০৩:০৫ পি.এম
রাজধানীর পল্লবীর ঘটনা, যেখানে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার জন্য দায়ের করা মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময়, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি সোহেল রানাকে মারার চেষ্টা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর বেলা ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ স্বপ্নাকে আটকে ফেলে।
এ দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ঘটনার স্থান থেকে সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তার ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষীরা দেখেননি। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির আগে সোহেল রানাকে তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তখনো ‘ডলার’ নামে কারো নাম নেননি।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মন্তব্য করেন, আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য কয়েদিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি পেয়ে সোহেল হঠাৎ তৃতীয় ব্যক্তির নাম নিচ্ছে।
তিনি সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে জানান, ময়নাতদন্তে রামিসাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কিন্তু পানি দিয়ে ধোয়ার কারণে ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া যায়নি। তাই ময়নাতদন্তকেই বিচারে প্রাধান্য দিতে হবে।
দুলু বলেন, ‘সাক্ষ্যে সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত সব অভিযোগ কনক্রিটলি প্রমাণিত হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যার উভয় অপরাধে সোহেলকে আটকাতে স্বপ্না কোনো পদক্ষেপ নেননি। এই কারণে তার অপরাধ।’
সরকার নিযুক্ত আসামির পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তিনি আদালতের কাছে তার জবানবন্দির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য প্রার্থনা জানান।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এদিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আগামী রোববার (৭ জুন) এই মামলায় রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিল। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না কৌশলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন