প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার হাটবাজারে চাঁইয়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে এবং এ অবস্থায় খাল, বিল ও ধানখেতে পানি বেড়েছে। ফলে, চিংড়ি ও দেশিও ছোট মাছ ধরার জন্য চাঁইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণবন্দর সড়কের পার্শ্বে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের বুধবার একদিন চাঁইয়ের হাট বসে। এই হাটে সাধারণত এক থেকে দুই হাজার চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে।
বুধবার (১ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে কম্পিত চাঁই সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। হাটে চাঁই কিনতে অনেক আশপাশের কৃষক ও জেলেরা এসেছেন। সকাল থেকে বেলা একটার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।
এসময়, কথা হয় উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের কৃষক সত্তার হালদারের (৫৫) সঙ্গে। তিনি চাঁই কেনার উদ্দেশ্যে হাঁটে এসেছেন। তাঁর মন্তব্য ছিল, "জমিতে পানি উঠছে। এ সময় বিলে প্রচুর চিংড়ি ও মাছের আনাগোনা বাড়ে। তাই মাছ ধরার জন্য চাঁই কিনতে এসেছি।"
স্থানীয় চাঁই ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন হাটে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁইয়ের হাটে বেচাকেনা বাড়িয়ে। এ সময়ে হাটগুলোতে প্রচুর চাঁই ওঠে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁই কিনে হাটে বিক্রি করেন। অনেকে নিজের তৈরি চাঁইও হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। এইচ, বাঁশ, নাইলন বা প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয় এবং প্রতি জোড়া চাঁইয়ের দাম ৩২০-৩৫০ টাকা।
চাঁই ব্যবসায়ী রহমান হোসেন (৪৫) জানান, বর্ষা মৌসুমে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ তিন মাস চাঁইয়ের হাট জমজমাট থাকে। আষাঢ়ের শুরুতে চাঁই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। এ সময়ে প্রতি হাটে দুই থেকে তিন হাজার চাঁই বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের হাটগুলোয় চাঁইয়ের ক্রেতারা মূলত কৃষক, জেলে ও গৃহস্থ পরিবার।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এই অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ পাওয়া যায়। ফলে, স্থানীয় কৃষকরা চাঁইয়ের ক্রেতা হয়ে ওঠেন। বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা বেড়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন