০৭:৫০ পি.এম
বাংলার ব্যাংক খাতের ভিত আরও মজবুত করার লক্ষ্যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করেছে।
‘ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। পাশাপাশি, এই ঋণ ব্যাংক খাতের সংকট দূর করার এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করতে অবদান রাখবে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই
ঢাকা অফিস থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর জরুরি লিকুইডিটি সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার নির্ধারণ করা।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার ৩২.৫ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে মন্তব্য করেন যে, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাংক খাতের অধীনে রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে, যা সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণের ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।
ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এটি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন