০৮:৫৯ এম
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওক পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর করে পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, রোববার মধ্যরাত থেকে তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।
প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগইয়ার নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি দ্রুত এই সাংবিধানিক সংশোধনী পার্লামেন্টে পাস করে। দলটির দাবির ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুলিওক প্রেসিডেন্ট পদে থেকে পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব বজায় রাখছিলেন। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর অরবানের সরকার পরাজিত হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য সুলিওকের হাতে পাঁচ দিন সময় ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। তবে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
সুলিওক বলেন, এই সংশোধনী হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ পদদলিত হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিসা সরকার সুলিওকের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। নতুন সরকার ইতোমধ্যে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সাংবিধানিক সংশোধনীকে "স্বৈরাচারী পদক্ষেপ" হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
এপ্রিলের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর অরবানের দল ফিদেস রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অরবান নিজেও দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা দিয়েছেন এবং পার্লামেন্টে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ফিদেস সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার পর তিসা পার্টির ১৪১ জন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
এদিকে, হাঙ্গেরির সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আন্দ্রাস বাকা বিবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত। তার ভাষায়, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর ছিল। তবে এরপর ফিদেস ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
বাকা আরও বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও টিকে থাকার জন্য যে সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, সেটি ভেঙে ফেলা এখন অত্যন্ত কঠিন।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন