প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শুধু বিনিয়োগ নয় বরং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক এমন বিনিয়োগ চায়।
রোববার রাজধানীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: বর্ধিত আস্থা ও নতুন দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ড. তিতুমীর মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সবথেকে বড় সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হলো শিল্পায়ন। চীনের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যে পর্যায়ক্রমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ।
বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্কের অসমতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও, চীনে বাংলাদেশীর রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। এই পার্থক্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চীনের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের মতো মূল্য সংযোজিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি পেয়ারা এবং কাঁঠালের জন্য চীনের বাজার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
ড. তিতুমীর বলেন, চীনা বিনিয়োগকে শুধু একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে, দেশের অন্যান্য বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। শিল্প স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন সুযোগ তৈরি করতে আগ্রহী।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসাবে গড়ে তুলতে চায়, পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুতগতি রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, আধুনিক মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
কুনমিং-চট্টগ্রাম মাল্টিমোডাল পরিবহন করিডোর এবং বাংলাদেশ–চীন–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) সম্পর্কেও ইতিবাচক মনোভাব জানায় তিনি।
জ্বালানি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করলেন ড. তিতুমীর। তিনি বললেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, ড্রেজিং প্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় উভয় দেশের সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে চীনের সক্রিয় ভূমিকাও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে ঢাকা।
ড. তিতুমীর প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ঐ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এখন এই সম্পর্কের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগের বিকল্প নেই। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের কেন্দ্রে থাকবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীনা বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন