প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একই বিদ্যালয়ের তিন কিশোরী পাবনা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়, বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত পেরিয়ে কোথাও চলে যাওয়া। তবে কুড়িগ্রামে গিয়ে অপরিচিত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলায় শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটে। তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়।
তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সাধারণ বলে জানা গেছে। কিছু অভিভাবক ফার্নিচারের কাজ করেন, আবার কেউ ওয়ার্কশপে কাজ করেন।
তথ্য অনুযায়ী, তিনজনের একজন একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা করতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা তার দুই সহপাঠীকে জানায় এবং তারা তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে এসে একত্রিত হয়। তবে তারা ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশাযোগে পাবনা বাস টার্মিনালে পৌঁছে বাসে করে নাটোরে যায়। নাটোর থেকে বাসে রংপুর এবং রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে পৌঁছায় তারা। সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর পর রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে। পরে একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে তারা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজ ওই মহল্লায় বসবাস করেন। তার স্ত্রী অপরিচিত তিন কিশোরীকে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথাবার্তা ও চলাফেরায় সন্দেহ হলে তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং বিশ্রামের সুযোগ দেন। পরে বিষয়টি স্বামী এসআই তাজকে জানান। এসআই তাজ ও তার স্ত্রী কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এদিকে, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি শিশু-কিশোরদের মানসিক অবস্থা, পরিবারের আচরণ এবং অনলাইনভিত্তিক নানা কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন এসআইয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন