১২:২১ পি.এম
বাজেটে করছাড় দেয়া হলেও দেশের বাজারে স্মার্টফোনের দাম কমছে না। বরং বিশ্ববাজারে চিপসেটের দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে মডেলভেদে উৎপাদকরা ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সিম কর প্রত্যাহারের ফলে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমলেও মোবাইল অপারেটরদের মতে, এটি ডাটা প্যাকেজের দাম কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
যোগাযোগ, কেনাকাটা, তথ্য-প্রযুক্তি ও বিনোদন থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ছাড়া এখন প্রায় অপূর্ণ জীবন। অপারেটররা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের ডাটা প্যাকেজ অফার করলেও দাম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
গ্রাহকরা বলছেন, আগে ৩০ দিনের একটি ইন্টারনেট প্যাকেজ ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা ৩৯৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য দাম কিছুটা কমানো হলে ভালো হতো।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো সার্জারি গ্যালারি
এদিকে নতুন বাজেটে টেলিকম খাতে করের চাপ কিছুটা কমানো হয়েছে। ৩০০ টাকার সিম কর তুলে নেয়ায় সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস পাবে, তবে এটি অপারেটরদের ওপর ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমিয়েছে। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, দীর্ঘদিন পর টেলিকম খাতের জন্য এ ধরনের বাজেট দেখা গেছে। এখানে পাওয়া সুবিধা মার্কেটে বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বেসরকারি অপারেটরদের দাবি, রাজস্ব ভাগাভাগি ও লাইসেন্স ফি হিসেবে বছরে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিতে হয়। এর মধ্যে উৎসে কর হিসেবে ৮০০ কোটি টাকা নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাকি অংশ পায় বিটিআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো রাজস্ব বিটিআরসি পাবে, ফলে অপারেটরদের আর্থিকভাবে সরাসরি তেমন লাভ হচ্ছে না।
রবি’র চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ট্যাক্স কমানো বা সমন্বয় করা হলেও সরাসরি পণ্যের দামের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এখনো প্রায় ৩৯ শতাংশ কনজ্যুমার ট্যাক্স বহাল রয়েছে।
স্মার্টফোনের দাম কমানোর জন্য ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সেইসাথে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার
৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা স্মার্টফোনে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আবার লাখ টাকার ফোনে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, যেসব ফোন আগে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাগছে। ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা ফোনগুলোর দামেও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
উৎপাদকদের দাবি, বিশ্ববাজারে চিপসেটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় করছাড়ের পরও হ্যান্ডসেটের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমওআইবি) এর সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, আগে যেখানে একটি ফোন ৩৫ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তা ২০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ফলে সামগ্রিক খরচের চাপ কমানো যাচ্ছে না।
বর্তমানে দেশে বছরে ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে প্রায় চার কোটি হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে। দেশে ১৭টি প্রতিষ্ঠান এসব হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও সংযোজন করছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন