১০:৪৩ পি.এম
ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের নদী, ঝরণা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও এক প্রভাবশালী চক্র দিনের বেলায় এবং রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা এবং হালচাটি এলাকা সহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কাজে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলা পর্যন্ত সাহস পায় না। গত ২৪ জুন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সরেজমিনে কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকায় কালঘোষা নদী থেকে অন্তত ১০ জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বনরানী এলাকার একটি পাহাড়ি ঝরণা থেকেও দুই-তিনজনকে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কিছুদিন ওই কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার’ (সোয়ান)-এর সভাপতি মো. নাইম ইসলাম মন্তব্য করেন, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অব্যবস্থাপনার কারণে বালু উত্তোলন পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী অভিযোগ করেছেন যে, এভাবে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের পেছনে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘদিন এ কার্যক্রম চলতে পারতো না। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান। তিনি জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ কাজে জড়িত নয়। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
তিনি আরও জানান, গত সোমবার ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযানে নামা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হচ্ছে এবং পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন