০৮:০৭ পি.এম
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। দেশটির বর্তমান অভিবাসন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা যেসব শর্ত পূরণ করেন, তারা মাত্র তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই আবেদনটি ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনকৃত গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা তিন বছরের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে সক্ষম হন। তবে, তিন বছর শুধু যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হয় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন করা। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি অথবা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে, এবং তার গবেষণার অর্থায়নও একটি অনুমোদিত তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
এই পথে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য অবশ্যই ৩০ হাজার পাউন্ডের ন্যূনতম হতে হবে এবং এর মেয়াদ অন্তত দুই বছর থাকতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছরের মেয়াদ বাকি থাকতে হবে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ সেই গবেষণা অনুদানের ভিত্তিতে কাজের আওতায় ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক উপযুক্ত গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করা সম্ভব।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার একটি বড় সুবিধা হলো কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসর-নির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট মূল চাকরির সঙ্গে বাঁধা নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে অথবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য থাকে।
স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রয়াল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণা কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের বাইরেও কাটানো সময়ের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাব ক্ষতিগ্রস্ত করে না।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
তবে, স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার জন্য তিন বছর পর আবেদনকারীকে তার ভিসার মেয়াদ পূর্ণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণও দেখাতে হবে, সাথে প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে। বর্তমানে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা ও যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।
এই কারণে, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা কেবল যুক্তরাজ্যে গবেষণা অথবা চাকরির সুযোগ নয়, বরং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত স্থায়ীভাবে বসবাসের পথও সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এ ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন