বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ পি.এম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দেওয়ার জন্য তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঘটনা ও পেপার স্প্রে প্রয়োগ করার মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষ করার পর এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার সময় রাজধানী ভাটারা এলাকার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার পর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সাথে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামি এবং অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেন। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে রাস্তা বন্ধ করে ফেলেন। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন, সে কারণে তারা রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গেলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। তারা বিভিন্ন ট্রাক, বালুর ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করেও আসামিদের বাধা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে উক্ত আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৩/১৪৭/১৪৮/৩৪১/৩৪২/৩৪৩/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ এর ১৫(১)বি ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফিরলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জুলাই শহীদদের পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে এই মাধ্যমে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে- একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু, এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
রিজভী এরপর বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে আবার রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে ভাগাভাগি করলে ক্ষতি সবারই হবে। পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটলে এ দেশ চিরদিনের জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারাবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
এই অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সভাপতিত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, ফাহিমা নাসিরসহ আরো অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর সরকার আগামী ১৬ আগস্ট দেশের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এরপর চার বছরে এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি একটি চলমান বা ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা কমানোই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত তথ্য সংশোধন চলবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচিতে কোনো ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করা হবে। একসঙ্গে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংখ্যা হয়তো বেশি হবে। চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর।
তিনি জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের খোঁজ নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন থেকে অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, দারিদ্র্য কতটা কমছে এসব বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাও পরিচালনা করা হবে। তবে এ ধরনের গবেষণার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, কারা সুবিধা পাবেন বা পাবেন না সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। এগুলো কোনো গোপন নথি নয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এ কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে কারও মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
আর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হয়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। বাস্তবায়নের সময় নতুন কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত হলে সেটিও নিয়মিত সংশোধন করা হবে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কমিটি তথ্য যাচাই করবে। সেখানে আইসিটি ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকবেন। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সমন্বয়ে কমিটি থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পর্যায়েও পৃথক কমিটি রয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই কর্মসূচিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি একাধিক ভাতা না পান। একই ব্যক্তি বারবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকারের সব নিয়ম, নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিজিবি অবৈধ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে। ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দ্বারা পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানটিতে জব্দকৃত ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ২০ হাজার ৮ শত টাকা।
বিজিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ একটি গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর আসে যে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাধীন পানিহাটা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরা কারবারিরা অভিনব কৌশলে ভারতীয় ওষুধের একটি চালান বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। এই সংবাদ অনুসারে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর রাত ৪টায় পানিহাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরা কারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় ওষুধ জব্দ করতে সক্ষম হয়। বিজিবি জানায়, জব্দকৃত ওষুধের আনুমানিক মূল্য ৮১ লক্ষ ২০ হাজার ৮ শত টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি দেশটির অটল ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ দিয়ে আইসিসি থেকে সদস্যপদ ও অর্থায়ন প্রত্যাহারের চেষ্টা চালানোর পরেও, কানাডা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির ভূমিকা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কানাডার বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সরকারের নীরবতা ও আইসিসির রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখা হচ্ছে কি না—এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গর্বের সঙ্গে জানান যে, কানাডা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি গর্বিত সদস্য রাষ্ট্র। তিনি বলেন, কানাডা আদালটিকে অর্থ, দক্ষ জনবল, নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি কার্নি উল্লেখ করেন যে, ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক ও বিভক্ত বিশ্বে আইসিসি এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে আদালতের দায়িত্ব ও পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার একটি মামলার প্রেক্ষিতে আইসিসির কানাডীয় বিচারক কিমবার্লি প্রস্টসহ চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশে হয়ে ছিল। প্রশ্ন করা হলে, কার্নি জানান, কানাডা সরকার ওই বিচারককে সমস্ত প্রয়োজনে সাহায্য করবে। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচন করতে সক্ষমতা ও ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি অটোয়ার পূর্ণ সমর্থন যে দৃঢ় ও অসংকোচ, তা তিনি আবারও জানিয়ে দেন।
গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আইসিসির তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। যদিও পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে করিম খানকে পদচ্যুত করা হয়েছিল, তথাপি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপ মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষিপ্ত করেছিল এবং তারা আইসিসির ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, আইসিসি প্রতিষ্ঠার মূল সনদ ‘রোম সনদে’ যুক্তরাষ্ট্র কখনোই স্বাক্ষর করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি চাদ আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলা, বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার এই আন্তর্জাতিক আদালত থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এই বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ