নীলফামারী স্টাফ রিপোর্টার রায়হান আলী
১১:০১ এম
নীলফামারীর পঞ্চপুকুর এলাকায় একটি অলৌকিক ঘটনার খবর এখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার রাজু অর্গানিক গার্ডেনের পাশে অবস্থিত একটি প্রাচীন বটগাছের গায়ে গজানো ছত্রাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী মনসার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের ঢল নেমেছে।
স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে জানা যায়, বটগাছটির কাণ্ডে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ছত্রাকের অবয়ব দেখতে অনেকটা দেবী মনসার প্রতিকৃতির মতো মনে হচ্ছে। প্রথমদিকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন সেই প্রতিচ্ছবি দেখার জন্য আসছেন। অনেকে একে অলৌকিক সংকেত বিশ^াস করে দেখছেন।
এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বটগাছের নিচে নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হচ্ছে। স্থানীয় ভক্তরা সেখানে মানত করছে এবং ভক্তিভরে প্রণাম জানাচ্ছে। পুরো এলাকা এখন ধর্মীয় আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "বটগাছের গায়ে ফুটে ওঠা এই রূপটি দেখেই আমাদের দেবী মনসার কথা মনে হয়েছে। বিশ্বাস থেকেই আমরা এখানে পূজা দিতে আসছি। মানুষজন এখানে মনের বাসনা পূরণের আশায় মানত করছেন।"
অন্যদিকে, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্থানীয়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তির ওপর নির্ভরশীল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল আগামী মাসে সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে যেতে পারেন। সফরের সময় তাদের থাকার জন্য রাজপরিবারের একটি বাসভবন ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এমনটি জানা গেছে।
হ্যারি ও মেগানের (সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস) সঙ্গে থাকবেন তাদের দুই সন্তান। ছেলে আর্চির বয়স সাত বছর এবং মেয়ে লিলিবেটের বয়স পাঁচ বছর। চার বছর পর তাদের পুরো পরিবার একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছে। বিবিসি নিউজ জানায়, রাজপরিবারের একটি এস্টেটে পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমানে হ্যারি ও মেগান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সেই সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। পরিবারটির জন্য কোন রাজকীয় বাসভবন নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তারা কোথায় থাকবেন, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রিন্স হ্যারি বাকিংহাম প্যালেসে থাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভবনগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে থাকা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আগামী মাসে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির। এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে ইনভিক্টাস গেমসকে ঘিরে। আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরবর্তী আসর আগামী বছরের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে। সেই আয়োজন শুরুর এক বছর বাকি থাকা উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।
রাজপরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরও হ্যারি ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। গত বছর বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চান এবং তিনি একটি 'পুনর্মিলন' দেখতে চান। রাজা তৃতীয় চার্লস শেষবার সরাসরি তার নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটকে ২০২২ সালে দেখেছিলেন। সে সময় যুক্তরাজ্যে প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন চলছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় প্রিন্স হ্যারি তার বাবা রাজা চার্লসের সঙ্গে ক্লারেন্স হাউসে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর সেটিই ছিল বাবা-ছেলে প্রথম সরাসরি বৈঠক।
তবে আসন্ন সফরে রাজা চার্লস তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। তাদের ভাষ্য, এটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। সফরের সময় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে আলাদা কোনো নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে হ্যারি ও তার পরিবারের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের, যারা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত, প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফরাসি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এ পদক্ষেপটি বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করার জন্য এবং জননিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি খর্বকারী হিসেবে গণ্য করেছেন।
ফরাসি পার্লামেন্টের সিনেটের অনুমোদনের পরে, নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করে। ভোটাভুটিতে ৩৪৫ জন সংসদ সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১৭৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
সরকার, ডানপন্থি দলগুলো এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি এই বিলটিকে সমর্থন করেছে।
বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের জন্য তা ১৮০ দিন। নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২১০ দিন পর্যন্ত করা যাবে।
আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের নির্দেশ (ওকিউটিএফ) থাকতে হবে। এছাড়া, অতীতে গুরুতর অপরাধে অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হতে হবে এবং তাকে জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ও গুরুতর হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে বহিষ্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখতে পারবেন।
নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে।
বিলটি পাস হওয়ার পরে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফরাসিদের নিরাপত্তাই আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশনা।’
আইনটিতে একটি নতুন বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক মনোরোগ মূল্যায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
তবে বিরোধীরা এ বিধানের মতো সমালোচনা করেছেন। সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য রোমাঁ এসকেনাজি এ সম্পর্কে বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মানসিক স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ ও অভিবাসন—এই তিনটি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে। বামপন্থি দলগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি সাংবিধানিক পরিষদে নেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে।
আইনটির সমর্থক কয়েকজন সংসদ সদস্য ২০২৪ সালের আলোচিত ‘ফিলিপিন’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মরক্কোর একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশ জারি ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি একটি প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
তবে সমালোচকদের দাবি, নতুন আইন কার্যকর থাকলেও ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। সংসদ সদস্য অঁদি কেরব্রা বলেন, অভিযুক্তকে ৭০ দিনের মাথায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার সুযোগ ছিল। তাই আটকের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ওই ঘটনার পরিণতি ভিন্ন হতো না।
ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বিদেশিদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এটি একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, যা কেবল শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন লা সিমাদের মতে, ব্যক্তিস্বাধীনতায় কম হস্তক্ষেপকারী অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কীভাবে বহিষ্কার কার্যকর করা যায় তা নিয়েই প্রশাসনিক আটক ব্যবহার করা উচিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মায়োতসহ ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চলগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আশুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটির পর থেকে ধর্ষক বিদেশ সরকার (৫৫) পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার সময়ে আশুলিয়া থানার এসআই এইচএম ইমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, বুধবার দুপুর আড়াইটার সময় আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের লালারটেক এলাকায় এ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়।
ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত।
অভিযুক্ত বিদেশ সরকার লালারটেক এলাকার মৃত বাবু লাল সরকারের সন্তান। তিনি তামা-কাশার দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি বাংলা মদ বানিয়ে বিক্রি করেন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, বুধবার দুপুরে দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে শিশুটি বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করছিল। এ সময় বিদেশ সরকার শিশুটিকে কৌশলে স্থানীয় রনজিৎ সরকারের বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং সেখানে জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
পরেরদিন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি শিশুর বাবা জানতে পারেন এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি শনিবার (২১ জুন) বসে মীমাংসা করে দিবে বলে জানায়।
কিন্তু শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিছু যুবকরা ওই ধর্ষককে পিটুনি দিতে শুরু করলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর রাতেই আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এইচ এম ইমন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
এটি সুইস ফ্রাঁর হিসাবে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার।
গত বছরের তুলনায় এই পরিমাণ ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৪ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
এখন সেই অর্থ ছিল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আগের তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আমানত।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতিবছর আমানতের তথ্য প্রকাশ করে। ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ ক্যাটাগরির আওতায় দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক, বাসিন্দা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের মুদ্রায় রাখা আমানত পর্যবেক্ষণ করে।
তবে প্রতিবেদনে আমানতকারীর ধরন বা কোন উদ্দেশ্যে আমানত রাখা হয়েছে, তা আলাদা করে দেখানো হয় না বলে জানায় ডেইলি স্টার।
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক গোপনীয়তার কারণে পরিচিত।
যদিও সম্প্রতি কিছু সংস্কার আনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা এবং সহযোগিতা বেড়েছে।
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত সাধারণত ৪৮ কোটি থেকে ৬৬ কোটি ফ্রাঁর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
২০২৩ সালে আমানতের পরিমাণ কমে গিয়ে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁতে নেমে যায়।
২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানের আমানত এক লাফে ৩৩ গুণ বেড়ে গেছে।
অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর বৈশ্বিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁতে পৌঁছানোর পর ২০২২ সালে আমানত হঠাৎ করে কমে যায়।
গত বছর ভারত এবং পাকিস্তানের আমানতের পরিমাণও কমেছে।
ভারতের আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ সুইস ফ্রাঁ এবং পাকিস্তানের আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংক্রান্ত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে অথবা এসব দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাচার করা হয়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘হঠাৎ আমানত বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের ফলে ধনীরা বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরে উৎসাহিত হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ