মোঃ রাসেল সরকার ( স্টাফ রিপোর্টার)
০৮:১০ পি.এম
শাহজাদপুর থানার পুলিশ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আন্তঃ জেলা মোটর সাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ৫টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে। ২৬ জুলাই রবিবার বিকেলে, শাহজাদপুর থানায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান।
২৫ জুলাই শনিবার রাতে, শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান ও অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নির্দেশনায় এস,আই আজিজুল ইসলাম এবং এস,আই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে এত্র থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানে আন্তঃ জেলা মোটর সাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। আটক হওয়া সদস্যরা হলেন উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের জামাত প্রামাণিক এর ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম বাবু (২৯), বাড়াবিল উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল এর ছেলে মোঃ রায়হান হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে মোঃ বেল্লাল হোসেন (৩০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ব্রান্ডের রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ৫টি মোটর সাইকেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান প্রথম বারের মতো বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আগমনের সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে লাল গলিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩ টায়, যখন তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে পৌঁছান, তখন বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। সালাম গ্রহণ করার পরে, বিভাগীয় কমিশনার বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে নারিকেল গাছ রোপণ করেন এবং উপজেলা কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল ও মতবিনিময় করেন।
উপজেলা পরিষদ পরিদর্শনকালে তিনি সার্টিফিকেট মামলা নিষ্পত্তি ও সার্বিক তদারকি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন। সভায় দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর জোর গুরুত্বারোপ করেন। পরবর্তীতে তিনি ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মাঠপর্যায়ের নানা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
লাল গালিচা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তন্ময় হালদার, থানা অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা হাসনাইন আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন হামলার পর ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বিশেষ করে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট করিডোরগুলোর দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ঐ সময় তিনি মার্কিন হামলার ফলে দেশে যেসব অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত চিত্র জানানো হয়।
ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অবকাঠামোগত সংযোগ স্থাপনকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন, প্রতিবেশীদের সাথে রেল নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন ও সংযুক্ত করতে পারলে তা আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট করিডোরগুলোর উন্নয়ন এবং ইরানের ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে এক তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন আঘাতের ফলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি তেহরানের অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে যাওয়ার পর পরই মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিস্ফোরিত হয়।
এ ঘটনার ঘটনায় ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। অবশ্য প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তেলবাহী ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে, যা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই ঘটতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী যখন নির্ধারিত রুট থেকে সরে যায়, তখন জাহাজটি মাইন আঘাতে বিস্ফোরিত হয়।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগেও ইরান একাধিকবার সতর্ক করে বলেছিল, নির্ধারিত নৌপথ থেকে বিচ্যুত হলে জাহাজগুলোকে এর পরিণতি নিজেদেরই বহন করতে হবে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কয়েকটি জাহাজ আটক বা সেগুলোর ওপর হামলার পর এক বিবৃতিতে জানায় যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাতায়াত করতে হবে। একইসাথে, হরমুজে চলাচলের জন্য নির্ধারিত রুট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক বলেও সেখানকার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শুধু বিনিয়োগ নয় বরং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক এমন বিনিয়োগ চায়।
রোববার রাজধানীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: বর্ধিত আস্থা ও নতুন দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ড. তিতুমীর মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সবথেকে বড় সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হলো শিল্পায়ন। চীনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যে পর্যায়ক্রমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ।
বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্কের অসমতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও, চীনে বাংলাদেশীর রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। এই পার্থক্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চীনের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের মতো মূল্য সংযোজিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি পেয়ারা এবং কাঁঠালের জন্য চীনের বাজার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
ড. তিতুমীর বলেন, চীনা বিনিয়োগকে শুধু একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে, দেশের অন্যান্য বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। শিল্প স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন সুযোগ তৈরি করতে আগ্রহী।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসাবে গড়ে তুলতে চায়, পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুতগতি রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, আধুনিক মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
কুনমিং-চট্টগ্রাম মাল্টিমোডাল পরিবহন করিডোর এবং বাংলাদেশ–চীন–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) সম্পর্কেও ইতিবাচক মনোভাব জানায় তিনি।
জ্বালানি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করলেন ড. তিতুমীর। তিনি বললেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, ড্রেজিং প্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় উভয় দেশের সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে চীনের সক্রিয় ভূমিকাও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে ঢাকা।
ড. তিতুমীর প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ঐ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এখন এই সম্পর্কের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগের বিকল্প নেই। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের কেন্দ্রে থাকবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীনা বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ