মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা উপজেলা, খাগড়াছড়ি,
বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৩৪ এম
সারা দেশের সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালাতেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৪৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ১ হাজার ২৪৫ জন, কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজের ১৭৩ জন এবং বাবুছড়া কলেজের ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে থাকেন। প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে তারা নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন অভিভাবকরা। পুরো এলাকায় ছিল শান্ত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, অনুকূল পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তির সঙ্গে প্রথম দিনের পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। অভিভাবকরাও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়িয়া নিয়াপাড়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য তফিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল বারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহভাবে মাদকের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন, কিন্তু তাদের কারণে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক মানুষের জ্ঞান-বিবেক ও কর্মক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই সকলকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন, হোসেনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজ আলী মাস্টার এবং সাংবাদিক মো. আকতারুল ইসলাম আক্তার।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করা এবং মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বন্যা ও সম্পর্কিত দুর্যোগে ৫৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সর্বশেষ বন্যায় আলাদাভাবে কতজন মারা গেছেন, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।
এর আগে সোমবার ঘানা এবং আইভরি কোস্টের রাজধানীতে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং আরো অনেক লোক নিখোঁজ থাকেন। ঘানার রাজধানী আক্রায় বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। বহু ভবন ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে শহরের একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পাশের শহর তেমাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আইভরি কোস্টে টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানী আবিজানসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী বেলমন্দে দোগো জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই রাজধানীর আটেকুবে ও ইয়োপুগো এলাকার বাসিন্দা। সরকারি মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় এই ধরনের প্রাণঘাতী বন্যা নিয়মিতভাবে ঘটে। যদিও বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে মহাদেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে কম, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে আফ্রিকা অন্যতম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশের প্রবাসীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের উন্নতি ঘটেছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৭০ জন বাংলাদেশী প্রবাসীর জন্য জরিমানা ছাড়া এক্সিট ভিসার প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি কর্তৃক।
এর আগে প্রথম ধাপে ১৩০ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে, বিশেষ এই সুবিধার আওতায় মোট দুই ধাপে ৩০০ জন বাংলাদেশী প্রবাসী কোনও রকম জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার আইনি সুযোগ পেয়েছেন।
অনুমোদনপ্রাপ্তদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুত একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে। এই ব্রিফিংয়ে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) এবং দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এক্সিট ভিসা সংগ্রহের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সার্ভিস চার্জ পরিশোধ, ভ্রমণ প্রস্তুতি এবং প্রত্যাবাসনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
দূতাবাসের তথ্য অনুসারে, গত ১০ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ এই কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ৬০০-এরও বেশি অনিয়মিত বাংলাদেশী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আবেদন গ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ধাপে ধাপে অন্যান্য আবেদন লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বর্তমানে লেবাননে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধের ফলে অনেকেই কর্মহীন, বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সংকটে রয়েছেন। তাই জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগকে তারা একটি স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্তদের এক্সিট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে তাদের দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার হাটবাজারে চাঁইয়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে এবং এ অবস্থায় খাল, বিল ও ধানখেতে পানি বেড়েছে। ফলে, চিংড়ি ও দেশিও ছোট মাছ ধরার জন্য চাঁইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণবন্দর সড়কের পার্শ্বে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের বুধবার একদিন চাঁইয়ের হাট বসে। এই হাটে সাধারণত এক থেকে দুই হাজার চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে।
বুধবার (১ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে কম্পিত চাঁই সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। হাটে চাঁই কিনতে অনেক আশপাশের কৃষক ও জেলেরা এসেছেন। সকাল থেকে বেলা একটার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।
এসময়, কথা হয় উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের কৃষক সত্তার হালদারের (৫৫) সঙ্গে। তিনি চাঁই কেনার উদ্দেশ্যে হাঁটে এসেছেন। তাঁর মন্তব্য ছিল, "জমিতে পানি উঠছে। এ সময় বিলে প্রচুর চিংড়ি ও মাছের আনাগোনা বাড়ে। তাই মাছ ধরার জন্য চাঁই কিনতে এসেছি।"
স্থানীয় চাঁই ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন হাটে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁইয়ের হাটে বেচাকেনা বাড়িয়ে। এ সময়ে হাটগুলোতে প্রচুর চাঁই ওঠে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁই কিনে হাটে বিক্রি করেন। অনেকে নিজের তৈরি চাঁইও হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। এইচ, বাঁশ, নাইলন বা প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয় এবং প্রতি জোড়া চাঁইয়ের দাম ৩২০-৩৫০ টাকা।
চাঁই ব্যবসায়ী রহমান হোসেন (৪৫) জানান, বর্ষা মৌসুমে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ তিন মাস চাঁইয়ের হাট জমজমাট থাকে। আষাঢ়ের শুরুতে চাঁই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। এ সময়ে প্রতি হাটে দুই থেকে তিন হাজার চাঁই বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের হাটগুলোয় চাঁইয়ের ক্রেতারা মূলত কৃষক, জেলে ও গৃহস্থ পরিবার।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এই অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ পাওয়া যায়। ফলে, স্থানীয় কৃষকরা চাঁইয়ের ক্রেতা হয়ে ওঠেন। বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা বেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ