসবে না এবং তাঁর খেলা অনুকরণ করা প্রায় অসম্ভব।

ম্যাচ শেষে ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, মেসির সঙ্গে খেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। মাঠে তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি প্রতিটি মুহূর্তেই বোঝা যায়।

আরও পড়ুন: মেসি পাচ্ছেন স্পেনের রাজকীয় সম্মাননা

মেসির কাছ থেকে শেখার প্রসঙ্গে ম্যাক অ্যালিস্টার আরও যোগ করেন, মেসির ড্রিবলিং বা পাসিং বোঝা গেলেও সেগুলো একইভাবে মাঠে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে তাঁর নম্রতা ও মূল্যবোধ তরুণদের জন্য একটি বড় শিক্ষা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের পেছনে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল অপরিসীম। প্রথম গোলের সময় বল ছেড়ে দিয়ে সুযোগ তৈরি করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তৃতীয় গোলেও ছিল দারুণ দলীয় সমন্বয়, যার শেষটি করেন মেসি তাঁর চিরচেনা নিখুঁত ফিনিশে।

এটি ছিল মেসির জন্য একটি রেকর্ডময় ম্যাচ। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার পাশাপাশি এটি ছিল তাঁর ১৭তম জয়, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারেও পৌঁছে গেছেন।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালিতে তাঁকে অভিবাদন জানায়।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনাতেই থাকছেন স্কালোনি, সমঝোতা চূড়ান্ত

এখন সব নজর অস্ট্রিয়া ম্যাচে। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরেক ধাপ এগোতে চায় আর্জেন্টিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় তেলের দাম কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় তেলের দাম কমেছে

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস লক্ষ্য করা গেছে।

ইরান এই আলোচনা শেষে জানিয়েছে, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক নিশ্চয়তা পেয়েছে। এই প্রভাবেই সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৫৩ ডলার বা ১.৯০ শতাংশ কমে ৭৯.০৪ ডলারে নেমে আসে।

দিনের শুরুর দিকে দাম বেড়ে ৮২.৩০ ডলারে উঠেছিল। এর পেছনে কারণ ছিল ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের জুলাই মাসের চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬.৫৩ ডলারে। আগস্টের চুক্তির দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫.৩০ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটির কারণে শুক্রবার বাজারে কোনো নিষ্পত্তি ঘটেনি। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারীরা জানান, উচ্চপর্যায়ের মার্কিন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতির মেয়াদকে অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে এই আলোচনা শুরু হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব হবে এবং তেলের দামের ওপর চাপ আরও কমতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে এবার ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান ধর্মঘট শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


দিল্লিতে এবার ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান ধর্মঘট শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ভারতে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে এবার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের রাজনৈতিক আন্দোলন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) সমর্থকরা।

গত শনিবার (২০ জুন) তীব্র গরম ও পুলিশের বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে শত শত শিক্ষার্থী ও তরুণ দিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়েছেন। গত রোববার (২১ জুন) দ্বিতীয় দিনেও নতুন নতুন বিক্ষোভকারী যোগ দেওয়ায় আন্দোলনের পরিধি আরও বড় হয়েছে। দিন-রাত সেখানেই কাটাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করা এই তরুণ চলতি মাসে ভারতে ফিরে এসে অনলাইনভিত্তিক এই আন্দোলনকে রাজপথে নিয়ে আসেন।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। ঘন ঘন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নম্বরের গরমিলের কারণে পড়াশোনা ও চাকরি খোঁজার চাপে আগে থেকেই মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাওয়া তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দীপকের দল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (ককরোচ পিপলস পার্টি বা সিজেপি) সেই ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।

মূলত গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ধারণার জন্ম হয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার যুবকদের একটি অংশকে 'ককরোচ' ও 'পরজীবী' বলে মন্তব্য করেন।

যুবসমাজকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া ওই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিজিৎ দিপকে লেখেন, 'সব তেলাপোকা যদি একত্রিত হয়, তাহলে কী হবে?' এরপরই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। বর্তমানে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও বেশি।

দল হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর গত ৬ জুন নয়াদিল্লিতে দলের প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই সমাবেশ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এরপর থেকে সেই বিক্ষোভ ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিনে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে শুরু হলো অবস্থান ধর্মঘট। ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করা ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শচীন কুমার বলেন, 'এক বছর কঠোর পরিশ্রমের পর পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।' তার ভাষায়, 'শিক্ষার্থীরা হতাশায় ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ তাদের কথা শুনছে না।' এরপর থেকে তিনি আর বই হাতে নেননি।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই দফা পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়ে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা প্রায় হারিয়ে গেছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে সাময়িকভাবে পানি ও খাবারের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ গান গেয়ে, কেউ রাজনৈতিক আলোচনা করে রাত কাটাচ্ছেন।

অভিজিৎ দিপকে ও তার সমর্থকদের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। তাদের মতে, এটি কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে তরুণদের নেতৃত্বে এত বড়, সংগঠিত এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রতিবাদ খুব কমই দেখা গেছে। ফলে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র এই আন্দোলন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকার রঙের কেক ও লুঙ্গি বিক্রির ধুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


ফেনীতে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকার রঙের কেক ও লুঙ্গি বিক্রির ধুম

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই পুরো বাংলাদেশজুড়ে এক ভিন্ন ধরনের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় দলের পতাকা উড়িয়ে দেওয়া, জার্সি পরে ফেলা এবং কে কার চেয়ে বড় পতাকা তৈরি করবেন, তা নিয়ে চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু এবার ফেনী শহরের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় একটি নতুন দিক যুক্ত হয়েছে। ফেনীর মানুষ এখন নিজেদের প্রিয় দলের পতাকার রঙে তৈরি থিম কেক কাটায় মজে উঠেছেন। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটি অভিনব ও ব্যতিক্রমী ক্রেজ দেখা যাচ্ছে। জার্সি-পতাকার গণ্ডি পেরিয়ে, এখন ফেনীর বাজারে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার রঙে তৈরি বিশেষ ‘লুঙ্গি’ বিক্রির ধুম পড়েছে।

ফেনী শহরের বিভিন্ন বেকারিতে গিয়েও দেখা গেছে যে, ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পতাকার আদলে তৈরি করা হচ্ছে কাস্টমাইজড থিম কেক। শুধু সেটাই নয়, মিষ্টির দোকানগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের জার্সি অথবা প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি সম্বলিত কেকও তৈরি করা হচ্ছে।

শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ঐতিহ্যবাহী ‘দিলদার ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ এই ট্রেন্ডে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে। তারা অগ্রিম বুকিং গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রতিদিন দোকানে এসব থিম কেক সাজিয়ে রেখে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে, তাদের তৈরি ২২টিরও বেশি বিশেষ কেক বিক্রি হয়ে গেছে।

দিলদার ব্রেডের ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন জানাচ্ছেন, এ বছর বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফুটবল থিম কেকের প্রচলন শুরু করার পর থেকেই দারুণ সাড়া মিলেছে। তবে পূর্বের মতোই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কেকের চাহিদাই বেশি।

ফুটবলপ্রেমীদের এই চাহিদাকে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে রাখতে দামও রাখা হয়েছে বেশ সুলভ।

দিলদার ব্রেডের স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম মাহমুদ জানান, ক্রেতাদের সাড়া মাথায় রেখে ২ পাউন্ড কেক ৬০০ টাকা এবং ৩ পাউন্ড কেক ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এখানেও ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে একটি নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্বকাপে যতদিন এই দুই দল জয়ী হবে, ততদিন পতাকার রঙের কেকের এই চাহিদা থাকবে।

শহরের অন্যান্য নামী কনফেকশনারি যেমন ‘ফেনী বেকারস’ এবং ‘সুইট বাস্কেট’ও পিছিয়ে নেই। ফেনী বেকারস ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জার্সি ও থিমের কাস্টমাইজড কেক বানিয়ে ফেনী সদর এলাকায় হোম ডেলিভারি সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, সুইট বাস্কেটে দেখা যাচ্ছে, তারা তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত দৃষ্টিনন্দন কেক বিক্রি করছে।

স্থানীয় কয়েকজন ফুটবলপ্রেমীর সাথে কথা বললে জানা যায়, তারা প্রিয় দলের খেলার দিন উদযাপন করতে কিংবা এই ফুটবল মৌসুমের মধ্যেই প্রিয়জনের জন্মদিনকে আরও স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই পতাকার রঙের কেকগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে প্রিয় দলের জয়ের লড়াই যেমনই হোক, কেক কাটার এই মিষ্টি লড়াইয়ে ফেনীর ফুটবল ভক্তরা বেশ উপভোগ করছেন।

এদিকে, বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই প্রিয় দলের জার্সি পরা এবং বাড়ির ছাদে কিংবা গাছে পতাকা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা তো নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এবার ফেনীর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দেখা গেছে একটি অভিনব ও ব্যতিক্রমী ক্রেজ। জার্সি-পতাকার গণ্ডি পেরিয়ে, এখন ফেনীর বাজারে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার রঙে তৈরি বিশেষ ‘লুঙ্গি’ বিক্রির ধুম পড়েছে। মাঠের ফুটবল খেলাকে দৈনন্দিন যাপনে রূপ দিতে বাঙালি ফুটবল ভক্তদের এই নতুন ট্রেন্ড এখন পুরো জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ফেনী শহরের বড় বাজারের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও কাপড়ের দোকান ঘুরলে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার রঙের শতভাগ সুতি লুঙ্গি। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা এবং ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ রঙের এই লুঙ্গিগুলো লুফে নিচ্ছেন সব বয়সী মানুষ।

ফেনী বড় বাজারের ভগবতী বস্ত্রালয়ের মালিক মিম্মণ বণিক জানাচ্ছেন, বাঙালির অত্যন্ত আরামদায়ক ও চিরপরিচিত পোশাক লুঙ্গির সঙ্গে ফুটবল থিম যোগ হওয়ায় বিক্রিতে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই লুঙ্গি কেনার দারুণ হিড়িক দেখা যাচ্ছে। অনেকে দল বেঁধে এক রঙের লুঙ্গি কিনে ছবি তুলছেন এবং প্রিয় দলের খেলার দিন তা পরে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কাপড় ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলছেন, আমরা সাধারণত বিভিন্ন ডিজাইনের চেক বা একরঙা লুঙ্গি বিক্রি করি। কিন্তু এবার বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পাইকারি বাজার থেকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকার থিমের লুঙ্গি এনেছি। দোকানে তোলার পর থেকেই বিক্রির গতি আশাতীত। এখানে সমর্থকরা কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই; এক পক্ষ আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা লুঙ্গি নিলে অন্য পক্ষ এসে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ লুঙ্গি খুঁজছেন।

লুঙ্গি কিনতে আসা কলেজ পড়ুয়া ফুটবল ভক্ত ফারহান মাহাতাব জানান, জার্সি তো সবাই পরে, এবার ভিন্ন কিছু করার জন্য আমরা বন্ধুরা মিলে আমাদের প্রিয় দলের রঙের লুঙ্গি কিনেছি। খেলার দিন সবাই একসাথে এই লুঙ্গি পরে খেলা দেখার একটি আলাদা আনন্দ থাকে। এটা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে ফুটবল প্রেমের একটি অসাধারণ মেলবন্ধন।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের কথা মাথায় রেখে এসব থিম লুঙ্গির দামও রাখা হচ্ছে বেশ সাশ্রয়ী। কাপড়ের মান ও সুতার উপর ভিত্তি করে প্রতিটি লুঙ্গির দাম ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মাঠে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের লড়াই কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে, কিন্তু ফেনীর বাজারে এই দুই দলের পতাকার রঙের লুঙ্গি বিক্রির যে 'মিষ্টি যুদ্ধ' শুরু হয়েছে, তা এই ফুটবল মৌসুমের আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

করছাড়েও কমছে না স্মার্টফোনের দাম, উল্টো মডেলভেদে বেড়েছে ৩-১৫ হাজার টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


করছাড়েও কমছে না স্মার্টফোনের দাম, উল্টো মডেলভেদে বেড়েছে ৩-১৫ হাজার টাকা

বাজেটে করছাড় দেয়া হলেও দেশের বাজারে স্মার্টফোনের দাম কমছে না। বরং বিশ্ববাজারে চিপসেটের দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে মডেলভেদে উৎপাদকরা ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সিম কর প্রত্যাহারের ফলে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমলেও মোবাইল অপারেটরদের মতে, এটি ডাটা প্যাকেজের দাম কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

যোগাযোগ, কেনাকাটা, তথ্য-প্রযুক্তি ও বিনোদন থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ছাড়া এখন প্রায় অপূর্ণ জীবন। অপারেটররা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের ডাটা প্যাকেজ অফার করলেও দাম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

গ্রাহকরা বলছেন, আগে ৩০ দিনের একটি ইন্টারনেট প্যাকেজ ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা ৩৯৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য দাম কিছুটা কমানো হলে ভালো হতো।

এদিকে নতুন বাজেটে টেলিকম খাতে করের চাপ কিছুটা কমানো হয়েছে। ৩০০ টাকার সিম কর তুলে নেয়ায় সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস পাবে, তবে এটি অপারেটরদের ওপর ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমিয়েছে। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, দীর্ঘদিন পর টেলিকম খাতের জন্য এ ধরনের বাজেট দেখা গেছে। এখানে পাওয়া সুবিধা মার্কেটে বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বেসরকারি অপারেটরদের দাবি, রাজস্ব ভাগাভাগি ও লাইসেন্স ফি হিসেবে বছরে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিতে হয়। এর মধ্যে উৎসে কর হিসেবে ৮০০ কোটি টাকা নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাকি অংশ পায় বিটিআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো রাজস্ব বিটিআরসি পাবে, ফলে অপারেটরদের আর্থিকভাবে সরাসরি তেমন লাভ হচ্ছে না।

রবি’র চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ট্যাক্স কমানো বা সমন্বয় করা হলেও সরাসরি পণ্যের দামের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এখনো প্রায় ৩৯ শতাংশ কনজ্যুমার ট্যাক্স বহাল রয়েছে।

স্মার্টফোনের দাম কমানোর জন্য ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সেইসাথে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা স্মার্টফোনে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আবার লাখ টাকার ফোনে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, যেসব ফোন আগে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাগছে। ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা ফোনগুলোর দামেও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

উৎপাদকদের দাবি, বিশ্ববাজারে চিপসেটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় করছাড়ের পরও হ্যান্ডসেটের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমওআইবি) এর সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, আগে যেখানে একটি ফোন ৩৫ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তা ২০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ফলে সামগ্রিক খরচের চাপ কমানো যাচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে বছরে ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে প্রায় চার কোটি হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে। দেশে ১৭টি প্রতিষ্ঠান এসব হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও সংযোজন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%