বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৫৩ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে উঠে এসেছে।
সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নবীপুর এলাকায় মোট ১১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘরের অধিকাংশই প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিজেদের এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও প্রকাশ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোর একটি বড় অংশ পরে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ঘর বিক্রি হয়ে গেছে এবং অন্তত ৪০টি ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এতে আশ্রয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এছাড়া প্রকল্পের ৩০ থেকে ৪০টি ঘরে নিয়মিত মাদক বেচাকেনা, মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তবে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এ বিষয়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তিরা এই কার্যক্রম থেকে নিয়মিত কমিশন পান।
আশ্রয়ন প্রকল্প কমিটির সভাপতি জজ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়া এ বিষয়ে জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও ঘর বিক্রি-ভাড়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয়।
তারা আরও বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, উল্টো মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে অভিযোগদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এ ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং আশ্রয়ন প্রকল্পকে প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য পুনর্বিন্যাসের দাবি করেছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ঘর বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের নামে সরকারি বরাদ্দ নেই, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যদি কেউ অবৈধভাবে ঘর বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে থাকে, তবে তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের কাছে ঘর হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশুমেলা।
শোলা কুড়ী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় মোট ১৭ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং মধুপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি নঈম উদ্দিন। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন শোলাকুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কেরামত আলী, শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকাদ্দেছ আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শোলাকুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা মল্লিক।
তাহমিনা মল্লিক জানান, এই আয়োজনটি শিশুরা সৃজনশীলতা বিকাশ এবং আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিতর্ক নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। বরাবরের মতো, তার সঙ্গে একটি নারীর আবাসিক হোটেলে প্রবেশের একটি নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওতে এমপিকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীর সঙ্গে নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করছেন। এসময় হোটেলের রিসেপশনে কর্তব্যরত একজন ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর পর তারা ভিতরে চলে যান। ভিডিওটির অন্য একটি অংশে দেখা যায়, হোটেলের লবিতে ওই নারীর সঙ্গে এমপিকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।
তবে, ভিডিওতে উপস্থিত নারীর পরিচয় সম্পর্কিত যে তথ্য রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এটি তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার (বেগম) কি-না, এ বিষয়ে কোন স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসাথে, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ওই ঘটনার পর, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একটি লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার। তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে আসেন মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে এক নারী এবং তার ১১ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে আনসার সদস্যদের দ্রুত ও দায়িত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে তারা প্রাণে বেঁচে যান।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল বেলা হাতিরঝিলের রাজউক প্রকল্প এলাকায় ঘটে এ ঘটনাটি। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টহলরত আনসার সদস্য জাহিদুল ও রেদোয়ান জানান, বিকেলে তারা চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এমন একটি নারীকে কোলের শিশুকে নিয়ে লক্ষ্য করেন। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে তারা দ্রুত ছুটে গিয়েছিলেন এবং ওই নারীকে বাধা দেন। কিন্তু ওই নারী বারবার চিৎকার করতে থাকেন যে তিনি বাঁচতে চান না এবং রাস্তা থেকে সরে যেতে অস্বীকার করেন।
পরবর্তী সময়ে, সেখানে উপস্থিত র্যাব-৩-এর একটি টহল দল এগিয়ে আসে। এরপর সবাই মিলে ওই নারীকে আশ্বস্ত করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এর পর হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে ওই নারীর পরিবার থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হয়।
সংবাদ পেয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম ছুটে আসেন। তিনি জানান, তার স্ত্রী হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন তারা। এ সময় মানিবাগে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে শিশুকে নিয়ে বের হয়ে যান তার স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত আনসার সদস্যরা মা ও শিশুকে অক্ষত অবস্থায় তার স্বামীর কাছে হস্তান্তর করেন।
স্ত্রী ও সন্তানের জীবন রক্ষায় আনসার সদস্যদের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য শরিফুল ইসলাম আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মিন্টু শেখ ওরফে মিন্টু মিয়া (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে র্যাবের সদস্যরা।
তিনি একাধিক অস্ত্র মামলাসহ মোট ২৯ মামলার আসামি। র্যাব-২ সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা জানতে পারে যে, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মিন্টু শেখ কারওয়ান বাজারে রয়েছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী এবং শীর্ষ মাদক কারবারি।
র্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিন্টুকে গ্রেফতার করেছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেফতার মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাই, চুরি, মাদকসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। মিন্টুর বিরুদ্ধে ডিএমপির তেজগাঁও থানায় দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে ১৪টি মামলা রয়েছে।
এছাড়া, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় আরও ৭টি মামলাসহ দেশব্যাপী মোট আটটি মামলা রয়েছে। মিন্টুর অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ