বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৫ পি.এম
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ১৮ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। বর্তমান সময়ে সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও ১৯৯১ সালের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সরাসরি জনগণের ভোটে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ২৫ মার্চ গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাই তার অনুপস্থিতিতে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বিচারপতি হওয়ার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন মোহাম্মদউল্লাহ, যিনি ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে অস্থায়ী থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ২৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর তাকে প্রজাতন্ত্রের উপরাষ্ট্রপতি করা হয়।
শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮৩ দিন রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। তিনি ছিলেন অঘোষিত রাষ্ট্রপতি এবং নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
খন্দকার মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে। ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের পর খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল এবং অভ্যুত্থানকারী কতিপয় সেনা অফিসারের অনুরোধে ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম কে দেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিয়ে সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। ৩০ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে তিনি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের হাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়ে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পদত্যাগের পর দেশের রাষ্ট্রপতি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার বয়স তখন ছিল ৭৬ বছর। পরে তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৮১ সালের তারিখে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তাকে ক্ষমতা থেকে পদচ্যুত করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।
মাত্র কয়েকদিন পরে ২৭ মার্চ জেনারেল এরশাদ আ ফ ম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত করেন। তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে এরশাদের চাপের ফলে পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন সামরিক শাসক এরশাদ।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে সংসদ বাতিল করেন।
১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সব দল বয়কট করে। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সব বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। আন্দোলনের মুখে এইচএম এরশাদ পদত্যাগ করার পর, ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ই অক্টোবর ১৯৯১ পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করে আবার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফিরে যান।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। সে বছরের ৯ই অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আহমেদ।
জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রহমান বিশ্বাস মাঝের পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ষোড়শ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কয়েক মাস পর তিনি ৮ অক্টোবর তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করেন।
২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যিনি বি. চৌধুরী নামেই পরিচিত। ২১ জুন ২০০২ সালে এক বিতর্কিত ঘটনার জের ধরে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীকালে আরেকটি রাজনৈতিক দল বিকল্প ধারা বাংলাদেশ গঠন করেন।
বি. চৌধুরী পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন এবং দুই দফা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে তিনি ১১ জানুয়ারি ২০০৭ সালে উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে জিল্লুর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ১৬ জুলাই রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন। সেই সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে জিল্লুর রহমান দল পরিচালনা করেন।
সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিল্লুর রহমান ২০ মার্চ ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যুর ৬ দিন পূর্বেই ১৪ মার্চ, ২০১৩ তারিখে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে (২০ তম) দায়িত্ব গ্রহণ করেন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। তিনি দ্বিতীয় বারের মত বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন
মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বঙ্গভবনে ২৪ এপ্রিল ২০২৩ সালে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ব্যাপক চাপের মধ্য পড়েন এবং ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি তার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর আগে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি প্রধান প্রেসিডেনশিয়াল বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ না উঠে, বিমানবন্দরের ক্যাটারিং কনটেইনারের ভিতরে লুকিয়ে এক গোপন ছোট সামরিক বিমানটিতে চড়ে বসেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের অজান্তেই মূল বিমানটিকে ‘ডিকয়’ বা ফাঁদ হিসেবে আগে থেকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
৮ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফ্লাইটের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া বা পর্দা টেনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানাতে বলেন, ‘আমাদের যেসব শয়তানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে কারণে আপনারা সম্ভবত বিপজ্জনক এক ফ্লাইটে আছেন।’
এরপর তিনি ঠাট্টা করে বলেন, ‘আমি গেলে তো আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো ভবিষ্যতে আপনারা পেশা বদল করার কথা ভাববেন।’
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি থেকে ট্রাম্পকে এভাবে গোপন কৌশলে অন্য বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল বিমানটি লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ছিল। এছাড়া ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ (শোল্ডার-ফায়ারড মিসাইল) এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছিলেন বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়ে জানান।
ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। বিমানটির সামনে এবং পেছনে হাইড্রোলিক লিফটে খাবারের কনটেইনার তোলা হচ্ছিল। বিমানে প্রবেশের পরপরই কৌশল বদলে ফেলেন ট্রাম্প। তিনি দ্রুত একটি কার্গো কনটেইনারের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং সেখান থেকে তাকে পাশের একটি ছোট বিমান বাহিনীর বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রেসিডেনশিয়াল বিমানের পৃথক অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক ট্রাম্পের এই বিমান বদলের খবর ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা ইরানের এই প্রত্যক্ষ হুমকির মধ্যে তারা ‘ডিকয়’ বিমানে করে তুরস্ক ত্যাগ করেন।
তবে সাংবাদিকদের চরম ঝুঁকিতে ফেলে আসার এই অভিযোগ কানেই তোলেননি ট্রাম্প। পরবর্তীতে এক মন্তব্যে পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি যে বিমানে ফিরেছি, সেটিতেই ঝুঁকি বেশি ছিল।’ তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে, নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি কোনো কিছু নিয়েই পরোয়া করি না। যা হওয়ার হবে!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে শুরু হচ্ছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। দেশের অটোমোবাইল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইসিসিবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, ডিলার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ক্রেতারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সেবা ও আর্থিক সুবিধার ব্যাপারে তথ্য জানতে পারবেন।
আয়োজকদের মতে, দেশে অটোমোবাইলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি নিয়মিত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন রয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই প্রয়োজন পূরণকে লক্ষ্য করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সময়, এটি অটোমোবাইল ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, ফেয়ার গ্রুপের হেড অব গ্রুপ মার্কেটিং তাসলিম কবির, বিওয়াইডি বাংলাদেশের হেড অব ক্যাটাগরি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং ইমতিয়াজ নওশের, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং ডিভিশন মো. ওয়াহেদ ইবনে শাহেদ, চেরি বাংলাদেশের হেড অব সেলস আবু নাসের মাহমুদ, উইজার্ড শোবিজের চেয়ারম্যান মো. ফয়েজ উল্লাহ, সিইও আরিফুজ্জামান রাসেল এবং আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দীনসহ অটোমোবাইল খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন গাড়ি ও মোটরসাইকেল কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূর্ণ করতে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
ক্রেতারা এই আয়োজনে এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাবেন। বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ এবং কার ও বাইক কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তারা এটিকে দেশের অটোমোবাইল ইকোসিস্টেমের জন্য একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। আয়োজকরা জানান, ‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। পাশাপাশি, ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগ থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দেশের ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হিসেবে ঘরেরবাজারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নতুন ইনিংস শুরু করেছেন।
মাহমুদউল্লাহ ঘরেরবাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডগুলো যেমন স্বস্তি, হানিরাজ, খেজুরি, গ্লারভেস্ট ও ইসলামিক লাইফস্টাইল ফ্যাশন ব্র্যান্ড তাবায়ার ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। এই ঘোষণা গত ১১ আগস্ট ঘরেরবাজারের বনশ্রী প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়।
এসময় মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘরেরবাজার প্রতিষ্ঠানের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে তিনি ঘরেরবাজারের ব্র্যান্ড তাবায়ার থোব এবং পাঞ্জাবি পরেও দেখেন।
অর্গানিক ও সেইফ ফুড ব্র্যান্ড ঘরেরবাজার মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য তালিকায় দেশীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই করা খাদ্যপণ্যও রয়েছে।
নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাহমুদউল্লাহকে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পণ্য ও ব্র্যান্ডের গল্প আরও বিস্তৃত পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায়।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও দায়িত্বশীলতার জন্য মাহমুদউল্লাহ পরিচিত। ঘরেরবাজারের মতে, তার এই অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠানটির মান ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়।
এ ব্যাপারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, "ঘরেরবাজার বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড, তাদের প্রতি আমার আস্থা আছে। ইনশাআল্লাহ এই অংশীদারিত্ব থেকে ভবিষ্যতে ভালো কিছু বের হয়ে আসবে।”
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ঘরেরবাজারের পরবর্তী ক্যাম্পেইন ও ডিজিটাল কনটেন্ট কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। নতুন এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও পণ্যের কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ঘরেরবাজার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ