প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি প্রধান প্রেসিডেনশিয়াল বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ না উঠে, বিমানবন্দরের ক্যাটারিং কনটেইনারের ভিতরে লুকিয়ে এক গোপন ছোট সামরিক বিমানটিতে চড়ে বসেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের অজান্তেই মূল বিমানটিকে ‘ডিকয়’ বা ফাঁদ হিসেবে আগে থেকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
৮ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফ্লাইটের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া বা পর্দা টেনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানাতে বলেন, ‘আমাদের যেসব শয়তানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে কারণে আপনারা সম্ভবত বিপজ্জনক এক ফ্লাইটে আছেন।’
এরপর তিনি ঠাট্টা করে বলেন, ‘আমি গেলে তো আপনারাও যাবেন, তাই না? হয়তো ভবিষ্যতে আপনারা পেশা বদল করার কথা ভাববেন।’
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি থেকে ট্রাম্পকে এভাবে গোপন কৌশলে অন্য বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল বিমানটি লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ছিল। এছাড়া ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ (শোল্ডার-ফায়ারড মিসাইল) এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছিলেন বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়ে জানান।
ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। বিমানটির সামনে এবং পেছনে হাইড্রোলিক লিফটে খাবারের কনটেইনার তোলা হচ্ছিল। বিমানে প্রবেশের পরপরই কৌশল বদলে ফেলেন ট্রাম্প। তিনি দ্রুত একটি কার্গো কনটেইনারের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং সেখান থেকে তাকে পাশের একটি ছোট বিমান বাহিনীর বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রেসিডেনশিয়াল বিমানের পৃথক অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক ট্রাম্পের এই বিমান বদলের খবর ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা ইরানের এই প্রত্যক্ষ হুমকির মধ্যে তারা ‘ডিকয়’ বিমানে করে তুরস্ক ত্যাগ করেন।
তবে সাংবাদিকদের চরম ঝুঁকিতে ফেলে আসার এই অভিযোগ কানেই তোলেননি ট্রাম্প। পরবর্তীতে এক মন্তব্যে পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি যে বিমানে ফিরেছি, সেটিতেই ঝুঁকি বেশি ছিল।’ তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে, নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি কোনো কিছু নিয়েই পরোয়া করি না। যা হওয়ার হবে!’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন