০৮:৪৮ পি.এম
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর খাবারের চামচে দুই হাত দূর থেকে ফুঁ দেওয়ার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে দেখা যায় কুমেক হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জি আর এম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজকে ফুঁ দিতে।
এই ঘটনা ঘটে ২৫ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার মান লক্ষ্য করেন। পাশাপাশি রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে তিনি রান্নাঘরে গিয়ে নিজেই খাবার পরীক্ষা করেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রী দেখতে পান তরকারি গরম আছে, তখন তিনি চামচে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। তখন তার পাশে থাকা ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজও দুই হাত দূর থেকে একই চামচে ফুঁ দেন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
জানা গেছে, ডা. রিয়াজ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। ছাত্রজীবনে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখা studentদলের সভাপতি ছিলেন। ৩২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। এরপর ওএসডি হিসেবে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন।
এদিকে এই ঘটনায় ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "আমি মন্ত্রীর পাশে ছিলাম। তিনি যে খাবারটি পরীক্ষা করার জন্য নিয়েছিলেন, সেটি অনেক গরম ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম। পরে দেখলাম বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মন্ত্রীকে তোষামোদ করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমি শুধু গরম খাবারটি ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।" সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "মানুষ বিষয়টিকে যেভাবে দেখেছে, তা আমি আগে ভাবিনি। আমরা পাশাপাশি থাকলে অনেক সময় হঠাৎ করে কিছু কাজ করে ফেলি, কিন্তু সেগুলো এতটা চিন্তা করে করা হয় না। এখন বুঝতে পারছি, এ ধরনের বিষয়েও মানুষ অনেক গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সচেতন থাকব।"
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন