১১:৫৩ পি.এম
বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে ভুল ট্রেনে উঠে শেষে শত শত কিলোমিটার দূরের খুলনায় চলে আসে আট বছরের শিশু তৌহিদুল ইসলাম বাবু। অচেনা শহরে পথ হারিয়ে বিপদের মুখে পড়লেও, শেষ পর্যন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উদ্যোগে সে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ৮টার পর সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ তৌহিদকে কেন্দ্রটিতে নিয়ে আসে। পরে কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, সে ঢাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকায় বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হলেও ভুলবশত কক্সবাজারগামী ট্রেনের পরিবর্তে খুলনাগামী ট্রেনে উঠে পড়ে।
খুলনায় পৌঁছানোর পরে এক ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে যান। তৌহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে পাঞ্জাবি খুলে ফেলতে বলেন এবং মোবাইল ফোনে আরেকজনকে কল করে জানান, ‘একজনকে পেয়েছি, নিয়ে আসছি।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার
এসব কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে সে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে সে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে কক্সবাজারে ফেরার চেষ্টা করে, কিন্তু তার কাছে কোনো টাকা না থাকায় অসহায় অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে।
এ সময় এক ব্যক্তি তাকে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান। পুলিশ পরে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ এসআই মাহমুদা জানান, শিশুটির দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে তার খালু কক্সবাজার থেকে খুলনায় এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় নিয়ে যান।
তৌহিদের খালু জুয়েল রানা জানান, গত ৩ জুলাই শিশুটির ছোট মামা তাকে মাদ্রাসা থেকে ঘুরতে বের করেছিলেন। সঙ্গে আরো দুই শিশু ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় তৌহিদ সবার পেছনে পড়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে অন্যদিকে চলে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে ঢাকার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে খুলনা থেকে ফোন পেয়ে তাকে নিতে আসেন তিনি।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন