০৬:৩৪ পি.এম
বর্ষা এলেই যেন পদ্মার ক্ষুধার্ত রূপ একটি নতুন মাত্রা পায়। উত্তাল ঢেউ এবং প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যে শুরু হয় নদীতীরের মানুষদের নির্ঘুম রাত। একদিকে ভাঙনের গর্জন ভেসে আসে, অন্যদিকে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়টুকু হারানোর আতঙ্ক। চোখের সামনে, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, ফসলি জমি এবং জীবিকার অবলম্বন। কান্না, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা এখন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর ও আকোটেরচর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের তীব্র স্রোত এবং পানি বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি আছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত বিঘা ফসলি জমি, প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর, কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা এবং গুরুত্বপুর্ণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, আকোট, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন যদি অব্যাহত থাকে তবে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প, গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীশাসনের দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি— 'ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ চাই'। তাদের মতে, সাময়িক সহায়তার চেয়ে টেকসই নদীশাসন প্রকল্পই পারে এ অঞ্চলের মানুষকে ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করার কাজ চলছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করা হচ্ছে।
পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। বর্তমানে তাদের একমাত্র প্রত্যাশা— স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদে নিজের ভিটেমাটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন