এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৫:১১ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুরে সংঘটিত এক ঘটনায় অজ্ঞাত একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হন। নিহত কিশোরের নাম বিজয় দাস, বয়স ১৭।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সদরপুর উপজেলার সাড়ে সাতরশি গ্রামের আয়নালের মোড় এলাকায় ভাঙ্গা-বগাইল থেকে সদরপুরগামী সড়কে ঘটনাটি ঘটে। নিহত বিজয় দাস সদরপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চিত্তরঞ্জন দাসের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজয় দাস মোটরসাইকেল নিয়ে ভাঙ্গা থেকে সদরপুরের দিকে যাত্রা করছিলেন। যখন আয়নালের মোড় এলাকার কাছে পৌঁছান, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদরপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিজয় দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে সদরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমানের রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। দেশের লক্ষ্য অনুযায়ী তার নতুন চিন্তায় বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই রাজনীতিতে দেশের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ বাদ যাবে না। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নয়নের সুফল পাবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আমির খসরু আরও বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ, শিশু, নারী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী- এই বাজেটে কেউ বাদ যায়নি। প্রত্যেক মানুষের সমস্যা প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি নতুন রাজনীতি শুরু করেছেন এবং নতুন চিন্তায় বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। কারণ বিশ্ব পাল্টে গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের বাড়ি বাড়ি অর্থনীতির সুফল পৌঁছে যাবে। প্রত্যেক নারীর ঘরে ঘরে সেই সুফল পৌঁছাবে। পরিবারের প্রধান নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কৃষকের কাছে কৃষিকার্ড যাবে। আলেম-ওলামাদের জন্য আলাদা বাজেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, সর্বস্তরের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনা পয়সায় যাতে মানুষ অসুস্থ না হন, সে জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই দুটি মানুষের প্রধান ব্যয়ের খাত। এসব খাতে যদি মানুষের খরচ কমে যায়, ফ্যামিলি কার্ড পেলে এবং কৃষক কার্ডের টাকা পেলে, আলেম-ওলামারা সহায়তা পেলে, তাহলে আর কেউ বাকি থাকবে না। দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর উন্নয়নের ব্যাপারে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বাঁশখালীর যত সম্ভাবনা আছে, সবগুলোকে সরকার কাজে লাগাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর দ্বারাপ্রান্তে অঙ্গীকারিত আলোচনা হলো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায়। এখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা শুরু হয়েছে। রবিবার বিকেল ৪টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, যিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন অংশ নিচ্ছেন। সভায় ধর্মীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়িতে পৌঁছান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় যান এবং আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিসর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই বিষয়টি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে তিন দেশ 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' সই করার পরদিনই তিনি মিসরকে জোটে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানান।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তি সই করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ওই যুদ্ধে আশপাশের দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে ইরান ও ইয়েমেনের তাদের মিত্র হুথিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা উভয়েই সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে।
এর পাশাপাশি, গত মাসে ভূমধ্যসাগরের একটি মিসরীয় বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায়ও ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে।
এই অবস্থায়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেছেন, তিনি আশা করছেন মিসরও 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে' যোগ দেবে।
তিনি মিসরকে 'সব বিষয়ে স্বাভাবিক অংশীদার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তী ধাপে মিসরও আমাদের এই জোটের অংশ হবে। আমরা ইতোমধ্যে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে কাজ করছি, যেন আমরা জোটের সদস্য।"
ফিদান আরও বলেন, "কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে। সেগুলো সমাধান হয়ে গেলে মিসরের এ জোটে না থাকার কোনও কারণ নেই।"
তিনি এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলেও জানান।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, "আমরা কোনও অভিন্ন হুমকির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করিনি।"
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি অনুযায়ী জোটের কোনও একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো 'সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা'।
সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তি 'এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ'।
একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই জোট আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রেসিডেন্টের ভাবনা অনুযায়ী, আমাদের শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের আরও বড় হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সব দেশকে এই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে।"
সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের আদেশকে বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া।
রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ প্রদান করেছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মাহবুব শফিক, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
এর আগে, গত ১৭ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ, বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে, রুলসহ এ আদেশ প্রদান করেছিল।
গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ৮ মার্চ হাইকোর্ট রুল মঞ্জুর করে চারটি মামলায় তাকে জামিন দেন। তারপর ১১ মার্চ তিনি দুদকের মামলায়ও জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিতের জন্য আবেদন করলেও, আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।
১১ মার্চের পর, যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ ও আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন। তার পর ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা—এই পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।
১২ মে তিনি যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তার বিরুদ্ধে থাকা মোট সাতটি মামলায় সবকটিতে জামিন হওয়ার পর আইনজীবীরা জানান, আপাতত তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ