প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মনজুরুল করিম খান চৌধুরী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একটি সংবাদ মাধ্যমে জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সংক্ষিপ্ত সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য কুয়ালালামপুরকে বেছে নেয়ার মাধ্যমে ঢাকা এই সম্পর্ককে বিশেষ মূল্যায়ন করার একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। এই সফরটি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে, এবং উভয় নেতাই বিদ্যমান সম্পর্ককে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আলোচনা দ্রুত শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রফতানিতে প্রায় ৩২ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। তবে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা বাণিজ্য প্রসারে একটি বড় ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও সেতু, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করার জন্য মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (আসিয়ান) বাজারে রফতানি করার জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বৈশ্বিকভাবে ২৮তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর এটি মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও আমদানির উৎস। গত বছরে এই দুই দেশের মোট বাণিজ্য ছিল ১২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্যসহ অন্যান্য রফতানি ছিল ১০ দশমিক ০৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত, এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও পাদুকা রফতানি ছিল ২ দশমিক ১০ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
বাণিজ্য সম্পর্কের এই দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি, আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে বাংলাদেশ আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন