প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি দেশটির অটল ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ দিয়ে আইসিসি থেকে সদস্যপদ ও অর্থায়ন প্রত্যাহারের চেষ্টা চালানোর পরেও, কানাডা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির ভূমিকা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কানাডার বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সরকারের নীরবতা ও আইসিসির রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখা হচ্ছে কি না—এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গর্বের সঙ্গে জানান যে, কানাডা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি গর্বিত সদস্য রাষ্ট্র। তিনি বলেন, কানাডা আদালটিকে অর্থ, দক্ষ জনবল, নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি কার্নি উল্লেখ করেন যে, ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক ও বিভক্ত বিশ্বে আইসিসি এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে আদালতের দায়িত্ব ও পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার একটি মামলার প্রেক্ষিতে আইসিসির কানাডীয় বিচারক কিমবার্লি প্রস্টসহ চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশে হয়ে ছিল। প্রশ্ন করা হলে, কার্নি জানান, কানাডা সরকার ওই বিচারককে সমস্ত প্রয়োজনে সাহায্য করবে। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচন করতে সক্ষমতা ও ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি অটোয়ার পূর্ণ সমর্থন যে দৃঢ় ও অসংকোচ, তা তিনি আবারও জানিয়ে দেন।
গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আইসিসির তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। যদিও পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে করিম খানকে পদচ্যুত করা হয়েছিল, তথাপি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপ মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষিপ্ত করেছিল এবং তারা আইসিসির ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, আইসিসি প্রতিষ্ঠার মূল সনদ ‘রোম সনদে’ যুক্তরাষ্ট্র কখনোই স্বাক্ষর করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি চাদ আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলা, বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার এই আন্তর্জাতিক আদালত থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এই বৈশ্বিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন