০৬:৫২ পি.এম
ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার দায়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলাটি দায়ের করেছে। ১৫ জুন পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে।
এই মামলায় নাম উল্লেখ করে তিন চালকসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার গভীর রাতে, অভিযোগ আছে যে, ইটভাটায় মাটি নেওয়ার সময় পুলিশ তিন ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করেছে। ওই সময় পুলিশ পাঁচটি ড্রাম্প ট্রাকও জব্দ করেছে।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাকচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. হৃদয় ও আবু রায়হান। এছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন মহিশাষী গ্রামের রাতুল, শোলধন গ্রামের জুয়েল, মধুডাঙ্গা গ্রামের রাফি মোহাম্মদ সজিব ও সুরুজ আহমেদ।
স্থানীয়দের মতে, ধামরাইয়ে ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি অব্যাহত রয়েছে। প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট এবং ইটভাটার মালিকদের কারণে এই সমস্যাটি ক্রমেই দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং জরিমানা সত্ত্বেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে এই অবস্থা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষি জমির পরিমাণ কমছে এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে।
এই কারণে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমির মালিকরা সাময়িক লাভের আশায় মাটি বিক্রি করে দেন। এই মাটি বিক্রি আশপাশের কৃষি জমি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কৃষি জমির এই মধ্যবর্তীকালে ধ্বংস যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ কৃষকরা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়েন। উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভেকু জব্দ করছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
কিন্তু জরিমানা আদায়ের পরে আবারও চক্রগুলো মাটি কাটা শুরু করে। ফলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন জানিয়েছেন, ফসলি জমির মাটিকাটা বন্ধে প্রতিরাতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ভেকু ও ট্রাক জব্দ করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু এরপরও মাটির কাটার কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ায় ধামরাই এখন জলাশয়ে পরিণত হয়ে গেছে। শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার মতো জমি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমপি বলেছেন, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন