১২:৫৩ পি.এম
কলা সংগ্রহের পর গাছ কেটে ফেলা একটি পরিচিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। গাছ নিয়ে বাগানিদের বিপাকে পড়তে হতো, কারণ গাছ সরানো ছিল একটি বাড়তি ঝামেলা। তবে গাইবান্ধায় ইউটিউব দেখে সেই ফেলে দেওয়া কলাগাছ দিয়েই নতুন সম্ভাবনা শুরু করেছেন। কলাগাছের বাকল থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব সুতা, যা অনেকের জীবন-জীবিকা বদলে দিয়েছে এবং বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
জানা যায়, পূর্বে ফল সংগ্রহের পর কলাগাছের আর কোনো ব্যবহার থাকত না। সেই গাছ ক্ষেতেই পড়ে থাকত, পচে নষ্ট হতো। ফলে বাগান পরিষ্কার করতে বাগানিদের বাড়তি খরচ করতে হতো। কিন্তু এখন সেই কলাগাছের কাঁচামাল হয়ে উঠেছে অনেক মূল্যবান।
ইউটিউবে দেখে গাইবান্ধার সরকারপাড়ার আশিক ও শাওন নামের দুই যুবক কলাগাছের বাকল থেকে টেকসই সুতা তৈরি করছেন। যা ব্যাগ, মাদুর, সোপিস এবং অন্যান্য গৃহস্থলির কাজে ব্যবহৃত হস্তশিল্প পণ্য এবং অপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত সুতা, স্যানেটরি ন্যাপকিনের উন্নতমানের তুলাসহ নানা কিছু তৈরির কারখানায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে সকলের সমর্থন ও দোয়া চান মোহাঃ সাদিকুল ইসলাম
উদ্যোক্তা আশিক ও শাওন জানান, প্রথমে কলাগাছ সংগ্রহ করে বাইরের স্তর আলাদা করা হয়। তারপর পরিস্কার করে মেশিনের সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আঁশ বের করা হয়। ভালোভাবে রোদে শুকানোর পর সেই আঁশ পাকিয়ে তৈরি হয় সুতা। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিবেশবান্ধব হয়। এতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার হয় না, ফলে প্রকৃতির ক্ষতি ছাড়াই তারা বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন। এবং বাকল থেকে আঁশ ছাড়ানোর সময় বের হওয়া রস বা পানি নানা কীটনাশক ও সাবান কোম্পানিতে বিক্রি করা হচ্ছে। অবশিষ্ট বজ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে জৈব সার।
উদ্যোক্তা আশিক জানান, ইউটিউবে দেখে কলাগাছ সংগ্রহ করে সুতা বানানোর কাজ শুরু করার সময় এলাকার মানুষ হাসাহাসি করতো, কিন্তু এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। তারা উৎপাদিত আঁশ বা সুতা এবং রস এখন ঢাকায় ভাল দামে বিক্রি করছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে শুধুমাত্র সুতা নয়, বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য এবং স্যানেটরি ন্যাপকিন তৈরি করে তারা নিজেদের এবং এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক বাজার বড় হওয়ায় ভবিষ্যতে রফতানির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাদের এ উদ্যোগে স্থানীয় বেশকিছু লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নারী কর্মীরা সংসারের কাজের ফাঁকে ঘরে বসেই সুতা তৈরির কাজ করছেন, এতে পরিবারিক আয় বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের মানুষ সুতা তৈরি দেখতে আসছেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস জানিয়েছেন, অন্যান্য কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি পাঠের বিকল্প হিসেবে এ ধরনের আঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ শিল্পের প্রসারে তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হলো
কলার গাছ থেকে তৈরি সুতা প্রতি কেজি প্রকার ভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং প্রতি লিটার রস ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন