সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ প্রণয়ন করতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, “কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক—সেটা আমরা চাই না।”
তিনি রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ খসড়া পর্যালোচনার জন্য মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে কনসালটেশন সভায় এসব কথা বলেন।
সভায় ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর যে সংশোধনী আনার জন্য একটা বিল, খসড়া বিল রেডি করেছিলাম, সেটা ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে। ক্যাবিনেট আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আমরা যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এটা আলোচনা করি এবং যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইসিটি এক্সপার্ট, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি।”
তিনি আরও বলেন, “এ আইনটি যাতে নিবর্তনমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য আমরা সমাজের সর্বস্তরের মতামত গ্রহণ করার জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া বিলটি প্রকাশ করেছি। ওয়েবসাইটে অনেকেই মতামত দিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মতামত দিয়েছে, অনেক মানবাধিকার সংগঠন, হিউম্যান রাইটস বডিজ মতামত দিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছেন, সেটা আমরা কম্পাইল করেছি।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা দেশের সবচয়েকে উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ সংবাদপত্রের সংগঠন এবং জার্নালিস্টদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি, সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আজ তৃতীয় বৈঠক। আপনাদের সঙ্গে বৈঠকে, সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে, গত ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আপনারা পরবর্তী মিটিংয়ে আপনাদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটে অথবা আপনারা মিটিংয়ে আমাদের কাছে দেবেন। অনেকেই বক্তব্যের সঙ্গে সেটা বলেছেন যে আপনারা লিখিত মতামতটা দিয়ে যাবেন। আশা করি, পেয়ে যাব।”
মন্ত্রী বলেন, “প্রস্তাব এসেছে—আমরা যেন আরেকটু সময় নিয়ে মিডিয়া এবং সাইবার এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি মতামত নিই এবং মিডিয়া যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ আইনে ভিকটিমাইজড না হয়, সে জন্য আমরা কিছু প্রটেকশন যাতে রাখি বা সেভিং ক্লজ রাখি। আমরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এ আইনটি সমৃদ্ধ হবে।”
তিনি আরো বলেন, “কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য একটা প্রস্তাবও এখানে করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, গ্রেপ্তারের আগে। সেটা আমরা উপযুক্ত মনে করেছি, তারপরও রিকমেন্ডেশনস আসুক, আমরা সেটা ইনক্লুড করব। এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সার্টেইন টাইম লিমিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটাও আমরা দিচ্ছি যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে না থাকে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আরো অন্যান্য বিষয়ের পরামর্শ আমরা তাদের কাছ থেকে পাব আশা করি। সেটার সমন্বয়ের জন্য আমরা পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে এখানে দায়িত্ব দিয়েছি।”
তিনি জানান, “আইসিটি মিনিস্ট্রি এবং ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি সেটা কো-অর্ডিনেট করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার এক্সপার্টদের একটা প্যানেল করা হবে, সেটা আইসিটি মিনিস্ট্রি করবে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। সেখানে আমাদের সমন্বয়ক হিসেবে পিআইও কাজ করবেন। আশা করছি, ৭-১৫ দিনের মধ্যেই এ রিকমেন্ডেশনসগুলো পাব। তারপর আমরা সেটা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব। এরপর সেটা ক্যাবিনেটে নিয়ে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব। তখনো মতামত দেওয়ার জন্য আপনাদের স্বাধীনতা থাকবে। সেটাও আমরা গ্রহণযোগ্য হলে ধারণ করব।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিল আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি মোতাবেক আইন মন্ত্রণালয়ে সভা হয় এবং তারপরে ক্যাবিনেটে সেটা বিবেচনার জন্য যাবে। ক্যাবিনেট যদি সেটা অ্যাপ্রুভ করে, তখন সেটা বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদে গেলেও আমরা সেটা তড়িঘড়ি করে পাস করব না। সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে, সংসদীয় কমিটিতে যাবে। বিরোধী দল, সরকারি দল সবাই আলোচনা করবে এবং সংসদের বাইরেও আশা করি, বিভিন্ন রকমের সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আপনারা করবেন, সেখান থেকেও মতামত আসবে।”
তিনি বলেন, “সব কিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা যুবসমাজসহ সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, “যারা এ সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করছে এবং সমাজে সেটা মারাত্মক আকারে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা, সোশ্যাল হারমনি, রিলিজিয়াস হারমনি এবং পারিবারিক বন্ধন সবকিছু আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের কালচারের সঙ্গে মিলিয়ে এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ আইনটা করতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বুং কার্নো স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছে। তবে আজকের আসিয়ান কাপের ম্যাচে তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছেন হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়া।
জাকার্তায় শুরু থেকেই দুই দল বল পজিশন দখলের চেষ্টা করলেও গোল করার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ করতে পারেনি। ম্যাচের প্রথম ভালো আক্রমণটি দেখা যায় ১৬ মিনিটে। মেহেদী হাসান শ্রাবণের অসাধারণ দক্ষতায় বাংলাদেশ বেঁচে যায়। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইলহান ফান্দির শটটি কর্নারের মাধ্যমে সেভ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।
কুলিং বিরতির পর ৩৩ মিনিটে শ্রাবণ আবারও অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন। সিঙ্গাপুর বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায়। সেই ফ্রি কিক থেকে সিঙ্গাপুরের জ্যাকব উইলিয়ামের হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান শ্রাবণ। প্রতিপক্ষ অবশ্য ফিরতি সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু এবার বিপদমুক্ত করেন তারিক কাজী।
যদিও বাংলাদেশ সেই যাত্রায় বাঁচতে পেরেছিল, কিন্তু ৩৫ মিনিটে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে হেডে গোলটি করেন হারহিস স্টুয়ার্ট। এবার শ্রাবণ দাঁড়িয়ে থেকে শুধু বলকে জালে প্রবেশ করতে দেখলেন।
২ মিনিট পর ব্যবধান আরো বাড়তে পারত। সিঙ্গাপুরের এক খেলোয়াড়ের শট ক্রসবারে লাগে, ফলে বাংলাদেশ ভাগ্যকে পাশে পেয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগই পায়নি। পরে আর কোনো গোল না হলে বিরতিতে যায় দুই দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে, এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতিউর রহমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, "সংশোধন ছাড়া যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।"
এর আগে ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, আইনটি এভাবে পাস হলে গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আইনটি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেওয়ায় তারা আনন্দিত। সাইবার সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রুপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হবে।
মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির কারণে সবাই সাইবার জগতের অংশ। গণমাধ্যমের অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল কার্যক্রম রয়েছে। তাই সাইবার অপরাধীদের শাস্তি দিতে গিয়ে এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সংজ্ঞা না থাকলে এসব বিধান বিভিন্নভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছর, পাঁচ বছর ও ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, একজন প্রতিবেদক যদি কোনো প্রতিবেদন করার পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পান, তাহলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।
তিনি বলেন, "একটা রিপোর্টার ধরেন, সে একটা রিপোর্ট করতেছে, সেই রিপোর্টার কি মোবাইল কোর্টের জাজমেন্ট হইতে পারে? আমাদের ধারণা এবং আমাদের যে বিষয়, মোবাইল কোর্টের প্রভিশনটা ছিল সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত।"
মাহফুজ আনাম আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমকে নিয়ে এ ধরনের মোবাইল কোর্টের বিধান কীভাবে প্রস্তাবিত আইনে এলো, সেটি বড় প্রশ্ন। খসড়াটি কারা এবং কী চিন্তা থেকে তৈরি করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এমন প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে গণমাধ্যমের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
এদিকে একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও পছন্দ না হলে বা কেউ মনে করলে তার মানহানি হয়েছে, সেই অভিযোগে সাংবাদিককে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, "সাইবার সুরক্ষা আইন দরকার আছে। সেটা হচ্ছে যারা সাইবার জগতে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম করে তাদের জন্য। এখন যদি সেটা মিডিয়ার ওপরে পড়ে, ধরেন আপনার একটা রিপোর্ট করতেছেন বা কেউ ক্ষুব্ধ হইলো, সে এখন আপনার ওপর মামলা করে দিলো, মালিকসহ মামলা করে দিলো, সে অ্যারেস্ট হইলো বা মোবাইল কোর্ট যদি থাকে, আপনার সাথে সাথে ধরেন আপনি রিপোর্ট করলেন, আপনি রাস্তায় যাচ্ছেন, আপনাকে ধরে নিয়ে গেলো। তো এটা তো হইতে পারে না।"
আব্দুস সালাম আরও বলেন, এভাবে সাংবাদিকদের ওপর আইন প্রয়োগ হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। সাইবার অপরাধ দমনে আইন প্রয়োজন হলেও মূলধারার গণমাধ্যম, ডিজিটাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "মিডিয়ার ফ্রিডম থাকতে হবে এবং আমাদের সুরক্ষাও থাকতে হবে, প্রোটেকশনও থাকতে হবে।" এ বিষয়ে আরও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং সরকার সেগুলো বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একই বিদ্যালয়ের তিন কিশোরী পাবনা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়, বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত পেরিয়ে কোথাও চলে যাওয়া। তবে কুড়িগ্রামে গিয়ে অপরিচিত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলায় শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়।
তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সাধারণ বলে জানা গেছে। কিছু অভিভাবক ফার্নিচারের কাজ করেন, আবার কেউ ওয়ার্কশপে কাজ করেন।
তথ্য অনুযায়ী, তিনজনের একজন একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা করতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা তার দুই সহপাঠীকে জানায় এবং তারা তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে এসে একত্রিত হয়। তবে তারা ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশাযোগে পাবনা বাস টার্মিনালে পৌঁছে বাসে করে নাটোরে যায়। নাটোর থেকে বাসে রংপুর এবং রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে পৌঁছায় তারা। সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর পর রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে। পরে একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে তারা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজ ওই মহল্লায় বসবাস করেন। তার স্ত্রী অপরিচিত তিন কিশোরীকে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথাবার্তা ও চলাফেরায় সন্দেহ হলে তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং বিশ্রামের সুযোগ দেন। পরে বিষয়টি স্বামী এসআই তাজকে জানান। এসআই তাজ ও তার স্ত্রী কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এদিকে, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি শিশু-কিশোরদের মানসিক অবস্থা, পরিবারের আচরণ এবং অনলাইনভিত্তিক নানা কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন এসআইয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্ত্রী সুমি (গিরিনা) হত্যা মামলায় স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় সুমির স্বামী পলাতক ছিলেন, তবে শাশুড়ি ও খালাসপ্রাপ্ত শ্বশুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও নথিপত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, মৃত সুমি (গিরিনা) ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদারের স্ত্রী। ২০১০ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী, নিহতের ভাই মো. সরোয়ার মোল্যা (৪৫), এজাহারে অভিযোগ করেন যে, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার স্বামী আতিয়ার রহমান তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। এরপর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সুমিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সুমি ও তার স্বামীকে পারিবারিকভাবে বুঝিয়ে-শুনিয়ে একপর্যায়ে কেশরাইলের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পরও সুমিকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার ভাই।
২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা কেশরাইল গ্রামে গিয়ে আতিয়ার রহমান তালুকদারের বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে পালংকের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।
মামলার নথিতে বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে স্বামী আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) এবং তার মা মোছা. রাহেলা বেগম (৫০) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এ মামলার অপর আসামি বাবা খলিলুর রহমান তালুকদার (৫৫) কে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি চৌধুরী জাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আতিয়ার রহমান তালুকদার ও তার মা মোছা. রাহেলা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর পর আদালতের এই রায় ঘোষণা হলো। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ