ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা


ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা

কক্সবাজারের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে কক্সবাজারে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শহরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদের ছুটির মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে এই তীব্র গরমের মধ্যে বাধ্য হয়ে পর্যটকরা কক্সবাজার ছাড়ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লিফটে আটকে আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তারা জানাচ্ছেন, এসি ও ফ্যান ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহনীয় পরিস্থিতিতে কাটাতে হচ্ছে। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান যে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জ্বালানির ব্যয় বেড়ে গিয়ে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দৈনিক ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

সুত্র জানাচ্ছে, ঈদের ছুটিতে দেশের অন্যতম এই পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বেড়ে গেছে। পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল এখন পর্যটকে ভরে উঠেছে, কিন্তু এই আনন্দঘন সময়েই টানা লোডশেডিংয়ের কারণে বড় সংকট দেখা দিয়েছে।

অনেক স্থানে লিফটে আটকে আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। কোথাও আবার এসি ও ফ্যান ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসুস্থতায় কাটাতে হচ্ছে পর্যটকদের।

নারায়ণগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘কক্সবাজারের মতো দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে এমন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট অত্যন্ত হতাশাজনক।’

এসবের মধ্যে তার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও কয়েকজন লিফটে আটকা পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট লিফটের ভেতরে আটকে থাকার কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

মো. ইব্রাহীম আরও বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং ভোগান্তিকর। কক্সবাজারে বিদ্যুতের সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হওয়া প্রয়োজন।’

ঢাকার ফকিরাপুর থেকে আসা পর্যটক রনি জানান, ‘কক্সবাজারে এসে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা বাইরে ঘুরতে বের হলে হোটেলে ফিরতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়েই বিদ্যুৎ থাকে না।’

তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সহ অন্যান্য সেবাও ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এ কারণে পর্যটকদের আরামদায়ক অবস্থান ব্যাহত হচ্ছে এবং ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা পর্যটক ফায়াজ বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, এসি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখতে পারিনি।’

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

ফায়াজ বলেন, ‘গরমে আমাদের অনেক সময় লাইট ও ফ্যান ছাড়াই থাকতে হয়েছে। জেনারেটর চালানো হলেও সেটি ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি চলেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আনন্দ করতে কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক হোটেল-রিসোর্ট জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে খরচ বাড়লেও কোনও স্বস্তি মিলছে না। বুকিং বাতিল এবং আগেভাগে চেকআউটের কারণে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

হোটেল সি ক্রাউনের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর কক্সবাজারে পর্যটনের মৌসুম শুরু হয় এবং এ সময় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। তাই আমরা সবাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার প্রত্যাশা করি।’

আরও পড়ুন: মাগুরায় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি ও এসআইকে কারাগারে পাঠাল আদালত

তিনি আরও বলেন, ‘জেনারেটরের মাধ্যমে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।’

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, ‘ঈদের পরদিন থেকেই প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে হোটেল পরিচালনায় ব্যাপক চাপ পড়ছে।’

তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অতিথিদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।’

কলাতলীর শালিক রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেজান বলেন, ‘লোডশেডিং মানেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া।’

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে।’

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুত্ নির্ভর।’

তিনি জানান, ‘অনেক সময় টানা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। ফলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

মুকিম খান আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে হোটেল ও পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।’

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পর্যটন খাত অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, ঈদুল আজহার দিন ভোরে শহরের কলাতলীস্থ সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী বাবুল মিঞা বলেন, ‘ঈদের দিন ভোরে কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে যায়।’

তিনি জানান, ‘প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও মিলছে ৪০ মেগাওয়াট।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি

বাংলাদেশ সফর করেছে আইসিসির নিয়োগ করা দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও উন্নয়ন পর্যালোচনায় তারা এই সফরটি করেছে।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ এ.এস. মুসাজি, যিনি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার বোর্ড পরিচালক এবং তাভেঙ্গওয়া মুখুহলানি, যিনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রতিনিধি।

সফরকালে তারা বিসিবি-সংশ্লিষ্ট ভিন্ন ভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

আইসিসি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিসিবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করা।

যেকোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, মন্তব্য বা দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর এবং তা আইসিসির অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেও জানিয়েছে আইসিসি।

আগামী ৭ জুন বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তখন দায়িত্ব পালন করছে অ্যাডহক কমিটি, যার নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের গুঞ্জন। বিশেষভাবে তামিম ইকবালের আইসিসি সভায় অনুপস্থিতির কারণে এসব গুঞ্জন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের প্রচারণায় শিল্পকর্ম নষ্টের অভিযোগ, ফিফার বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


বিশ্বকাপের প্রচারণায় শিল্পকর্ম নষ্টের অভিযোগ, ফিফার বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা

মার্কিন শিল্পী রবার্ট ওয়াইল্যান্ড (ওয়াইল্যান্ড) ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রচারণার উদ্দেশ্যে তার বিখ্যাত তিমির দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার অভিযোগে ফিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা দায়ের করেছেন।

ডালাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ভবনের দুই পাশে প্রায় ১৭ হাজার বর্গফুটজুড়ে নির্মিত বিশাল আকারের সাঁতার কাটা তিমির এক দেয়ালচিত্র রয়েছে। এই শিল্পকর্মটির নাম ‘হোয়েলিং ওয়াল ৮২’, যা ওয়াইল্যান্ড ১৯৯৯ সালে সম্পন্ন করেছিলেন এবং এটি প্রায় তিন দশক ধরে শহরের একটি পরিচিত স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল।

সোমবার (১ জুন) ডালাসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ওয়াইল্যান্ড দাবি করেন, বিশ্বকাপ আয়োজক, ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তার অনুমতি ছাড়াই এবং পূর্ব নোটিশ না দিয়েই দেয়ালচিত্রটি রঙ করে ঢেকে দিয়েছে। তার অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ১৯৯০ সালের ‘ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টস রাইটস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে, যা গণসমক্ষে প্রদর্শিত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মকে ধ্বংসের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বকাপের প্রচারণার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো 'তাড়াহুড়ো করে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে' শহরের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস করেছেন।

অন্যদিকে, ফিফার একজন মুখপাত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পুরোনো দেয়ালচিত্রের জায়গায় নতুন একটি শিল্পকর্ম স্থাপন করা হবে, যা বিশ্বকাপকে ঘিরে শহরের বর্তমান ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও বৈশ্বিক উদ্দীপনাকে তুলে ধরবে। তারা আরও জানিয়েছে, ওয়াইল্যান্ডের মূল দেয়ালচিত্রের একটি অংশ সংরক্ষণ করা হবে।

এদিকে, দেয়ালচিত্র অপসারণের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে ২,৬০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তিতর্ক চলাকালীন কাঠগড়ায় স্বামী সোহেলকে মারতে যান স্বপ্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


যুক্তিতর্ক চলাকালীন কাঠগড়ায় স্বামী সোহেলকে মারতে যান স্বপ্না

রাজধানীর পল্লবীর ঘটনা, যেখানে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার জন্য দায়ের করা মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময়, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি সোহেল রানাকে মারার চেষ্টা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর বেলা ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ স্বপ্নাকে আটকে ফেলে।

এ দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ঘটনার স্থান থেকে সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তার ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষীরা দেখেননি। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির আগে সোহেল রানাকে তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তখনো ‘ডলার’ নামে কারো নাম নেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মন্তব্য করেন, আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য কয়েদিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি পেয়ে সোহেল হঠাৎ তৃতীয় ব্যক্তির নাম নিচ্ছে।

তিনি সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে জানান, ময়নাতদন্তে রামিসাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কিন্তু পানি দিয়ে ধোয়ার কারণে ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া যায়নি। তাই ময়নাতদন্তকেই বিচারে প্রাধান্য দিতে হবে।

দুলু বলেন, ‘সাক্ষ্যে সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত সব অভিযোগ কনক্রিটলি প্রমাণিত হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যার উভয় অপরাধে সোহেলকে আটকাতে স্বপ্না কোনো পদক্ষেপ নেননি। এই কারণে তার অপরাধ।’

সরকার নিযুক্ত আসামির পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তিনি আদালতের কাছে তার জবানবন্দির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য প্রার্থনা জানান।

এদিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আগামী রোববার (৭ জুন) এই মামলায় রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিল। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না কৌশলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিজবুল্লাহ হামলা করলে বৈরুতে হামলা হবে: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


হিজবুল্লাহ হামলা করলে বৈরুতে হামলা হবে: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা করে, তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে। তিনি এ মন্তব্যটি তখন করেন যখন ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

কাৎজ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ এবং স্থল অভিযান চালিয়ে যাবে এবং দক্ষিণ লেবাননে 'ইয়েলো লাইন' বরাবর (যেমন বিউফোর্ট এলাকা) অবস্থান অব্যাহত রাখবে। সেখানে লেবাননের বেসামরিক জনগণের ফিরে আসা নিষিদ্ধ থাকবে। তাঁর মতে, স্থলভাগে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাও অব্যাহত থাকবে।

উনি আরও বলেছেন, যদি ইসরাইলি জনপদ ও ভূখণ্ডে গুলি চালানো হয়, তবে আমেরিকার সমর্থনসহ বৈরুতে আঘাত হানার ব্যাপারে ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে উভয় দেশ তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি চুক্তি'তে পৌঁছেছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়া হিজবুল্লাহর হামলা সমাপ্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।

বিবৃতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২২ জুনের পর দুই পক্ষ আবারও পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। লেবানন জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের প্রতি কোনো বৈরী উদ্দেশ্য রাখে না এবং হিজবুল্লাহকে 'লেবানন রাষ্ট্রের শত্রু' বলে মনে করে।

এছাড়া, দুই দেশ কিছু 'পাইলট জোন' প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই এলাকাগুলি লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না।

হিজবুল্লাহ আগেও জানিয়েছে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা মতামত প্রকাশ করছেন, খুব সম্ভবত ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইল-লেবানন সমঝোতার দিনও সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%